📌 দুই বছর দুই মাস ধরে কার্যকর তথ্য কমিশন না থাকায় বাংলাদেশে প্রায় ৮০০টি অভিযোগ অসম্পন্ন রয়েছে। তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে কমিশন গঠন দরকার, কিন্তু বর্তমান সরকার এখনো তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তথ্য পাওয়ার অধিকার সম্পর্কে মাত্র ১০% নাগরিক জানেন এবং আবেদন গ্রহণের হার ২০১৯ সালের ৭৫.৪% থেকে নেমে এসেছে ৪৩.৮%
দুই বছর দুই মাস ধরে বাংলাদেশে কার্যকর তথ্য কমিশন গঠন না হওয়ায় নাগরিকের তথ্য অধিকার, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও সরকারের জবাবদিহির প্রতি চরম অবহেলার সৃষ্টি হয়েছে। তথ্য অধিকার সম্মেলনে জানানো হয়েছে, পৃথিবীর কোনো দেশে এত দীর্ঘ সময় তথ্য কমিশন না থাকার নজির নেই। এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বশূন্যতা নয়, বরং নাগরিকের মৌলিক অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলার ঘটনা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৮০০টি অভিযোগ অসম্পন্ন: তথ্য কমিশনে প্রায় সাড়ে ৮০০টি অভিযোগ জমা পড়েছে, কিন্তু কমিশনার না থাকায় শুনানি ও নিষ্পত্তি হচ্ছে না।
- 📌 ৭২% নাগরিক তথ্য চায়, কিন্তু মাত্র ১০% জানেন আইন: তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ সম্পর্কে মাত্র ১০% নাগরিকের জানা রয়েছে, যারা তথ্যের প্রয়োজন অনুভব করেন তাদের মধ্যে ৭২% বেশি।
- 📌 আবেদন গ্রহণের হার ২০১৯ সালের ৭৫.৪% থেকে নেমে এসেছে ৪৩.৮%: ২০১৯ সালে ৭৫.৪% আবেদন গ্রহণের স্বীকৃতি পেত, কিন্তু ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৩.৮%।
- 📌 অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি: অন্তর্বর্তী সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু কমিশন গঠন করা হয়নি। বর্তমান সরকারও সাত মাস পরও অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে।
- 📌 অপতথ্য নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের প্রস্তাব উদ্বেগজনক: তথ্য পাওয়ার অধিকার এবং অপতথ্য মোকাবিলা আলাদা বিষয়। আইন সংশোধন করে নাগরিকের তথ্য পাওয়ার সুযোগ সংকুচিত করা হলে তা আইনের মূল উদ্দেশ্যকেই ব্যর্থ করবে।
📰 বিস্তারিত
তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ নাগরিককে সরকারি ও নির্দিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকা তথ্য পাওয়ার অধিকার দিয়েছে। কিন্তু এই অধিকার কার্যকর করার জন্য তথ্য কমিশন গঠন করা দরকার। কমিশন অভিযোগের শুনানি, জরিমানা আরোপ এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে। তথ্য কমিশন গঠন না হওয়ায় এই সব কার্যক্রম বন্ধ পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এখন কেবল কিছু রুটিন প্রশাসনিক কাজ করছে, যা নাগরিকের তথ্য অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলেছে।
গত জুলাইয়ে বাছাই কমিটি গঠন এবং এক মাসের মধ্যে স্বাধীন কমিশন প্রতিষ্ঠার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেই সময়সীমাও পেরিয়ে গেছে। তথ্য অধিকার ব্যবস্থার দুর্বলতা শুধু কমিশন না থাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তথ্য পাওয়ার ইতিবাচক অভিজ্ঞতা এবং আইনগত সময়সীমা সম্পর্কে জ্ঞানও কমেছে। তথ্য কমিশন গঠন না হলে নাগরিকের তথ্য অধিকার বিপন্ন হবে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।
তথ্য অধিকার আইনের সঙ্গে অপতথ্য বা মিথ্যা তথ্য নিয়ন্ত্রণের বিষয় যুক্ত করার প্রস্তাব উদ্বেগজনক। তথ্য পাওয়ার অধিকার এবং অপতথ্য মোকাবিলা দুটি আলাদা বিষয়। অপতথ্য রোধের অজুহাতে আইন সংশোধন করে নাগরিকের তথ্য পাওয়ার সুযোগ সংকুচিত করা হলে তা আইনের মূল উদ্দেশ্যকেই ব্যর্থ করবে।
"একটি আইন কাগজে থাকলেই নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না; তার জন্য সক্রিয় প্রতিষ্ঠান, প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা এবং তথ্য প্রকাশে প্রশাসনের সদিচ্ছা প্রয়োজন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তথ্য অধিকার সম্মেলনের অংশগ্রহণকারী ও তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর সমালোচক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮০০ (অভিযোগ), ৭২ (তথ্যের প্রয়োজন অনুভবকারী নাগরিকের শতাংশ), ১০ (আইন সম্পর্কে জানা নাগরিকের শতাংশ), ৭৫.৪ (২০১৯ সালের আবেদন গ্রহণের শতাংশ), ৪৩.৮ (২০২৫ সালের আবেদন গ্রহণের শতাংশ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!