📌 ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা. কাকলী হালদার জানিয়েছেন — দীর্ঘদিনের তীব্র উকুন সংক্রমণে শিশু ও পুষ্টিহীনদের রক্তশূন্যতা হতে পারে। চিকিৎসায় পারমেথ্রিন শ্যাম্পু ও সরু চিরুনি।
উকুন মাথার ত্বকে বাস করা একধরনের অতি ক্ষুদ্র পরজীবী, যা মাথার রক্ত চুষে খেয়ে বেঁচে থাকে। সাধারণত উকুনের কামড়ে চুলকানি ও ত্বকে বিরক্তি তৈরি হওয়া ছাড়া এটিকে সরাসরি কোনো বড় 'রোগ' হিসেবে ধরা হয় না। তবে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মাত্রায় সংক্রমণ থাকলে — বিশেষ করে ছোট শিশু ও পুষ্টিহীনতায় ভোগা ব্যক্তিদের — রক্তশূন্যতা (অ্যানিমিয়া) পর্যন্ত দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কাকলী হালদার।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 উকুন মাথার ত্বকের অতি ক্ষুদ্র পরজীবী — রক্ত চুষে খেয়ে বাঁচে।
- 📌 সাধারণ উকুনে রক্তশূন্যতা হয় না, তবে দীর্ঘদিনের তীব্র সংক্রমণে শিশু ও পুষ্টিহীনদের অ্যানিমিয়া হতে পারে।
- 📌 জটিলতা: তীব্র চুলকানি ও অ্যালার্জি, সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন, ঘুমের ব্যাঘাত।
- 📌 ভেক্টর: পোশাক/শরীরের উকুন ট্রেঞ্চ ফিভার, রিল্যাপসিং ফিভার ও টাইফাস ছড়াতে পারে।
- 📌 চিকিৎসা: পারমেথ্রিন বা উকুননাশক শ্যাম্পু/লোশন + সরু চিরুনি।
- 📌 প্রতিরোধ: ব্যক্তিগত জিনিস আলাদা, গরম পানিতে ধোয়া, পরিবারে সচেতনতা, শিশুদের স্কুলে মাথা ঠেকানো থেকে বিরত রাখা।
📰 বিস্তারিত
উকুন সরাসরি কোনো বড় রোগ না হলেও কিছু জটিলতা তৈরি করে। উকুনের কামড় ও লালার কারণে মাথার ত্বকে অ্যালার্জি ও চুলকানি হয়। অতিরিক্ত চুলকানোর ফলে মাথার ত্বক ছিলে যেতে পারে; সেখানে ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ ঘটে ঘা বা ফোঁড়া তৈরি হতে পারে — এটি সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন। এছাড়া রাতে চুলকানি বেড়ে যায়, যা মানসিক ক্লান্তি ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়।
উকুনের কারণে রক্তশূন্যতা হতে পারে কি — প্রশ্নের উত্তরে ডা. কাকলী হালদার বলেছেন, হ্যাঁ, হতে পারে। যদিও সাধারণ বা অল্প উকুনে এটি হয় না, তবে যদি দীর্ঘদিন ধরে মাথায় তীব্র মাত্রায় উকুনের সংক্রমণ থাকে, তবে প্রতিনিয়ত রক্ত চোষার ফলে বিশেষ করে ছোট শিশু ও পুষ্টিহীনতায় ভোগা ব্যক্তিদের অ্যানিমিয়া বা রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে। সাধারণ মাথার উকুন সচরাচর বড় কোনো মহামারির ভেক্টর বা বাহক হিসেবে কাজ করে না। তবে পোশাক বা শরীরের উকুন ট্রেঞ্চ ফিভার, রিল্যাপসিং ফিভার ও মারাত্মক টাইফাস রোগের জীবাণু ছড়াতে পারে।
💊 চিকিৎসা
উকুনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া খুব কঠিন কিছু নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী 'পারমেথ্রিন' বা উপযুক্ত উকুননাশক শ্যাম্পু ও লোশন সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার করতে হবে। চুল ভেজা থাকা অবস্থায় সরু চিরুনি (ঘন চিরুনি) দিয়ে ভালো করে আঁচড়ে উকুন ও ডিম টেনে বের করে আনতে হবে। এ ছাড়া পরিবারের একজনের উকুন হলে সবার চুল পরীক্ষা করা ও প্রয়োজনে একসঙ্গে চিকিৎসা নেওয়া উচিত।
🛡️ প্রতিরোধ
উকুন দ্রুত একজন থেকে অন্যজনে ছড়ায়। তাই পরিবার ও সমাজে এর বিস্তার রুখতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। চিরুনি, তোয়ালে, বালিশের কভার, টুপি বা স্কার্ফ অন্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত পোশাক, বিছানার চাদর ও বালিশের কভার গরম পানিতে ধুয়ে ভালো করে রোদে শুকাতে হবে। শিশুদের ক্ষেত্রে — স্কুলে একে অপরের সঙ্গে মাথা ঠেকিয়ে বসা বা খেলাধুলা না করার বিষয়ে সচেতন করা প্রয়োজন।
"মাথার ত্বক পরিষ্কার–পরিচ্ছন্ন রাখা ও একটু সচেতনতাই পারে উকুনমুক্ত ও সুস্থ জীবন সুনিশ্চিত করতে।" — ডা. কাকলী হালদার
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- বিশেষজ্ঞ: ডা. কাকলী হালদার, সহকারী অধ্যাপক, মাইক্রোবায়োলজি, ঢাকা মেডিকেল কলেজ
- বিভাগ: সুস্থতা (স্বাস্থ্য)
- প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২৬, প্রথম আলো
- অ্যানিমিয়া ঝুঁকি: দীর্ঘদিনের তীব্র সংক্রমণে শিশু ও পুষ্টিহীনদের
- ভেক্টর রোগ: ট্রেঞ্চ ফিভার, রিল্যাপসিং ফিভার, টাইফাস (পোশাক/শরীরের উকুন থেকে)
- চিকিৎসা: পারমেথ্রিন শ্যাম্পু/লোশন + সরু চিরুনি
- প্রতিরোধ: ব্যক্তিগত জিনিস আলাদা, গরম পানিতে ধোয়া, সচেতনতা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!