📌 বিভাগীয় পর্যায়ে ডিএনএ ল্যাব স্থাপনের ঘোষণা দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন। ইউএনএফপিএর সহযোগিতায় নারী ও শিশুদের আইনি সুরক্ষা মজবুত করার পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠক হয়। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নারী অধিকার বিষয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে
বিভাগীয় পর্যায়ে ডিএনএ ল্যাব স্থাপনের ঘোষণা দেন বর্তমান সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। নারী ও শিশুদের আইনি সুরক্ষা আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আজ রোববার সচিবালয়ে জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) বাংলাদেশ প্রতিনিধি ক্যাথেরিন ব্রেন ক্যামকংয়ের সঙ্গে বৈঠকে এই কথা জানান তিনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ডিএনএ ল্যাব কার্যক্রম বিভাগীয় পর্যায়ে সম্প্রসারিত হবে — স্বচ্ছ বিচারপ্রক্রিয়া ও নারী-শিশু সুরক্ষা বৃদ্ধির লক্ষ্যে
- 📌 ইউএনএফপিএ কারিগরি সহায়তা দিতে রাজি — বিভাগীয় ডিএনএ ল্যাব স্থাপনে
- 📌 ১৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে জেলা ও তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবে
- 📌 ১০০টি কিশোর-কিশোরী ক্লাব প্রতিষ্ঠা — বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ
- 📌 তৃণমূল নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিতে ইউএনএফপিএর সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে — হস্তশিল্প রপ্তানির জন্য
📰 বিস্তারিত
বৈঠকে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. জাহিদ হোসেন তাঁর মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত অত্যাধুনিক ডিএনএ ল্যাবরেটরির কার্যক্রম সম্পর্কে ইউএনএফপিএ প্রতিনিধিকে বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, বিভাগীয় পর্যায়ে ডিএনএ ল্যাব কার্যক্রম দ্রুত ও সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য ইউএনএফপিএর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও জ্ঞানগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছে।
মন্ত্রী ইউএনএফপিএকে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত ও বন্ধুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি দেশের স্বাধীনতার পর থেকে সংস্থাটির অব্যাহত উন্নয়ন সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কারিগরি সহায়তা বজায় থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে আলোচিত বিষয়গুলির মধ্যে ছিল ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি, নারীশিক্ষা, জেন্ডার সমতা, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ও যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবা, মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি (এমসিবিপি), ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি), শিশুশ্রম নিরসন এবং সাইবার বুলিং ও প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধসহ বিভিন্ন বিষয়।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে ‘কিশোর-কিশোরী ক্লাব’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ ক্লাবগুলির মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক সামাজিক পরিবর্তন ও সচেতনতা তৈরি হচ্ছে। ইউএনএফপিএর কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ ক্যাথেরিন ব্রেন ক্যামকং বাংলাদেশে তাঁর দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে নারী অধিকার সুরক্ষা ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সরকারের পদক্ষেপের প্রশংসা করেন। তিনি তৃণমূল পর্যায়ে বাল্যবিবাহ সম্পূর্ণ নির্মূল করতে স্থানীয় ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান।
"বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের অধিকার সুরক্ষায় সরকারের পদক্ষেপগুলি প্রশংসনীয়। আমরা ইউএনএফপিএর পক্ষ থেকে কারিগরি সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।"
মন্ত্রী জানান, আসন্ন ‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে ১৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি কেবল রাজধানীতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, জেলা ও তৃণমূল পর্যায়েও ছড়িয়ে দেওয়া হবে। এছাড়াও, তৃণমূলের নারী উদ্যোক্তাদের তৈরি ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির সুবিধার্থে তাঁদের আধুনিক বিপণনবিষয়ক প্রশিক্ষণ দিতে ইউএনএফপিএর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছেন তিনি।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সচিবালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ইউএনএফপিএ প্রতিনিধি ক্যাথেরিন ব্রেন ক্যামকং, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব রওশন আরা বেগম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!