📌 মস্তিষ্কে টিউমার ও ক্যানসারের চিকিৎসা থেকে ফিরে এসেছেন অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। ডাক্তার বলেছেন, তার বাকি মাত্র পাঁচ বছর। তিনি ‘অংশীদার’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন
মস্তিষ্কে টিউমার ও ক্যানসারের কঠিন চিকিৎসা থেকে ফিরে এসেছেন অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। দীর্ঘদিন শুটিং থেকে দূরে থাকার পর তিনি ‘অংশীদার’ নাটকে ‘সুমি’ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন। ডাক্তারদের অনুমতি নিয়ে প্রথম শুটিংয়ে অংশ নেওয়ার সময় তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে পরিচালক ও প্রযোজনা দলের সদস্যরা সহযোগিতা করেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মস্তিষ্কে টিউমার শনাক্ত হওয়ার পর তানিয়া বৃষ্টি দুইবার অস্ত্রোপচার ও রেডিওথেরাপি পেয়েছেন। ডাক্তার বলেছেন, তার বাকি মাত্র পাঁচ বছর জীবন থাকতে পারে।
- 📌 ১০ মাসের বিরতি পর ইকসান রনির ‘অংশীদার’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি আবারও শুটিংয়ে ফিরেছেন। ‘সুমি’ চরিত্রে তিনি পারিবারিক দ্বন্দ্বের গল্পে অভিনয় করছেন।
- 📌 মাথাব্যথা ও বমি থেকে শুরু করে শারীরিক জটিলতাগুলোতে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। কেমোথেরাপি চলাকালীনও শুটিংয়ে ফিরতে পেরেছেন, কিন্তু এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি।
- 📌 সহকর্মীরা পরিবারের সদস্য হিসেবে তাঁকে সমর্থন করেছেন। অসুস্থতার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে সহকর্মীরা নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছিলেন।
- 📌 ২০১২ সাল থেকে অভিনয়জগতে থাকা তানিয়া বৃষ্টি বলেছেন, রোগের নাম শুনেই কেউ মানসিকভাবে ভেঙে না পড়তে হবে। তিনি বলেছেন, মনোবল ধরে রাখা, পরিবারের সঙ্গে ইতিবাচক সময় কাটানো এবং চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে চলা জরুরি।
📰 বিস্তারিত
মস্তিষ্কে টিউমার ও ক্যানসারের চিকিৎসা থেকে ফিরে এসেছেন অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। তিনি বলেছেন, সৃষ্টিকর্তার কৃপায় এখন অনেকটাই ভালো আছেন। স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া, হালকা ব্যায়াম ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারছেন। তবে অস্ত্রোপচারের পর তাঁকে মাথার ডান পাশের সমস্যা, বাঁ দিকে কাত হয়ে ঘুমাতে পারা, প্রচণ্ড দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও নিয়মিত বমির সমস্যায় পড়তে হয়েছিল।
গত বছরের ডিসেম্বরে একটি নাটকের শুটিং চলাকালে হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয়েছিল তাঁর। অসুস্থতা নিয়ে চার দিন কাজ চালিয়ে যান। পঞ্চম দিনে বমির সমস্যা বেড়ে গেলে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরদিন পরীক্ষায় মস্তিষ্কে টিউমার শনাক্ত হয়। প্রথমে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠার আশা করেছিলেন তিনি। কিন্তু ভারতের চেন্নাইয়ের এমজিএম হাসপাতালের অনকোলজিস্ট তাঁকে জানান, তাঁর আয়ু হয়তো আর সাড়ে চার থেকে পাঁচ বছর হতে পারে। এই খবর তাঁকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়।
অস্ত্রোপচারের আগে পরিবারের সদস্য ও সহকর্মীদের সঙ্গে বিদায়ের মতো করে কথা বলেছিলেন তিনি। পরে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের সময় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখতে হয়। জ্ঞান ফেরার পর আইসিইউর পরিবেশ দেখে আতঙ্কিত হলেও পাশে মা ও বোনকে পেয়ে সাহস ফিরে পান। অসুস্থতার পুরো সময়ে মায়ের সেবা ও পরিবারের সদস্যদের প্রার্থনা তাঁকে মানসিক শক্তি জুগিয়েছে।
প্রথম শুটিংয়ে পরিচালক ইকসান রনি, ক্যামেরাম্যান ও প্রযোজনা দলের সদস্যরা তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সহযোগিতা করেছেন। তবে এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি তিনি। চলমান কেমোথেরাপির কারণে শুটিং করলে শারীরিক জটিলতা বাড়তে পারে বলে চিকিৎসকেরা শুরুতে কাজে ফেরার অনুমতি দিতে চাননি। পরে অনুরোধের পর একটি নাটকে অভিনয়ের অনুমতি পান। এখনো তাঁর বাকি দুই মাসের কেমোথেরাপি। চিকিৎসা শেষ হলে এমআরআই ও সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে মস্তিষ্কের টিউমারের বর্তমান অবস্থা পরীক্ষা করা হবে।
"রোগের নাম শুনেই কেউ মানসিকভাবে ভেঙে না পড়তে পারে। মনোবল ধরে রাখা, চিকিৎসকের নির্দেশনা মেনে চলা, সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা এবং পরিবারের সঙ্গে ইতিবাচক সময় কাটানো জরুরি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (শুটিং), চেন্নাই (চিকিৎসা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তানিয়া বৃষ্টি, ইকসান রনি, মা ও বোন, সহকর্মীরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ মাস (বিরতি), ৫ বছর (বাকি জীবন), ২ মাস (কেমোথেরাপি বাকি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!