📌 টিআইবি র্যাব বিলুপ্তির উদ্যোগকে ইতিবাচক দেখলেও এসআরবি বিলে অস্পষ্ট ক্ষমতা, জবাবদিহির অভাব ও সামরিক প্রভাবের ঝুঁকি তুলে ধরে। সংস্থাটি নতুন বাহিনীতে র্যাবের মতো ক্ষমতা ও সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি রোধের দাবি জানায়
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) র্যাব বিলুপ্তির উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে স্বাগত জানলেও ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’-এ অস্পষ্ট ক্ষমতা, জবাবদিহির অভাব ও সামরিক প্রভাবের ঝুঁকি তুলে ধরে। সংস্থাটি মনে করে, শুধু নাম পরিবর্তন করলেই র্যাবের মতো ক্ষমতা ও সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 টিআইবি র্যাব বিলুপ্তির উদ্যোগকে ইতিবাচক বলে স্বাগত জানালেও এসআরবি বিলে অস্পষ্ট ক্ষমতা ও জবাবদিহির অভাবের উদ্বেগ প্রকাশ করে।
- 📌 সংস্থাটি দাবি করে, র্যাবের মতো বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের পুনরাবৃত্তি রোধে নতুন বাহিনীর কাঠামো ও ক্ষমতা মৌলিকভাবে পরিবর্তন করতে হবে।
- 📌 সামরিক সদস্যদের অন্তর্ভুক্তি ও অস্পষ্ট ক্ষমতা (যেমন: অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বলপ্রয়োগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
- 📌 বিলে সন্দেহের ভিত্তিতে পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি ও গ্রেপ্তার ও বাহিনীর নিজস্ব হাজতখানা রাখার বিধান আইনবিরোধী বলে সমালোচনা করে টিআইবি।
- 📌 ধারা ২২ অনুযায়ী অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’-তে স্বার্থের দ্বন্দ্ব থাকবে বলে আপত্তি জানানো হয়েছে।
- 📌 টিআইবি দাবি করে, স্বাধীন তদারকি কর্তৃপক্ষ গঠন করতে হবে যেখানে মানবাধিকার ও আইনবিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।
📰 বিস্তারিত
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, র্যাব বিলুপ্তির নীতিগত সিদ্ধান্ত দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত। তবে শুধু নাম পরিবর্তন করলেই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার হবে না। তিনি মনে করেন, র্যাবের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে নতুন বাহিনীর কাঠামো, জনবল, ক্ষমতা ও জবাবদিহির ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে।
সংস্থাটি র্যাবের বর্তমান সদস্যদের কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়া ঢালাওভাবে এসআরবিতে স্থানান্তরের বিধানকে সমালোচনা করে। জাতিসংঘের মানদণ্ড অনুযায়ী স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ‘ভেটিং’ প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করতে হবে বলে দাবি করা হয়েছে। র্যাবের মতো অপরাধে জড়িত সদস্যদের নতুন বাহিনীতে যুক্ত হতে দেবেন না।
বিলে এসআরবিকে গোয়েন্দা নজরদারি, তল্লাশি ও অভিযান করার অস্পষ্ট ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। টিআইবি মনে করে, এসব অস্পষ্ট শব্দবন্ধ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ভিন্নমত দমন ও বলপ্রয়োগের সুযোগ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে অতীতের মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে আইনগত বৈধতা দেওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
সংস্থাটি ধারা ২২ অনুযায়ী অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে গঠিত কমিটিকে সমালোচনা করে। তারা বলেন, বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাঁদেরই সহকর্মীদের দিয়ে তদন্ত করানো হলে তা নিরপেক্ষ হতে পারে না। টিআইবি দাবি করে, পুলিশ ও নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত একটি স্বাধীন তদারকি কর্তৃপক্ষ গঠন করতে হবে। এতে মানবাধিকার ও আইনবিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
"র্যাবের বদলে এসআরবি নামে একই ধরনের ক্ষমতা ও সংস্কৃতির একটি বাহিনী তৈরি হবে। এটি হবে পুরোনো প্রতিষ্ঠানের শুধু খোলস পরিবর্তন। এমন ‘কসমেটিক মেকওভার’ দিয়ে দেশের নাগরিক বা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করা যাবে না।"
টিআইবি মনে করে, র্যাব বিলুপ্তির প্রক্রিয়ায় সরকারের সামনে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন বাহিনীর ক্ষমতার সুস্পষ্ট সীমারেখা, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদারকি, স্বচ্ছ সদস্য যাচাইপ্রক্রিয়া, বিচারিক সুরক্ষা এবং কার্যকর প্রতিকারের ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে র্যাব বিলুপ্তির মূল উদ্দেশ্য ব্যর্থ হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ইফতেখারুজ্জামান (টিআইবি নির্বাহী পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ধারা ২২
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!