📌 বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা লাভের বদলে আয়ের ওপর ৩০% কমিশন নিচ্ছিলেন। সরকারি অডিটে ধরা পড়ার পর স্থায়ী কমিটি আদায়ের নির্দেশ দিয়েছে এবং বাড়তি টাকা ফেরত পাওয়ার ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল (সাবেক পিজি হাসপাতাল) এর বিশেষজ্ঞরা সরকারের নিয়মের বিপরীতে লাভের বদলে আয়ের ওপর কমিশন নিচ্ছিলেন। এই অনিয়মটি সরকারি অডিটে ধরা পড়ার পর স্থায়ী কমিটি বাড়তি টাকা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছে এবং বর্তমান নিয়মে কমিশন নেওয়া হচ্ছে কি না তা মাসিক প্রতিবেদন দিতে বলেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৩০% কমিশন অনিয়ম: বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা লাভের বদলে আয়ের ওপর ৩০% কমিশন নিচ্ছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, ১০০ টাকা আয়ে ৯০ টাকা ব্যয় হলে, তারা ১০০ টাকার ওপর কমিশন নিচ্ছিলেন, যা সরকারি নিয়মের বিপরীতে।
- 📌 বাড়তি টাকা ফেরতের নির্দেশ: সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি নির্দেশ দিয়েছে যে, বাড়তি টাকা যেকোনোভাবে আদায় করতে হবে। এই টাকাগুলো অনিয়মের কারণে অর্জিত বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
- 📌 মাসিক প্রতিবেদন দিতে হবে: বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রতি মাসে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে যে, কত টাকা আদায় হয়েছে এবং বর্তমান নিয়মে কমিশন নেওয়া হচ্ছে কি না।
- 📌 তদন্ত কমিটি গঠন: কমিটির সদস্য মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যারা সরেজমিনে তদন্ত করবেন এবং এক সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দেবেন।
- 📌 অগ্রাধিকার ভিত্তিক অডিট: সরকারি হিসাব কমিটি নির্দেশ দিয়েছে যে, বড় বড় দুর্নীতি ও অনিয়মগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের আটটি অডিট আপত্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কমিটির সভাপতি ও বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানান, কিছু আপত্তি সেটেল করা হয়েছে, আর কিছু আপত্তি সম্পর্কে আরও তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা লাভের ওপর কমিশন নেওয়ার পরিবর্তে আয়ের ওপর কমিশন নিচ্ছেন। উদাহরণস্বরূপ, ১০০ টাকা আয়ে ৯০ টাকা ব্যয় হলে, তারা ১০০ টাকার ওপর কমিশন নিচ্ছেন।’
তাহের আরও বলেন, ‘বেশ কয়েক কোটি টাকা এ রকম অনিয়মে আদায় হয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছি যে, এই টাকা যেকোনোভাবে আদায় করতে হবে। কারণ এটি স্পষ্ট অনিয়ম। আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আদায় করবে এবং প্রতি মাসে আমাদের কাছে প্রতিবেদন দেবে। একই সঙ্গে বর্তমান নিয়ম অনুসারে কমিশন নেওয়া হচ্ছে কি না, সেটার প্রতিবেদন প্রতি মাসে আমাদের কাছে পাঠাবে।’
তাহের বলেন, ‘এ কমিটির প্রধান কাজ হচ্ছে সরকারের বর্তমান এবং অতীতের ব্যয়ের অডিট আপত্তি নিয়ে আলোচনা করা এবং দুর্নীতি থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘কমিটি কোয়াসি-জুডিশিয়াল (আধা-বিচার বিভাগীয়) কমিটি হিসেবে কাজ করবে। আমাদের সুপারিশগুলো মন্ত্রণালয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।’
তাহের আরও জানান, ‘আমরা ২০২৪-২৫ সালকেই অধিকতর টার্গেট করব। বর্তমান সরকারের সময়ের কিছু বিষয় অডিটে আনব। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অডিট করার জন্য চাচ্ছি। সেই হিসেবে সিএজিকে নির্দেশনা দিয়েছি যে, বড় বড় দুর্নীতি ও অনিয়মগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’
"১০০ টাকা আয়ে ব্যয় হয়েছে ৯০ টাকা। তাহলে তাঁরা কমিশন পাবেন ১০ টাকার ওপর। কিন্তু তাঁরা ১০ টাকার ওপর না নিয়ে ১০০ টাকার ওপর কমিশন নিয়ে গেছেন।"
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য আমানউল্লাহ আমান, এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, এ কে এম ফজলুল হক মিলন, মাহাবুবুর রহমান, হাফিজ ইব্রাহীম, এসকে আজিজুল বারী, মনজুরুল ইসলাম, ফজলে হুদা, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, সৈয়দ জয়নুল আবেদীন এবং রুহুল আমিন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (জাতীয় সংসদ, ঢাকা)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, মাহবুবুর রহমান, ফজলে হুদা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০% (কমিশন), ১০০ টাকা (আয়), ৯০ টাকা (ব্যয়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!