📌 স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের তিন ধাপে পরিকল্পনা করেছে। চলতি অর্থবছরে প্রথম ধাপে ৪৫ হাজার ৭০০ জন কর্মী নিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ে তীব্র কর্মীসংকটের কারণে দ্রুত পদমর্যাদা ও পদোন্নতি নির্ধারণের কাজ চলছে
স্বাস্থ্য সেবা ব্যবস্থায় তীব্র জনবল সংকট মোকাবেলা করতে সরকার ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের তিন ধাপে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই বিশাল নিয়োগ কার্যক্রমের প্রথম ধাপে চলতি অর্থবছরেই ৪৫ হাজার ৭০০ জন কর্মী নিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, মাঠপর্যায়ে বিরাজমান কর্মী সংকট দূর করতে সরকার সক্রিয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **৩ ধাপে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ**: সরকারি স্বাস্থ্য সেবা ও মাঠপর্যায়ে কর্মী সংকট দূর করতে ১ লাখ কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা।
- 📌 **চলতি অর্থবছরে ৪৫ হাজার ৭০০ জন নিয়োগ**: প্রথম ধাপে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৫ হাজার ৭০০ জন কর্মী নিয়োগের লক্ষ্য।
- 📌 **৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ**: বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
- 📌 **১৩-১৬তম গ্রেডের পদে দ্রুত ভরতি**: স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানগুলিতে ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডের শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগের নির্দেশ।
- 📌 **৬৫ হাজার ২৩০টি পদে শূন্য ১৮ হাজার ৯৪৭টি**: মাঠপর্যায়ে অনুমোদিত ৬৫ হাজার ২৩০টি পদের মধ্যে ১৮ হাজার ৯৪৭টি পদই খালি রয়েছে।
- 📌 **৬ হাজার ৯৫৩টি স্বাস্থ্য সহকারী পদ খালি**: অতিগুরুত্বপূর্ণ ‘স্বাস্থ্য সহকারী’ পদের ৬ হাজার ৯৫৩টি পদ এবং পরিবারকল্যাণ সহকারীর ৮ হাজার ২৯৩টি পদ খালি রয়েছে।
- 📌 **৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ**: নিয়োগের জন্য সরকার রেকর্ড ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।
- 📌 **৮০% পদে নারী কর্মীদের অগ্রাধিকার**: নিয়োগের ৮০ শতাংশ পদে নারী কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয় নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে। এই বিশাল নিয়োগ কার্যক্রম মোট তিনটি ধাপে সম্পন্ন করা হবে। প্রথম ধাপে চলতি অর্থবছরেই ৪৫ হাজার ৭০০ জন কর্মী নিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও, মাঠপর্যায়ে সেবা ত্বরান্বিত করতে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে পাঁচ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের পদমর্যাদা, গ্রেডেশন এবং কর্মপরিধি নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। সরকার স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ কর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে, যার মধ্যে চলতি অর্থবছরে ৪৫ হাজার ৭০০ জন নিয়োগ পাবেন।
মাঠপর্যায়ে তীব্র কর্মীসংকটের কারণে জেলা-উপজেলা পর্যায়ে দৈনিক স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বিশাল নিয়োগে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ বলেছেন, কেবল তিন মাসের প্রশিক্ষণ দিয়ে কর্মী নিয়োগ না করে বেকার থাকা প্রায় ৪০ হাজার নার্স, ৮ হাজার মিডওয়াইফ ও ডিপ্লোমাধারী হেলথ টেকনোলজিস্টদের প্রাধান্য দেওয়া যুক্তিসংগত হবে। এতে সেবার মান বাড়ার পাশাপাশি সরকারের ব্যয়ও সাশ্রয় হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, ২০১৮ সালের নন-মেডিক্যাল কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা অনুসরণ করে এসব পদে দ্রুত জনবল নেওয়া হবে। যেসব প্রতিষ্ঠানে আগে বিজ্ঞপ্তি দিয়েও মামলা বা প্রশাসনিক জটিলতায় নিয়োগ শেষ করা যায়নি, সেসব পদের ছাড়পত্র নিয়ে আবার সমন্বিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
"কোনো জটিলতা থাকলে তা দ্রুত নিষ্পত্তির তাগিদ দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে তীব্র সংকট ও অতীত অভিজ্ঞতা বর্তমানে দেশে অনুমোদিত ৬৫ হাজার ২৩০টি মাঠপর্যায়ের পদের বিপরীতে ১৮ হাজার ৯৪৭টি পদই শূন্য।"
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এই বৃহৎ নিয়োগপ্রক্রিয়ার সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের একাধিক বিভাগ ও অধিদপ্তর যুক্ত। প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজের গতি বাড়াতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ৪৫ হাজার ৭০০ জন কর্মী নিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করে প্রাথমিক কাজ এগোচ্ছে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয়)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী, ড. সৈয়দ আবদুল হামিদ, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১ লাখ (কর্মী), ৪৫ হাজার ৭০০ (চলতি অর্থবছরে), ৫ হাজার (চিকিৎসক), ৬৫ হাজার ২৩০ (মোট অনুমোদিত পদ), ১৮ হাজার ৯৪৭ (শূন্য পদ), ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা (বরাদ্দ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!