📌 বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব মোকাবিলায় পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বর্ষার অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে পানিপ্রবাহ বাড়াতে হবে এবং ন্যায্য পানির দাবি আদায়ের জন্য আন্তর্জাতিক আলোচনা জোরদার করতে হবে
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব মোকাবিলায় পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সন্ধায় রাজধানীর গুলশানের ক্রাউন প্লাজার বলরুমে ‘জাতীয় পানি সম্পদ সুরক্ষায় পদ্মা ব্যারেজের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পদ্মা-তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের দাবি: ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব মোকাবিলায় পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রিজভী।
- 📌 পানিপ্রবাহ বাড়ানোর প্রস্তাব: বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে নদ-নদীতে পানিপ্রবাহ বাড়ানোর প্রস্তাব দেন তিনি।
- 📌 লবণাক্ততা ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতির সতর্কতা: পদ্মার শাখা-উপশাখা নদীতে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় সুন্দরবনসহ এলাকার জীববৈচিত্র্য ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে বলে দাবি করেন রিজভী।
- 📌 ন্যায্য পানির দাবি আদায়ের আহ্বান: ভারতের সঙ্গে জোরালো আলোচনা চালিয়ে বাংলাদেশের ন্যায্য পানির দাবি আদায়ের জন্য সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান তিনি।
- 📌 দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি: পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের নীতিগত সিদ্ধান্তের পর দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান রিজভী।
📰 বিস্তারিত
রিজভী বলেন, বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে কাজে লাগানো গেলে দেশের নদ-নদীতে পানিপ্রবাহ বাড়বে। এতে কৃষি সুরক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। তিনি উল্লেখ করেন, শুষ্ক মৌসুমে নদ-নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাচ্ছে। উজানে একতরফা পানি প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশ তার ন্যায্য পানির হিস্যা পাচ্ছে না।
রিজভী বলেন, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত হলেও নদীগুলোতে পর্যাপ্ত পানি না থাকার কারণে তিস্তা ও যমুনা সেতুর ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় নদীতে চর দেখা যায়। তিনি দাবি করেন, গত ২০ থেকে ২৫ বছরে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকায় বৃষ্টিপাত উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। পদ্মার শাখা-উপশাখা নদীগুলোতে পানিপ্রবাহ কমে যাওয়ায় সমুদ্রের লবণাক্ত পানি ঠেলে দূরে রাখার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে সুন্দরবনসহ বিভিন্ন এলাকার জীববৈচিত্র্য ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে।
রিজভী বলেন, পানি ব্যবস্থাপনা শুধু কারিগরি বিষয় নয়, এর সঙ্গে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বিষয়ও জড়িত। তিনি বলেন, ১৯৭৭ সালের গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির গ্যারান্টি ক্লজের প্রসঙ্গ তুলে প্রশ্ন করেন, পরবর্তী সময়ে সেটি কেন বাদ দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, পানি বণ্টনের প্রশ্নে কোনো দেশই সহজে ছাড় দেয় না। তাই বাংলাদেশেরও নিজের ন্যায্য পাওনার বিষয়ে সোচ্চার থাকা প্রয়োজন।
"পদ্মা ও তিস্তা ব্যারাজ নির্মাণের মাধ্যমে বর্ষার পানি সংরক্ষণ এবং শাখা-উপশাখা নদীর পানিপ্রবাহ সচল রাখা সম্ভব হলে কৃষি উৎপাদন, বন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নৌপথের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখা যাবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজধানী ঢাকা (গুলশান), রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পদ্মা নদী, তিস্তা নদী, যমুনা নদী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী (বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ২০-২৫ বছর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!