📌 স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতের নেতৃত্বে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী অধিকার বিষয়ক সর্বদলীয় সাংসদীয় ককাস গঠিত হয়েছে। ককাসের সহ-আহ্বায়ক হিসেবে নির্বাচিত হন সেলিমা রহমান ও নুরুন্নিসা সিদ্দিকী। সরকারের ১৮০ দিনের মধ্যে গঠিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিতকরণের জন্য বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দেন মুহিত
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিতের নেতৃত্বে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী অধিকার বিষয়ক সর্বদলীয় সাংসদীয় ককাসের আনুষ্ঠানিক গঠন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত এই উচ্চ-পর্যায়ের পরামর্শ সভায় ককাসের আহ্বায়ক হিসেবে ড. মুহিতকে এবং সহ-আহ্বায়ক হিসেবে বিএনপির এমপি সেলিমা রহমান ও জামায়াতের মহিলা শাখার সম্পাদক এমপি নুরুন্নিসা সিদ্দিকীকে নির্বাচিত করা হয়।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 প্রতিবন্ধী অধিকার ককাস গঠিত: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত আহ্বায়ক, সেলিমা রহমান ও নুরুন্নিসা সিদ্দিকী সহ-আহ্বায়ক
- 📌 ১৮০ দিনের মধ্যে গঠিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি ও বাস্তবায়ন কমিটি প্রতিবন্ধীদের অধিকার নিশ্চিতকরণে কাজ করছে
- 📌 ৫০০টি উপজেলা হাসপাতাল ও ১৫০ শয্যার নতুন ভবনে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিতকরণের সিদ্ধান্ত
- 📌 ২০০টি এসি বাস হুইলচেয়ার-উপযোগী করে প্রতিবন্ধীদের গণপরিবহনে সুবিধা নিশ্চিতকরণের পরিকল্পনা
- 📌 মেট্রোরেলে ২৫% ভাড়ার ছাড় বাড়ানোর পরিকল্পনা ও নতুন বিদ্যালয়ে র্যাম্প ও বিশেষ টয়লেট নির্মাণের নির্দেশ
📰 বিস্তারিত
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত সভায় বলেন, প্রতিবন্ধিতা কোনো করুণা বা ভাতার বিষয় নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের মতো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরও সংবিধানে পূর্ণ সমান অধিকার রয়েছে। তিনি বলেন, “পৃথিবীতে ‘প্রতিবন্ধী’ বলে আলাদা কিছু নেই, যা আছে তা হলো আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের তৈরি করা প্রতিবন্ধকতা। মানুষের শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, কিন্তু সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং অবকাঠামোগত বাধার কারণেই মানুষ প্রতিবন্ধিতার শিকার হয়।”
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১৮০ দিনের মধ্যে প্রতিবন্ধীদের অধিকার ও সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি বাস্তবায়ন কমিটি দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে। গত ছয় মাসে এই দুই কমিটি চারবার বৈঠকে বসে একাধিক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রতিবন্ধিতাকে বহুমাত্রিক ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করে ড. মুহিত বলেন, ডিস্যাবিলিটি রাইটস নিশ্চিত করা কেবল সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়; এখানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানসহ প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত ভূমিকা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গণপূর্ত অধিদপ্তর (পিডব্লিউডি) সারা দেশে নতুন স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে র্যাম্প, লিফট ও প্রতিবন্ধীবান্ধব টয়লেটের ব্যবস্থা রাখার সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সারা দেশের ৫০০টি উপজেলা হাসপাতালে যে ১৫০ শয্যার আধুনিক ভবন নির্মাণ শুরু হয়েছে, তার নকশায় শুরু থেকেই প্রবেশগম্যতার বিষয়টি নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নতুন সব বিদ্যালয়ে র্যাম্পের পাশাপাশি বিশেষ উপযোগী টয়লেট নির্মাণও নিশ্চিত করা হচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার সংস্কারের কথা তুলে ধরে ড. মুহিত জানান, রাজধানীর গণপরিবহনে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিতে প্রায় ২০০টি আধুনিক এসি বাস নামানো হচ্ছে, যা সরাসরি হুইলচেয়ার নিয়ে ওঠার উপযোগী হবে।
সভায় অংশগ্রহণকারী এমপিরা এই উদ্যোগের প্রতি জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, মর্যাদা ও অন্তর্ভুক্তি এগিয়ে নিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেন। সংসদ সদস্যরা একমত হন যে, প্রতিবন্ধী অধিকার একটি জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে থাকা উচিত এবং আইন প্রণয়ন, নীতি তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য সংসদের অভ্যন্তরে একটি বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করেন।
"প্রতিবন্ধিতা কোনো করুণা বা নিছক ভাতার বিষয় নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের মতো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদেরও সংবিধানে পূর্ণ সমান অধিকার রয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: গুলশান, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, এমপি সেলিমা রহমান, এমপি নুরুন্নিসা সিদ্দিকী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬; ১৮০ দিন; ৫০০টি উপজেলা হাসপাতাল; ১৫০ শয্যা; ২০০টি এসি বাস; ২৫ শতাংশ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!