📌 বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারজনিত রোগে বছরে প্রায় দুই লাখ মানুষ মারা যাচ্ছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শক্তিশালী আইন ও এর বাস্তবায়ন ছাড়া এসডিজি অর্জন কঠিন। বৈঠকে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশোধনকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানানো হলেও, ই-সিগারেট ও ভেপিংসহ নতুন পণ্যগুলিকে আইনের আওতা থেকে বাদ দেওয়ার উদ্বেগ তুলে ধরা হয়
বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগের প্রধান কারণ তামাক ও নিকোটিন পণ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঝুঁকি মোকাবেলা না করলে এসডিজি অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ, এনসিডি ও এসডিজি: বাংলাদেশের অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এই বিষয়টি আলোচিত হয়। বৈঠকে জানানো হয়, তামাক ব্যবহারজনিত রোগে দেশে বছরে প্রায় দুই লাখ মানুষ মারা যান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর ৭১ শতাংশ ঘটে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক ও ক্যানসারসহ রোগে — তামাক এর প্রধান কারণ
- 📌 তামাক নিয়ন্ত্রণ ছাড়া এসডিজি অর্জন কঠিন বলে বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
- 📌 সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করেছে, কিন্তু ই-সিগারেট ও ভেপিংসহ নতুন পণ্যগুলিকে আইনের আওতা থেকে বাদ দেওয়া উদ্বেগজনক
- 📌 বিশ্বের অনেক দেশ এসব পণ্য নিষিদ্ধ করেছে — বাংলাদেশেও দ্রুত আইনি পদক্ষেপের আহ্বান
- 📌 রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন ছাড়া তামাক নিয়ন্ত্রণে এসডিজি অর্জন সম্ভব নয়
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ ঘটে হৃদ্রোগ, স্ট্রোক, ক্যানসারসহ অসংক্রামক রোগে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রোগের অন্যতম প্রধান ঝুঁকি তামাক ও নিকোটিন পণ্যের ব্যবহার। তাই শক্তিশালী আইন ও এর কঠোর বাস্তবায়ন ছাড়া অসংক্রামক রোগে অকালমৃত্যু এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন কঠিন বলে জানিয়েছেন তারা।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান) ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স (আত্মা) আয়োজিত বৈঠকে এই বিষয়টি আলোচিত হয়। বৈঠকে জানানো হয়, তামাক ব্যবহারজনিত রোগে দেশে বছরে প্রায় দুই লাখ মানুষ মারা যান। তামাক শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে না, দারিদ্র্য নির্মূল, খাদ্যনিরাপত্তা, মানসম্মত শিক্ষা, লিঙ্গসমতা, পরিবেশ, জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণসহ এসডিজির বিভিন্ন লক্ষ্য অর্জনেও বাধা তৈরি করছে।
বক্তারা বলেন, সরকার সম্প্রতি তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করেছে, যা ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে ই-সিগারেট, ভেপিংসহ নতুন ধরনের তামাক ও নিকোটিন পণ্যকে আইনের আওতার বাইরে রাখা উদ্বেগজনক। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এসব পণ্যের ক্ষেত্রেও কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিশ্বের অনেক দেশ স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় এসব পণ্য নিষিদ্ধ করেছে। বৈঠকে দ্রুত সংশোধিত আইনের প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন এবং তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ থেকে আইন ও নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়া সুরক্ষার আহ্বান জানানো হয়।
"তামাক নিয়ন্ত্রণ শুধু স্বাস্থ্য খাতের বিষয় নয়; এটি দেশের উন্নয়ন, অর্থনীতি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা গেলে তামাক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এসডিজি অর্জনের পথ সহজ হবে।"
— জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ
বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক বলেন, ক্যানসারে আক্রান্ত মানুষের কষ্ট তামাকের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। চ্যানেল ২৪-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম বলেন, জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমদ বলেন, এসডিজি ও অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধের সঙ্গে তামাক নিয়ন্ত্রণকে সম্পৃক্ত করে গণমাধ্যমে আরও বেশি প্রতিবেদন প্রকাশ করা প্রয়োজন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিরডাপ মিলনায়তন, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জাতীয় অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক, জহিরুল আলম, রিয়াজ আহমদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ লাখ (বছরে তামাকজনিত মৃত্যু), ৭১ শতাংশ (মোট মৃত্যুর শতাংশ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!