📌 পটুয়াখালী-২ আসনের এমপি শফিকুল ইসলাম মাসুদ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর সমান করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেছেন, এতে দলীয়করণ ও কোটা-ভিত্তিক ব্যবস্থাপনার পথ খুলবে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম পয়েন্ট অব অর্ডার হিসেবে মন্তব্যকে বৈধতা দেননি
পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর সমান করার সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, এ পরিবর্তন মেধা-ভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কোটা-ভিত্তিক ব্যবস্থাপনার দিকে ধাবিত করছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এই সতর্কবার্তা দেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 লিখিত-মৌখিক সমান নম্বর: ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর সমান করা হবে (৫০-৫০)।
- 📌 কোটা-মেধা পরিবর্তন: এমপি মাসুদ দাবি করেছেন, এ পরিবর্তন মেধা-ভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কোটা-ভিত্তিক পরিচালনার দিকে নিয়ে যাবে।
- 📌 দলীয়করণের সুযোগ: তিনি বলেছেন, এ সিদ্ধান্তে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ব্যাহত হবে এবং প্রশাসনের দুর্নীতি ও দলীয় বসানোর পথ সুগম হবে।
- 📌 গ্রেডভিত্তিক পরিবর্তন: ১১-১২তম গ্রেডে ১০-৯০ থেকে ৫০-৫০, ১৩-১৬তম গ্রেডে ১০-৯০ থেকে ৪০-৬০, আর ১৭-২০তম গ্রেডে ১০-৪০ থেকে ২৫ শতাংশে পরিবর্তন আনা হবে।
- 📌 স্পিকারের প্রতিক্রিয়া: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম পয়েন্ট অব অর্ডার হিসেবে মন্তব্যকে বৈধতা দেননি এবং বলেন, নিয়োগ বিধি নিয়ে সংসদে আলোচনা হচ্ছে না।
📰 বিস্তারিত
পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর সমান করার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “আমরা জাতির পক্ষ থেকে বড় প্রত্যাশা নিয়ে এই সংসদের দিকে তাকিয়ে আছি। দীর্ঘ ১৭ বছর পর কোটার পরিবর্তে মেধাভিত্তিক সংসদ তৈরি হয়েছে—এটা সবার জানা। কিন্তু এখন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগ বিধিতে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক ৫০-৫০ করে মার্ক নিয়ে দলীয়করণ, স্বেচ্ছাচারিতা এবং মেধার পরিবর্তে কোটা-ভিত্তিক পরিচালনার প্রক্রিয়ার দিকে আমাদের বর্তমান ব্যবস্থাপনা ধাবিত হচ্ছে।”
মাসুদ আরও বলেন, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর সমান করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, এ বিষয়ে প্রক্সি পরীক্ষা বা জালিয়াতি প্রতিরোধের যুক্তি দেখিয়ে প্রশাসনিকভাবে উন্নয়ন-সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এ সিদ্ধান্তে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা চরমভাবে ব্যাহত হবে এবং প্রশাসনের দুর্নীতি ও দলীয় বসানোর রাস্তা সুগম হবে।
গ্রেডভিত্তিক পরিবর্তন সম্পর্কে তিনি বলেন, ১১ থেকে ১২তম গ্রেডে আগে ১০ থেকে ৯০ শতাংশের বিভাজন ছিল, সেখানে এখন ৫০-৫০ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডে আগে ১০ থেকে ৯০ শতাংশের বিভাজন থাকলেও তা পরিবর্তন করে ৪০ ও ৬০ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আর ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে আগে ১০ থেকে ৪০ শতাংশের বিভাজন থাকলেও এখন তা পরিবর্তন করে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু আপনার মাধ্যমে এটুকু বলি যে আমাদের অবশ্যই কোটার ভিত্তিতে না হয়ে মেধার ভিত্তিতে আমাদের দেশটা পরিচালনার জন্য এই সংসদ যেন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে।’
"আমরা জাতির পক্ষ থেকে বড় প্রত্যাশা নিয়ে এই সংসদের দিকে তাকিয়ে আছি। দীর্ঘ ১৭ বছর পর কোটার পরিবর্তে মেধাভিত্তিক সংসদ তৈরি হয়েছে—এটা সবার জানা। কিন্তু এখন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির নিয়োগ বিধিতে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে পরীক্ষায় লিখিত ও মৌখিক ৫০-৫০ করে মার্ক নিয়ে দলীয়করণ, স্বেচ্ছাচারিতা এবং মেধার পরিবর্তে কোটা-ভিত্তিক পরিচালনার প্রক্রিয়ার দিকে আমাদের বর্তমান ব্যবস্থাপনা ধাবিত হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ (পটুয়াখালী-২ এমপি), স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫০-৫০ (নম্বর), ১১-২০তম গ্রেড, ১৭ বছর, ৮ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!