📌 যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের উপদেষ্টা রায়ান হিগিন্সের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্ণবাদী, সমকামিতাবিরোধী ও ধর্মীয় উসকানিমূলক মন্তব্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। সিএনএনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তিনি ধর্ম ও রাষ্ট্রের পৃথক্করণের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং পেন্টাগনে খ্রিষ্টীয় জাতীয়তাবাদী নীতির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ধর্মবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা রায়ান হিগিন্সের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্ণবাদী, সমকামিতাবিরোধী ও ধর্মীয় উসকানিমূলক মন্তব্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হিগিন্স বিগত এক দশকে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্লগে বিভিন্ন সময় ইসলামধর্ম, অভিবাসী, সমকামী জনগোষ্ঠী এবং নারী বিষয়ে কট্টর ও বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রায়ান হিগিন্স মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে পেন্টাগনে খ্রিষ্টীয় জাতীয়তাবাদী নীতির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন
- 📌 সিএনএনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, হিগিন্স যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে ধর্ম ও রাষ্ট্রের পৃথক্করণের অস্তিত্ব নেই বলে দাবি করেছেন
- 📌 হিগিন্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে: ইসলাম ও অভিবাসী বিরোধী মন্তব্য, সমকামী অধিকার আন্দোলন ও গর্ভপাত বিরোধী অবস্থান, রাজনৈতিক বিরোধীদের বর্ণবাদী আক্রমণ, কোভিড-১৯ ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার
- 📌 পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল হিগিন্সকে প্রতিরক্ষা দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন, কিন্তু সিএনএনের অভিযোগের সরাসরি মন্তব্য করেননি
📰 বিস্তারিত
সিএনএনের অনুসন্ধান অনুযায়ী, রায়ান হিগিন্স সাবেক মার্কিন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামাকে বর্ণবাদী কায়দায় ব্যঙ্গ করা একটি ভিডিওর পক্ষে সাফাই গান দিয়েছেন। তিনি সমকামী বিয়েকে ‘জঘন্য’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং মুসলিম ও অভিবাসীদের বিরুদ্ধে একাধিক চরমপন্থী মন্তব্য করেছেন। বিশেষত ইউরোপে অভিবাসীদের অপরাধ সংক্রান্ত খবর শেয়ার করে তিনি তাঁদের ‘বর্বর’ বলে মন্তব্য করেছেন।
হিগিন্সের বিরুদ্ধে আরো একটি প্রধান অভিযোগ রয়েছে: তিনি এলজিবিটিকিউ অধিকার আন্দোলনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কট্টর মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে তিনি গর্ভপাতকে ‘শয়তানের উপাসনা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন এবং গর্ভপাতকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। রাজনৈতিক বিরোধীদের আক্রমণে তিনি বারাক ওবামা, জো বাইডেন, কমলা হ্যারিস ও ন্যান্সি পেলোসির মতো ডেমোক্রেটিক দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে ব্যক্তিগত ও বর্ণবাদী মন্তব্য করেছেন।
২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারচুপির দাবি এবং কোভিড-১৯ মহামারির (১৯) ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচারে হিগিন্স সক্রিয় ছিলেন। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনার পরও তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
পেন্টাগনের ভেতর প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের তথাকথিত ‘সাংস্কৃতিক যুদ্ধ’ এবং সেনাবাহিনীতে খ্রিষ্টান ধর্মীয় নীতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে আগে থেকেই মার্কিন রাজনীতিতে সমালোচনা চলছিল। হিগিন্সের এসব উসকানিমূলক ও কট্টর মন্তব্যের তথ্য সামনে আসার পর পেন্টাগনের নীতিগত অবস্থান ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।
"তিনি আমাদের সেনাদের আত্মিক স্বাস্থ্য এবং ধর্মবিষয়ক দপ্তর প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক কাজের ওপর পুরোপুরি মনোযোগ দিচ্ছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রায়ান হিগিন্স, পিট হেগসেথ, শন পার্নেল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬ জানুয়ারি (ক্যাপিটল হিল সহিংসতা), ১৯ (কোভিড-১৯ ষড়যন্ত্র তত্ত্ব)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!