📌 আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ বিশ্বকাপের জন্য আঙুল ভাঙেও খেলেছেন। আঙুলের চোটে প্রতিটি সেভ ছিল যুদ্ধ, প্রতিদিন কাঁদতেন। জুভেন্টাসে যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙে চেলসিতে যোগ দেন ৭৫ লাখ পাউন্ডে
বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল বাঁচাতে হাতের আঙুল ভাঙেও লড়েছেন আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। ৩৪ বছর বয়সী মার্তিনেজের আঙুলের চোটের যন্ত্রণা ছিল এমন, যে প্রতিটি রাতে তিনি কাঁদতেন। তার ভাষায়, ‘আমি জম্বির মতো ডাইভ করতাম, হাত মাটিতে রাখলেই চোখে তারা দেখত। প্রতিদিন কাঁদতাম, আঙুলটা সসেজের মতো ফুলে থাকত।’
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩৪ বছর বয়সী মার্তিনেজ আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযানে আঙুল ভাঙেও খেলেছেন, অস্ত্রোপচার না করেই।
- 📌 ফ্রাইবুর্গের বিপক্ষে ওয়ার্মআপে আঙুল ভেঙে স্থানচ্যুত হয়, কিন্তু বিশ্বকাপের জন্য অস্ত্রোপচার বাদ দেন।
- 📌 আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ডাইভ করতে গিয়ে যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়, প্রতিদিন কাঁদতেন।
- 📌 জুভেন্টাসে যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙে মেডিক্যাল পরীক্ষায় আবার আঙুল ভেঙে পাওয়ায়, ৭৫ লাখ পাউন্ডে চেলসিতে যোগ দেন।
- 📌 চোয়াল ভেঙে পুনর্বাসনে — এবার চেলসির জয়ের ম্যাচে চোয়ালের চোটে আক্রান্ত, পুনর্বাসনপ্রক্রিয়া চলছে।
📰 বিস্তারিত
বিশ্বকাপের জন্য নিজের শরীরের সীমা অতিক্রম করেছেন মার্তিনেজ। মে মাসে অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ইউরোপা লিগের ফাইনালে ফ্রাইবুর্গের বিপক্ষে ওয়ার্মআপ করতে গিয়ে আঙুল ভাঙেন। স্ক্যান করে দেখা যায়, আঙুল শুধু ভাঙেনি, স্থানচ্যুতও হয়েছে। চোটের ভয়াবহতা বুঝতে পেরে মার্তিনেজের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো লাগল। সামনে ছিল আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার অভিযান। কিন্তু অস্ত্রোপচার করলে বিশ্বকাপ খেলা হতো না। তাই তিনি অস্ত্রোপচার বাদ দেন। কোচ লিওনেল স্কালোনির সমর্থন পেয়েও তিনি বিশেষ অ্যাডিডাস গ্লাভস পরে খেলেছেন, আঙুলে ভারী ব্যান্ডেজ বেঁধে। কিন্তু বল ঠিকমতো ধরার ক্ষমতা অনেকটা কমে গিয়েছিল।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন মার্তিনেজের যন্ত্রণা ছিল অপরিসীম। তিনি বলেছেন, ‘আমি জম্বির মতো ডাইভ করতাম। হাত মাটিতে রাখলেই চোখে তারা দেখত। প্রতিটি রাতে আমি কাঁদতাম। আমার আঙুলটা সসেজের মতো ফুলে থাকত।’ গোলকিপারের জন্য হাতের আঙুলই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। সেই হাতের আঙুল স্বাভাবিকভাবে কাজ করলে না, প্রতিটি সেভই হয়ে ওঠে যুদ্ধ। মার্তিনেজ জানান, ‘আঙুলটি আর কখনো আগের মতো হবে না। এখনো ব্যথা নিয়ে খেলছি। কিন্তু জাতীয় দলের জন্য এমন ঝুঁকি নিতেই হয়। আবারও একই কাজ করব।’
মার্তিনেজের গল্পে নির্মমতা আরো বাড়ে। জুভেন্টাসে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু মেডিক্যাল পরীক্ষায় আবার আঙুল ভেঙে পাওয়ায় স্বপ্ন ভেঙে যায়। এক্স-রে করানোর পর দেখা যায়, আঙুল আবার ভেঙেছে। মার্তিনেজ বলেন, ‘আমি এক্স-রে করিয়েছিলাম। দেখা গেল, আবার ভেঙেছে। এই আঙুলের কারণেই একটা ক্লাবে যাওয়ার দলবদল ভেস্তে যায়।’ শেষ পর্যন্ত ৭৫ লাখ পাউন্ডে চেলসিতে যোগ দেন। চেলসির মেডিক্যাল টিম শুরুতেই অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনীয়তা জানিয়ে দিয়েছিল, কিন্তু মার্তিনেজ চেয়েছেন আপাতত চোট নিয়ে খেলতে। তবে তিনি জানান, ‘একদিন আমার অস্ত্রোপচার করাতেই হবে।’
এখন অবশ্য আঙুলের চেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে অন্য একটি চোট। এ মাসের শুরুতে এভারটনের বিপক্ষে চেলসির জয়ের ম্যাচে চোয়াল ভেঙেছে মার্তিনেজের। লন্ডনের ক্লাবটির হয়ে তিনি পুনর্বাসনপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে আবারও প্রথম একাদশে জায়গা ফিরে পাওয়াই তাঁর লক্ষ্য। চোয়ালের চোট একদিন সেরে যাবে, কিন্তু আঙুলের ক্ষতি থেকে যাবে অনেক দিন।
"আমি জম্বির মতো ডাইভ করতাম। হাত মাটিতে রাখলেই চোখে তারা দেখত। প্রতিটি রাতে আমি কাঁদতাম।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ফ্রাইবুর্গ (ইউরোপা লিগ), আলজেরিয়া (বিশ্বকাপ), লন্ডন (চেলসি)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, লিওনেল স্কালোনি
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৪ বছর (বয়স), ৭৫ লাখ পাউন্ড (চেলসিতে যোগদানের মূল্য)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!