📌 জাতীয় সংসদে মানবাধিকার কমিশন বিল ও গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল পাস হয়েছে। গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডসহ। বিলে গুমকে স্বতন্ত্র জামিন-অযোগ্য অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত ও বিচারের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে
জাতীয় সংসদে আজ রোববার দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলের মাধ্যমে বাংলাদেশে গুমের বিরুদ্ধে শক্তিশালী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এই বিলে গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গুমের ফলে মৃত্যু, মরদেহ উদ্ধার বা পাঁচ বছর পার হলেও জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হলে দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়াও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গুমকে স্বতন্ত্র, জামিন-অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
- 📌 গুমের সাধারণ অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
- 📌 গুমের সংজ্ঞায় বলা হয়েছে: সরকারি কর্মচারী বা শৃঙ্খলা বাহিনী নিজ পরিচয়ে বা সরকারের সমর্থনে ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে স্বাধীনতা হরণের বিষয়টি অস্বীকার করলে তা গুম হিসেবে গণ্য হবে।
- 📌 গুমের অভিযোগ তদন্তের সর্বোচ্চ সময়সীমা ১২০ দিন এবং বিচারের সর্বোচ্চ সময়সীমা ৯০ কার্যদিবস।
- 📌 অভিযুক্ত বাহিনী নিজে তদন্ত করতে পারবে না; সরকার অন্য শৃঙ্খলা বাহিনী বা আন্তবাহিনী তদন্ত দলকে তদন্তের দায়িত্ব দিতে পারবে।
- 📌 গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
- 📌 পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের জন্য গুম সনদ দেওয়ার বিধান রয়েছে।
- 📌 মিথ্যা বা হয়রানিমূলক গুম অভিযোগের জন্য অভিযোগকারীকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
📰 বিস্তারিত
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলে গুমের সংজ্ঞা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিলে বলা হয়েছে, কোনো সরকারি কর্মচারী বা শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিজ পরিচয়ে বা সরকারের সমর্থনে ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, আটক বা অপহরণ করে স্বাধীনতা হরণের বিষয়টি অস্বীকার করলে বা ব্যক্তির অবস্থান গোপন রাখলে তা গুম হিসেবে গণ্য হবে। গুমের ফলে মৃত্যু ঘটলে, মরদেহ পাওয়া গেলে অথবা পাঁচ বছর পার হলেও ব্যক্তিকে উদ্ধার করা সম্ভব না হলে দায়ী ব্যক্তির সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়াও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
গুমের সাধারণ অপরাধের জন্য অন্যূন তিন বছর থেকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অতিরিক্ত সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। বিলে গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে। একইভাবে সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়াও, অভিযোগ গঠনের ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে সম্ভব না হলে উপযুক্ত কারণ দেখিয়ে পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করার বিধান রয়েছে।
বিলে বলা হয়েছে, কোনো শৃঙ্খলা বাহিনী বা তার সদস্যের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট বাহিনী নিজে তদন্ত করতে পারবে না। সরকার স্বপ্রণোদিত হয়ে বা কোনো পক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্ত বাহিনী ছাড়া অন্য কোনো শৃঙ্খলা বাহিনী বা আন্তবাহিনী তদন্ত দলের কাছে তদন্তভার দিতে পারবে। এছাড়াও, গুম হওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধারে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্ত ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে বিচার এবং ডিজিটাল সাক্ষ্য গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশটি ত্রুটিপূর্ণ ছিল। অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলে বিলটি শক্তিশালী করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘জাতির প্রত্যাশা অনুযায়ী আমাদের অঙ্গীকার অনুযায়ী আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আমরা গুমের প্রতিকার ও প্রতিরোধের জন্য এই বিল পাস করেছি।’
"মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশটি ত্রুটিপূর্ণ ছিল। অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলে আমূল পরিবর্তনের মাধ্যমে আগের অধ্যাদেশকে শক্তিশালী করে এই বিল আনা হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাতীয় সংসদ, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২০ দিন (তদন্ত), ৯০ কার্যদিবস (বিচার), ৫০ লাখ টাকা (অর্থদণ্ড), ১ কোটি টাকা (সর্বোচ্চ অর্থদণ্ড)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!