📌 সরকার সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়িয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অসদুপায় ঠেকাতে নতুন নিয়ম প্রণয়ন করছে। বিশেষজ্ঞরা মৌখিক পরীক্ষায় নম্বর বাড়ানোর ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা জানিয়েছেন
সরকার সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়িয়ে নতুন নিয়ম প্রণয়ন করছে। ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরাসরি নিয়োগে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিশেষ করে মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর পিছনে সরকারের মূল যুক্তি হলো অসদুপায় ঠেকানো এবং প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই। তবে জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা এই পরিবর্তনের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা জানিয়েছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১১-১২তম গ্রেডে লিখিত পরীক্ষায় ১০০ ও মৌখিক পরীক্ষায় ৫০ নম্বর রাখা হবে (মোট ১৫০)। লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও প্রাসঙ্গিক জ্ঞানে ২৫ করে নম্বর থাকবে।
- 📌 ১৩-১৬তম গ্রেডে লিখিত পরীক্ষায় ৬০ ও মৌখিক পরীক্ষায় ৪০ নম্বর রাখা হবে (মোট ১০০)। লিখিত পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ে ১৫ করে নম্বর থাকবে।
- 📌 ১৭-২০তম গ্রেডে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা দুটিতে ২৫ করে নম্বর রাখা হবে (মোট ৫০)। প্রতিটি বিষয়ে লিখিত পরীক্ষায় ৫ করে নম্বর থাকবে।
- 📌 পাস নম্বর: ১১-১২তম গ্রেডে লিখিত পরীক্ষায় ৩৫% এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৪০%; ১৩-১৬ ও ১৭-২০তম গ্রেডে উভয় পরীক্ষায় ৪০% পাস নম্বর থাকবে।
- 📌 সরকারের যুক্তি: অসদুপায় (প্রক্সি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার) ঠেকাতে এবং প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করতে এই পরিবর্তন করা হচ্ছে।
- 📌 প্রযোজ্য হবে না: শৃঙ্খলা বাহিনী (পুলিশ, বিজিবি, আনসার, কোস্ট গার্ড, র্যাব) এবং পিএসসি আওতাধীন পদে।
📰 বিস্তারিত
সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়িয়ে নতুন নিয়ম প্রণয়ন করা হচ্ছে। এই পরিবর্তন ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরাসরি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রযোজ্য হবে। সরকারের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো অসদুপায় ঠেকানো এবং প্রকৃত যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রার্থীদের বাছাই করা। সরকারি সূত্র জানায়, এই পরিবর্তনের জন্য ‘মন্ত্রণালয় বা বিভাগ ও ইহাদের আওতাধীন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর এবং সংস্থাসমূহের ১১-২০তম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগের জন্য পরীক্ষার মান বণ্টন (বিশেষ বিধান) বিধিমালা, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে। খসড়া বিধিমালা তৈরি করা হয়েছে এবং এটি চূড়ান্ত হওয়ার পথে আছে।
বিশেষজ্ঞরা মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়ানোর ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, লিখিত পরীক্ষায় প্রার্থীদের মধ্যে ব্যবধান কম থাকলে মৌখিক পরীক্ষায় বেশি নম্বর দিয়ে পছন্দের প্রার্থীকে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সরকারের দাবি, এই পরিবর্তন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা আনতে এবং অসদুপায় ঠেকাতে সাহায্য করবে।
বর্তমানে ১১-১২তম গ্রেডে লিখিত পরীক্ষায় ৭০ ও মৌখিক পরীক্ষায় ৩০ নম্বর রাখা থাকে। নতুন প্রস্তাবে গ্রেডভেদে নম্বর বণ্টন পরিবর্তিত হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ১১-১২তম গ্রেডে মোট নম্বর ১৫০ (লিখিত ১০০, মৌখিক ৫০), ১৩-১৬তম গ্রেডে মোট নম্বর ১০০ (লিখিত ৬০, মৌখিক ৪০) এবং ১৭-২০তম গ্রেডে মোট নম্বর ৫০ (লিখিত ও মৌখিক ২৫ করে)।
"মন্ত্রণালয় বা বিভাগ এবং তাদের আওতাধীন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, দপ্তর ও সংস্থার নিয়োগ কার্যক্রমে অসদুপায়ের প্রবণতা বেড়েছে। এতে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীর পরিবর্তে অযোগ্য প্রার্থীর চাকরি পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। সুষ্ঠু নিয়োগপ্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (সরকারি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা (আশঙ্কা প্রকাশ), সরকারি সূত্র
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১১-২০তম গ্রেড, ১০০/৫০/৬০/৪০/২৫ নম্বর, ৩৫%/৪০% পাস নম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!