📌 গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে এডিপির ৩৪টি প্রকল্পে প্রায় ৩ কোটি টাকার অনিয়ম তদন্তে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে প্রকল্পের অর্থ অপব্যবহার ও কাগজপত্রে মিথ্যা বাস্তবায়ন দেখানো
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় এডিপির ৩৪টি প্রকল্পে প্রায় ৩ কোটি টাকার অনিয়ম তদন্তের জন্য ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বুলবুল গতকাল মঙ্গলবার কমিটি গঠন করেন। কমিটিকে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটির আহ্বায়ক হলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সায়্যেদুল মোফাচ্ছালিন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাইবান্ধা পলাশবাড়ীতে এডিপির ৩৪টি প্রকল্পে ৩ কোটি টাকার অনিয়ম তদন্তে কমিটি গঠন
- 📌 কমিটির সদস্য: সায়্যেদুল মোফাচ্ছালিন (আহ্বায়ক), জিল্লুর রহমান (সমাজসেবা কর্মকর্তা), আতিকুর রহমান (জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তর)
- 📌 অভিযোগ: প্রকল্পের অর্থ অপব্যবহার, কাগজপত্রে মিথ্যা বাস্তবায়ন, প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে চেক ফাঁকা স্বাক্ষর নেওয়া
- 📌 ১০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে
- 📌 অভিযুক্ত: উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ের সিএ খোকন, হেলাল মিয়ার, বেতকাপা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান
📰 বিস্তারিত
গাইবান্ধা পলাশবাড়ীতে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) আওতায় ৩৪টি প্রকল্পে প্রায় পৌনে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান, জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান এবং উপজেলা পরিষদের সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম-কম্পিউটার অপারেটর আনোয়ার হোসেন (খোকন)।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের কাজ না করেই বা অসম্পূর্ণ রেখে কাগজপত্রে শতভাগ বাস্তবায়ন দেখিয়ে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। প্রকল্প সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যদের অভিযোগ, প্রকল্পের নাম, বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন সম্পর্কে তাদের বিস্তারিত জানানো হয়নি। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)র প্রকল্পের কথা বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে আগাম স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। পরে তাদের অজান্তে প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সরেজমিনে তদন্তে দেখা গেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের পেছনে সিসি ঢালাইয়ের জন্য বরাদ্দ করা ৩ লাখ টাকার কাজের সঙ্গে বরাদ্দের সামঞ্জস্য নেই। গাইবান্ধা-৩ আসনের সংসদ সদস্যের কার্যালয়ের টয়লেট সংস্কারের ৩ লাখ টাকার প্রকল্পেও স্থানীয়দের দাবি, টয়লেটটির অবস্থা পরিবর্তন হয়নি। একই কার্যালয়ের আসবাব কেনার জন্য বরাদ্দ করা ৩ লাখ টাকার মধ্যে একটি টেবিল ও চেয়ার কিনতে ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে, কিন্তু আগের আসবাব ও এসির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদের টয়লেট সংস্কার ও যাতায়াতের রাস্তা সিসিকরণ প্রকল্পেও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, টয়লেটটি জরাজীর্ণ ও অপরিচ্ছন্ন এবং রাস্তার সিসি ঢালাই প্রয়োজনের তুলনায় কম। ঘোড়াবান্ধা এলাকার হজরত আয়শা সিদ্দিকা (রা.) মহিলা হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের জন্য বরাদ্দ করা ৩ লাখ টাকা কোন কাজে ব্যয় হয়েছে, সে বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে খেলাধুলার সামগ্রী দেওয়ার বরাদ্দ থাকলেও পবনাপুর, মহদীপুর ও মনোহরপুর ইউনিয়নের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা জানিয়েছেন, তারা কোনো সামগ্রী পাননি।
বরিশালের সর্বাঙ্গ বাদুড়িয়া গ্রাম থেকে সর্বাঙ্গ বাদুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তা সিসিকরণ প্রকল্পে প্রায় ১২০ মিটার কাজ হলেও বাকি অংশ অসম্পূর্ণ রয়েছে। বেতকাপা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রকল্প সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, তিনি নিজের মৎস্য প্রকল্পের পুকুর বিভাজনে বেলা সাইডিং নির্মাণের কাজে প্রকল্পের অর্থ ব্যয় করেছেন।
সদ্য বিদায়ী উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, ‘আমি ৮৫ শতাংশ কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিল দিয়েছি। দাপ্তরিক কাজ ও সভায় ব্যস্ত থাকায় বাকি কাজগুলো পরিদর্শন করতে পারিনি।’ তিনি অভিযোগ ওঠা প্রকল্পগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন এবং অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন। ইউএনও আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, ‘অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
"আমি ৮৫ শতাংশ কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিল দিয়েছি। দাপ্তরিক কাজ ও সভায় ব্যস্ত থাকায় বাকি কাজগুলো পরিদর্শন করতে পারিনি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গাইবান্ধা পলাশবাড়ী উপজেলা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সায়্যেদুল মোফাচ্ছালিন (কমিটি আহ্বায়ক), আমিনুল ইসলাম বুলবুল (ইউএনও), আবুল কালাম আজাদ (উপজেলা প্রকৌশলী)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৪টি প্রকল্প, ৩ কোটি টাকা, ১০ কর্মদিবস, ৮৫ শতাংশ কাজ পরিদর্শন
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!