📌 সিরাজগঞ্জের কৃষিজমিতে অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারে মাটির উর্বরতা হুমকিতে পড়েছে। কৃষকরা দাবি করছেন, অতিরিক্ত ব্যবহারে উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তারা জৈব সার ব্যবহার ও সঠিক পরিমাণে রাসায়নিক সার প্রয়োগের পরামর্শ দিচ্ছেন
সিরাজগঞ্জ জেলার কৃষিজমিতে অতিমাত্রায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার মাটির উর্বরতা হুমকিতে ফেলেছে। কৃষি প্রধান এই জেলায় ধান, সরিষা, ভুট্টা ও পাটসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষকরা অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার করছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও কৃষিজমির ক্ষতি করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 সিরাজগঞ্জের কৃষকরা অতিমাত্রায় সার ও কীটনাশক ব্যবহার করছেন, যা মাটির উর্বরতা হ্রাস করছে
- 📌 কৃষকদের অভিযোগ, একাধিকবার কীটনাশক প্রয়োগ করেও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়
- 📌 জৈব সার ব্যবহারের ঘাটতি ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি উঠেছে
- 📌 কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ দিচ্ছেন, শতকরা ৫ ভাগ জৈব সার ব্যবহার করতে হবে
- 📌 খামারী এপসের মাধ্যমে কৃষকরা সঠিক সার পরিমাণ জানতে পারছেন
📰 বিস্তারিত
সিরাজগঞ্জ জেলা কৃষি প্রধান। এখানে উৎপাদিত হয় ধান, সরিষা, ভুট্টা ও পাটসহ বিভিন্ন ফসল। কিন্তু অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার মাটির স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত করছে। কৃষকদের অভিযোগ, আগের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে কীটনাশক প্রয়োগ করেও পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
উল্লাপাড়া উপজেলার সলপ এলাকার কৃষক আলহাজ মোঃ হাবিউজ্জামান বলেন, “জমিতে একাধিকবার কীটনাশক ব্যবহার করলেও ফল পাওয়া যায় না। গত বছর বিঘা প্রতি দুই মণ সার দিয়েছিলাম, এবারও একই পরিমাণ দিলেও আশানুরূপ ফলন হবে বলে মনে হয় না।” সদর চন্দ্রকোনা গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, “আগে একবার কীটনাশক দিলেই কাজ হতো, এখন একাধিকবার দিলেও তেমন ফল পাওয়া যায় না। মাজরা ও ফুতি পোকার আক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন কীটনাশক প্রয়োগ করলেও ফল পাওয়া যায় না। ফলে খরচ বাড়ছে এবং জমিতে আগের মতো উপকারী প্রাণীও দেখা যায় না।”
শাহজাদপুর উপজেলার পারকোলা গ্রামের কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, “প্রতি বছর জমিতে সারের পরিমাণ বাড়াতে হয়। আবার কীটনাশক না দিলেও উপায় নেই। বর্তমানে ফসলে বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দিচ্ছে। কীটনাশক না দিলে ফসল ঘরে তুলতে পারব কি না, তা নিয়ে চিন্তায় থাকতে হয়।”
শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “জমিতে সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে হবে। এছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণ জৈব সার দিতে হবে। কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহার মাটির স্বাস্থ্য ও পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নিরাপদ ও সঠিক নিয়মে বালাইনাশক ব্যবহার করা জরুরি। কৃষকদের উঠান বৈঠকের মাধ্যমে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
"জমিতে শতকরা ৫ ভাগ জৈব সার থাকতে হবে। সামর্থ থাকলে ভার্মি কম্পোস্ট দিতে হবে। রাসায়নিক ও জৈব সার সমন্বয় করে দিতে হবে। অনুমোদিত মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে হবে। তাহলে মাটির উর্বরতা ঠিক থাকবে।"
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা এস এম নাসিম হোসেন বলেন, “কৃষকদের মধ্যে সুষম সার ব্যবহারের মাধ্যমে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত সারের প্রয়োগ কমানোর জন্য মাঠে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। খামারী এপসের মাধ্যমে কৃষকরা জমিতে ফসল অনুযায়ী সঠিক পরিমাণ রাসায়নিক ও জৈব সার ব্যবহার করতে পারছেন। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিরাজগঞ্জ জেলা (উল্লাপাড়া, চন্দ্রকোনা, শাহজাদপুর উপজেলা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আলহাজ মোঃ হাবিউজ্জামান, রফিকুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল মামুন, এস এম নাসিম হোসেন, একেএম মঞ্জুরে মওলা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: শতকরা ৫ ভাগ জৈব সার
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!