📌 উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় বড় বোন তাসনিয়াকে হারানো তাহসিন আব্দুল্লাহ ২৭ জুলাই আর্মি স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রীর সামনে হাসিমুখে হাত বাড়ায় — ছবি ভাইরাল হলে ২৯ জুলাই বাবা নাজমুল হককে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ।
বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে গত ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস ২০২৫-২৬'-এর সমাপনী আয়োজনে একটি ছবি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে — হাজারো শিশুর ভিড়ে স্কুলড্রেস পরা কিশোর তাহসিন আব্দুল্লাহর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকে বাড়িয়ে দেওয়া দু'টি হাত আর চোখেমুখে উচ্ছ্বসিত হাসি স্পর্শ করে অসংখ্য মানুষের হৃদয়। কিন্তু সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক গভীর বেদনার গল্প — ২০২৫ সালের জুলাইয়ে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় তাহসিন হারিয়েছিল তার বড় বোন তাসনিয়াকে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- কিশোরের নাম তাহসিন আব্দুল্লাহ — ২০২৫ সালের জুলাইয়ে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় বড় বোন তাসনিয়াকে হারান।
- তাহসিন তখন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী, তাসনিয়া পড়ত অষ্টম শ্রেণিতে — একই স্কুলে দু'টি আলাদা ভবনে ছিল, যুদ্ধবিমানটি আছড়ে পড়ে তাসনিয়াদের ভবনে।
- বিস্ফোরণ শুনে ছোট্ট তাহসিন দৌড়ে যায় বোনকে খুঁজতে — স্যালাইন ও পানির বোতল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল, কিন্তু সেই অপেক্ষার আর অবসান হয়নি।
- হিলিং সেশনে তাহসিন লিখেছিল, 'আমার কষ্ট অনেক। আমি আমার প্রিয় বোনকে হারিয়ে ফেলেছি। সে মারা গেছে। ওকে আমি অনেক অনেক মিস করি, ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।'
- প্রধানমন্ত্রী জানতে পারেন ছবির হাসিমাখা মুখের পেছনের হৃদয়বিদারক ইতিহাস — অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে খোঁজখবর নিতে নির্দেশ দেন।
- ২৯ জুলাই বুধবার বাবা নাজমুল হককে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে তাহসিন — প্রধানমন্ত্রী তাঁর স্বাক্ষর করা একটি ফুটবলসহ বিশেষ উপহার তুলে দেন।
সেই কিশোরের নাম তাহসিন আব্দুল্লাহ। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় তাহসিন হারিয়েছিল তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ, বড় বোন তাসনিয়াকে। একই স্কুলে পড়লেও সেদিন তারা ছিল দু'টি আলাদা ভবনে — তাহসিন তখন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী, আর তাসনিয়া পড়ত অষ্টম শ্রেণিতে। যুদ্ধবিমানটি আছড়ে পড়ে তাসনিয়াদের ভবনে। বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনে ছোট্ট তাহসিন দৌড়ে যায় বড় বোনকে খুঁজতে — কারো কাছ থেকে শুনেছিল স্যালাইন ও পানির প্রয়োজন — বড় বোনের জন্য ছোট্ট দুই হাতে স্যালাইন ও পানির বোতল নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল তাহসিন, কিন্তু সেই অপেক্ষার আর অবসান হয়নি।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই দুর্ঘটনার পর বদলে যায় তাহসিন। এক হিলিং সেশনে সে কাগজে লিখেছিল, 'আমার কষ্ট অনেক। আমি আমার প্রিয় বোনকে হারিয়ে ফেলেছি। সে মারা গেছে। ওকে আমি অনেক অনেক মিস করি, ও আমার বেস্ট ফ্রেন্ড।' বোনকে হারানোর পর থেকে তাহসিনের মুখে আগের মতো প্রাণখোলা হাসি আর দেখা যেত না।
কিন্তু গত ২৭ জুলাই বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামের অনুষ্ঠানে যেন দেখা মিলল অন্য এক তাহসিনের — প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন মাঠ প্রদক্ষিণ করছিলেন, তখন তাঁর কাছাকাছি আসার মুহূর্তে আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে শিশুটি। সেই নির্মল হাসি আর উচ্ছ্বাস ক্যামেরাবন্দি হয় — পরে ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং অসংখ্য মানুষ তাহসিনের হাসির সাথে নিজেদের অনুভূতি মিলিয়ে নেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানতে পারেন ছবির সেই হাসিমাখা মুখটির পেছনে রয়েছে এক হৃদয়বিদারক পারিবারিক ইতিহাস — বিষয়টি জানার পর তিনি তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে তাহসিন ও তার পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার (২৯ জুলাই) বাবা নাজমুল হককে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে তাহসিন। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তাহসিনের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন এবং বড় হয়ে কী হতে চায় তা জানতে চান — তাহসিন জানায় সে বড় হয়ে একজন সফল ব্যবসায়ী হতে চায় এবং এমন কিছু করতে চায় যার মাধ্যমে মানুষের উপকার হবে ও মানুষ আকৃষ্ট হবে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর এই স্বপ্নের প্রশংসা করেন এবং মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া, নিয়মিত খেলাধুলা ও নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
তাহসিন বর্তমানে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ছে, তার ছোটবোন পড়ছে নার্সারিতে। আলাপচারিতায় তাহসিন জানায় তার সবচেয়ে প্রিয় খেলা ফুটবল — প্রধানমন্ত্রী নিজের স্বাক্ষর করা একটি ফুটবলসহ বিশেষ উপহার তুলে দেন তাহসিনের হাতে। সাক্ষাৎ শেষে উচ্ছ্বসিত তাহসিন জানায় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আবারও দেখা করতে পেরে সে খুবই আনন্দিত — এমন একটি সুযোগ পাবে তা সে কল্পনাও করেনি, পুরো বিষয়টিই তার কাছে ছিল একেবারে সারপ্রাইজ। তাহসিন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাথে একেবারে পরিবারের একজনের মতো কথা বলেছেন — তাই তার মোটেও নার্ভাস লাগেনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কক্ষও ঘুরে দেখেছে সে — সেখানে রাখা গাড়ি ও জাহাজের রেপ্লিকা তাকে মুগ্ধ করেছে, বাবার মোবাইল ফোন দিয়ে সেলফিও তুলেছে সে।
মাইলস্টোনের যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় সন্তান হারানো তাহসিনের বাবার প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, একান্ত সচিব-২ মো: মেহেদুল ইসলাম, সহকারী একান্ত সচিব-২ আব্দুর রহমান সানী, কার্যালয়ে কর্মরত সহযোগী অধ্যাপক (অর্থোপেডিক) ডা: শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, উপ-প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি এবং 'আমরা বিএনপি পরিবার'-এর সদস্য সচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন।
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!