📌 স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদসহ ৮ পুলিশ কর্মকর্তাকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার দায়ে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে। হারুন অর রশীদকে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কার্যকর বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদসহ আটজন পুলিশ কর্মকর্তাকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার দায়ে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে। এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা শনিবার (৩১ অক্টোবর) দেওয়া হয়। হারুন অর রশীদকে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কার্যকর বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে, যা আগে থেকে সাময়িক বরখাস্তের পর্যায়ে ছিল।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদকে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কার্যকর বরখাস্ত করা হয়েছে।
- 📌 হারুন অর রশীদকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার দায়ে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ অনুযায়ী শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
- 📌 পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠির পর ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।
- 📌 ২৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি বরখাস্তের সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেন।
- 📌 হারুন অর রশীদসহ আরও সাতজন পুলিশ কর্মকর্তাকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার দায়ে চাকরি চলে যায়।
- 📌 লক্ষ্মীপুরের সাবেক পুলিশ সুপার তারেক বিন রশিদসহ রাজশাহী রেঞ্জের কর্মকর্তা আনিসুর রহমান, ট্যুরিস্ট পুলিশের শ্যামল কুমার মুখার্জী, এস এম জাহাঙ্গীর হাছান, মনিরুজ্জামান সরকার ও ফারহানা তাসকিনকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
- 📌 ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের সাবেক সহকারী কমিশনার কাজী মিজানুর রহমানকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
📰 বিস্তারিত
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, হারুন অর রশীদ ডিএমপিতে অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে কর্মরত থাকাকালে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ‘পলায়ন’ অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮-এর ৩(গ) বিধি অনুযায়ী তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে হারুন অর রশীদ কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। ওই তারিখ থেকে তাঁর চাকরি হতে বরখাস্তের আদেশ কার্যকর হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, হারুন অর রশীদকে কর্মস্থলে ফিরে আসার জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি প্রতিক্রিয়া দেখাননি। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। এরপর ২০২৬ সালের ১৫ এপ্রিল তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো লিখিত জবাব দেননি। গত ২২ জুন একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয় এবং ৬ আগস্ট জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে তাঁর বিরুদ্ধে কর্মস্থল ত্যাগের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
২০ আগস্ট তাঁকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। সেটিও তিনি উপেক্ষা করেন। বরখাস্তের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) মতামত দেন। ১ অক্টোবর পিএসসি তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সুপারিশ করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বিভাগীয় মামলার নথিপত্র, তদন্ত প্রতিবেদন ও পিএসসির মতামত পর্যালোচনা করে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি এই সিদ্ধান্তে অনুমোদন দেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, হারুন অর রশীদসহ আরও সাতজন পুলিশ কর্মকর্তাকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার দায়ে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন রাজশাহী রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি আনিসুর রহমান, ট্যুরিস্ট পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি শ্যামল কুমার মুখার্জী, লক্ষ্মীপুরের সাবেক পুলিশ সুপার তারেক বিন রশিদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম জাহাঙ্গীর হাছান, ডিএমপির সহকারী পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান সরকার ও ফারহানা তাসকিন। এছাড়াও, ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের সাবেক সহকারী কমিশনার কাজী মিজানুর রহমানকে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
"২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে হারুন অর রশীদ কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। ওই তারিখ থেকে তাঁর চাকরি হতে বরখাস্তের আদেশ কার্যকর হবে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা মহানগর পুলিশ সদর দপ্তর, রাজশাহী রেঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, ট্যুরিস্ট পুলিশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হারুন অর রশীদ, আনিসুর রহমান, শ্যামল কুমার মুখার্জী, তারেক বিন রশিদ, এস এম জাহাঙ্গীর হাছান, মনিরুজ্জামান সরকার, ফারহানা তাসকিন, কাজী মিজানুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ (পুলিশ কর্মকর্তা), ২০২৪ (৬ আগস্ট), ২০২৬ (৩১ অক্টোবর), ১৫ (এপ্রিল), ২২ (জুন), ২০ (আগস্ট), ১ (অক্টোবর), ২৫ (অক্টোবর)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!