📌 যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই উত্তর কোরিয়ার সাইবার হামলায় বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টো প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি ভার্চ্যুয়াল সম্পদ চুরির দায় স্বীকার করেছে। এফবিআই জানায়, মাত্র কয়েক মিনিটে এই চুরি সম্পন্ন হয় এবং চুরি হওয়া সম্পদের মধ্যে ছিল বিটকয়েন, ইথেরিয়াম ও স্টেবলকয়েন। বাইন্যান্সের ৯০% সম্পদ পুনরুদ্ধার করেছে নিজস্ব তহবিলে
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই গতকাল শনিবার একটি বিবৃতিতে ঘোষণা করেছে যে, উত্তর কোরিয়ার সাইবার হামলায় বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেন প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি ভার্চ্যুয়াল সম্পদ চুরি হয়েছে। এফবিআই জানায়, এই চুরি ঘটেছে গত ২৯ অক্টোবর বা তার কাছাকাছি সময়ে। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে এই বিশাল পরিমাণ সম্পদ চুরি করা হয়েছে, যা ক্রিপ্টোকারেন্সির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চুরির ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৬০০ কোটি ডলারের বেশি ক্রিপ্টো সম্পদ চুরি হয়েছে বাইন্যান্স থেকে উত্তর কোরিয়ার সাইবার হামলায়
- 📌 চুরি করা সম্পদের মধ্যে ছিল বিটকয়েন, ইথেরিয়াম, টেথার ও ইউএসডি সহ বিভিন্ন স্টেবলকয়েন
- 📌 এফবিআই জানায়, 'ট্রেডারট্রেইটার' নামের গোষ্ঠী এই চুরির পেছনে জড়িত
- 📌 গত বছর ১৫০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরির ঘটনায়ও একই গোষ্ঠী দায়ী ছিল বাইবিট প্ল্যাটফর্মে
- 📌 বাইন্যান্সের নিজস্ব তহবিলে ৬৩৪ কোটি ডলার খরচ করে ৯০% সম্পদ পুনরুদ্ধার করেছে
- 📌 বাকি ১০% সম্পদ পুনরুদ্ধারের জন্য আরও সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে
📰 বিস্তারিত
এফবিআই জানায়, চুরি হওয়া সম্পদ মূলত ইথেরিয়ামে রূপান্তর করা হয়েছে। সংস্থাটির ধারণা, এরপর এসব সম্পদ বিভিন্ন মাধ্যমে অন্য ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করা হতে পারে। এভাবে অর্থের উৎস গোপন করে আরও কয়েক ধাপে পাচারের চেষ্টা চালানো হতে পারে। এফবিআই চুরি হওয়া অর্থের উৎস আড়াল করে পাচার ঠেকাতে বিভিন্ন ওয়ালেট ঠিকানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। এর জন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনের প্ল্যাটফর্ম, ব্লকচেইন বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে পদক্ষেপ নিতে বলেছে সংস্থাটি।
বাইন্যান্সের দাবি, তাদের অঙ্গীকার আগের মতোই রয়েছে। এই ঘটনায় চুরি হওয়া অর্থের আর্থিক ক্ষতি পুরোপুরি তারা বহন করবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তারা বলেছে, ‘আমাদের অঙ্গীকার আগের মতোই রয়েছে। এ ঘটনায় চুরি হওয়া অর্থের আর্থিক ক্ষতি বাইন্যান্স পুরোপুরি বহন করবে।’
এই সাইবার হামলা ঘটেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার মধ্যেই। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এআইয়ের কারণে প্রচলিত ক্রিপ্টোগ্রাফি ও তথ্যপ্রযুক্তির নিরাপত্তাব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। সাইবার হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর গত শুক্রবার বিশ্বের প্রধান ক্রিপ্টোকারেন্সিগুলোর অধিকাংশের দাম কমে গেছে।
"ট্রেডারট্রেইটার' নামের গোষ্ঠীর সাইবার কার্যক্রমের সঙ্গে এই চুরির যোগসূত্র রয়েছে। গত বছর বাইবিট থেকে ১৫০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির পেছনেও একই গোষ্ঠী ছিল।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: যুক্তরাষ্ট্র (এফবিআই), উত্তর কোরিয়া (সাইবার হামলা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: এফবিআই, বাইন্যান্স, 'ট্রেডারট্রেইটার' গোষ্ঠী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৬০০ কোটি ডলার (চুরি), ২৯ অক্টোবর (চুরির তারিখ), ১৫০ কোটি ডলার (গত বছরের চুরি), ৯০% (পুনরুদ্ধার), ৬৩৪ কোটি ডলার (বাইন্যান্সের খরচ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!