📌 প্রথম আলো সম্পাদকীয় — নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস: ১২-১৪ বছর, ১.৭ লাখ খেলোয়াড়, ৫০ হাজার মেয়ে, ৮ ডিসিপ্লিন (ফুটবল-ক্রিকেট-কাবাডি-অ্যাথলেটিকস-ব্যাডমিন্টন-দাবা-সাঁতার-মার্শাল আর্ট)। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আর্মি স্টেডিয়ামে পুরস্কার বিতরণী। খেলার মাঠ তৈরি করাই প্রথম প্রয়োজন।
"প্রতিযোগিতাই যেন শেষ কথা না হয়" — প্রথম আলোর সম্পাদকীয়ে বলা হয়েছে, আমাদের শিশু-কিশোরেরা পড়াশোনায় আগ্রহ হারাচ্ছে ও ডিজিটাল স্ক্রিনে আসক্ত হয়ে পড়ছে, শিশু-কিশোরদের একটি অংশ কিশোর গ্যাংয়ে জড়িয়ে নানা অপরাধে যুক্ত হচ্ছে — সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ রকম নেতিবাচক খবর সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়ে আসছে। এ রকম প্রেক্ষাপটে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মতো উদ্যোগ অনেক বড় আশাবাদের জায়গা তৈরি করে — যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে তৃণমূল পর্যায়ের ১২-১৪ বছর বয়সীদের নিয়ে গত ২ মে শুরু হয় এই প্রতিযোগিতা এবং দেশের সব উপজেলার ১ লাখ ৭০ হাজার খুদে খেলোয়াড় অংশ নেয়।
🔴 মূল পয়েন্ত
- নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস: যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে — ১২-১৪ বছর বয়সীদের নিয়ে ২ মে শুরু; ১ লাখ ৭০ হাজার খুদে খেলোয়াড় অংশ।
- ডিসিপ্লিন: ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার, মার্শাল আর্ট — ৮টি; প্রায় ৫০ হাজার মেয়ে প্রতিযোগী অংশ।
- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: সোমবার বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে — "আজকের শিশুরা যদি নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারে, তবেই ভবিষ্যতের সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।"
- সম্পাদকীয়র মত: প্রতিযোগিতার চেয়ে অনেক বেশি উৎসবের রূপ পেয়েছিল; সবার আগে প্রয়োজন শিশু-কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ তৈরি করা।
- প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট: আগেও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ও আগ্রহ দেখা গেছে — রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা হলে শিশুদের খেলাধুলায় আগ্রহী করা সম্ভব।
- বর্তমান সরকারের আমলে প্রথম আয়োজন — সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আগামীবার আরও সুসংগঠিতভাবে আয়োজনের আশা।
সম্পাদকীয়ে বলা হয়েছে, এর সবই অনেক বড় উদ্বেগের বিষয় হলেও এ থেকে উত্তরণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি — বরং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে অনেক কথা বলা হলেও শিশুদের সুন্দর আগামীর জন্য সহায়ক হতে পারে এমন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ দেখা যায়নি; আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত না করে শিশুদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রাণহীন বইয়ের বোঝা, খেলাধুলার মাঠ কেড়ে নিয়ে তাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে মোবাইল, ট্যাব, ল্যাপটপ। এ রকম প্রেক্ষাপটে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মতো উদ্যোগ অনেক বড় আশাবাদের জায়গা তৈরি করে — দেশের সব উপজেলার ১ লাখ ৭০ হাজার খুদে খেলোয়াড় প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় এবং ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, দাবা, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট — এই আটটি ডিসিপ্লিনে ছেলেদের পাশাপাশি প্রায় ৫০ হাজার মেয়ে প্রতিযোগীও অংশ নেয়। বাংলাদেশের মতো রক্ষণশীল সমাজে জাতীয় পর্যায়ের একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় এত বিপুলসংখ্যক মেয়ের অংশগ্রহণ বড় অর্জন বলেই সম্পাদকীয়তে মনে করা হয়েছে।
সরকার বলছে, দেশজুড়ে ক্রীড়া প্রতিভার বিকাশ এবং খেলাধুলাকে অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে গড়ে তুলতে নতুন কুঁড়ির এই আয়োজন — তবে সম্পাদকীয়র মতে, শিশু-কিশোরদের মধ্যে আগ্রহ ও উদ্দীপনা তৈরি হওয়ায় এটি প্রতিযোগিতার চেয়ে অনেক বেশি উৎসবের রূপ পেয়েছিল। গত সোমবার বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, "আজকের শিশুরা যদি নিজেদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে পারে, তবেই ভবিষ্যতের একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।" সম্পাদকীয় আশা করে, এবারের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে আগামীবার আরও সুসংগঠিতভাবে এটি আয়োজন করা হবে — কারণ এ ধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজন করাটাই শেষ কথা নয়, সবার আগে প্রয়োজন শিশু-কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ তৈরি করা।
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!