📌 নেদারল্যান্ডসের বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে জানিয়েছেন, গালাহ কাকাতুয়া পাখিরা উড়তে আনন্দ পায়। ১৭টি পাখির উপর পরিচালিত পরীক্ষায় দেখা গেছে, তারা নিয়মিত উড়তে চায় এবং উড়ার পর ইতিবাচক আচরণ দেখায়। গবেষকরা মনে করেন, উড়া তাদের স্বাভাবিক প্রয়োজন এবং আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা
নেদারল্যান্ডসের বিজ্ঞানীরা একটি আকর্ষণীয় গবেষণা প্রকাশ করেছেন যা প্রমাণ করে, গালাহ কাকাতুয়া পাখিরা উড়তে আনন্দ পায়। গবেষণায় দেখা গেছে, এই পাখিরা স্বেচ্ছায় খাঁচা ছেড়ে উড়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখায় এবং উড়ার পর ইতিবাচক আচরণ প্রদর্শন করে। গবেষণা পরিচালনা করেছেন উট্রেখট বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণবিষয়ক জীববিজ্ঞানী জর্গ মাসেন এবং তাঁর সহকর্মীরা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 নেদারল্যান্ডসের আভিফনা বার্ড পার্কে পরিচালিত গবেষণায় ১৭টি গালাহ কাকাতুয়া পাখির উড়ার প্রবণতা পরীক্ষা করা হয়
- 📌 প্রতিটি পাখি ২০ মিনিটের উড়ার সুযোগে প্রায়শই খাঁচা ছেড়ে উড়ে যায়, যা ইঙ্গিত দেয় উড়া তাদের আনন্দদায়ক অভিজ্ঞতা
- 📌 উড়ার পর পাখিগুলো বেশি খাবার খুঁজে, শরীর আঁচড়ে এবং মাথার ঝুঁটি উঁচু করে — ইতিবাচক উত্তেজনার লক্ষণ
- 📌 গবেষণায় দেখা যায়, উড়ার পর পাখিরা তাদের প্রিয় খাবার আখরোট পাওয়ার ব্যাপারে বেশি আশাবাদী হয়
- 📌 বিজ্ঞানীরা মনে করেন, উড়া গালাহ কাকাতুয়াদের স্বাভাবিক ও মৌলিক প্রয়োজন এবং প্রাণী কল্যাণে এখন এই ধরনের আচরণের সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে
- 📌 ঢাকার বায়ু দূষণ এখনও অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে, বৃষ্টির বাড়ার পরেও দূষণ মাত্রা কমেনি
📰 বিস্তারিত
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, শৈশবে আকাশে পাখিদের উড়তে দেখে জর্গ মাসেনের মনে প্রশ্ন জাগে: পাখিরা কি আনন্দের জন্যও উড়ে বেড়ায়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তিনি এবং তাঁর দল নেদারল্যান্ডসের আভিফনা বার্ড পার্কে একটি বিশেষ পরীক্ষা পরিচালনা করেন। গবেষণায় ১৭টি গালাহ কাকাতুয়া পাখিকে নিয়মিত খাঁচা থেকে বের হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। পাখিগুলো স্বেচ্ছায় সিদ্ধান্ত নিতে পারত যে, তারা উড়ে যাবে কিনা। পরীক্ষায় দেখা যায়, প্রতিটি পাখি প্রায় প্রতিদিনই ২০ মিনিটের উড়ার সুযোগে খাঁচা ছেড়ে উড়ে যায়।
গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, বন্য পরিবেশে এই পাখিরা খাবারের সন্ধানে দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দেয়। গবেষণায় দেখা যায়, উড়ার পর পাখিগুলো বেশি খাবার খুঁজে, শরীর আঁচড়ে এবং মাথার ঝুঁটি উঁচু করে — যা ইতিবাচক উত্তেজনার লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হয়। গবেষক মাইকেল মেন্ডল বলেছেন, শুধু আচরণ দেখে পাখি ‘সুখী’ কি না তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন, তবে প্রাণীদের সচেতন অনুভূতি থাকার সম্ভাবনা নিয়ে বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাচ্ছে।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, পাখিগুলোকে কয়েক দিন মুক্তভাবে উড়তে দেওয়া হলে তারা তাদের প্রিয় খাবার আখরোট পাওয়ার ব্যাপারে বেশি আশাবাদী আচরণ করে। বিপরীতে, কয়েক দিন উড়তে না দেওয়া হলে তাদের আচরণে হতাশাবাদী প্রবণতা দেখা যায়। তবে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন, উড়ার পর পাখিদের স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রায় প্রত্যাশিত পরিবর্তন পাওয়া যায়নি। তারা মনে করেন, শারীরিক পরিশ্রমের কারণে হরমোন বৃদ্ধির প্রভাব সম্ভাব্য চাপ কমার প্রভাবকে আড়াল করে থাকতে পারে।
জর্গ মাসেনের মতে, উড়া গালাহ কাকাতুয়াদের একটি স্বাভাবিক ও মৌলিক প্রয়োজন। প্রাণী কল্যাণবিষয়ক গবেষণাতেও এখন শুধু প্রাণীর কষ্ট কমানোর পরিবর্তে তাদের স্বাভাবিক ও আনন্দদায়ক আচরণ প্রকাশের সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব বাড়ছে।
অন্যদিকে, ঢাকায় বৃষ্টির পরেও বায়ু দূষণ মাত্রা কমতে দেখা যাচ্ছে না। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, আজ সকালে ঢাকার বাতাসে দূষণ সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে।
"গবেষণার ফল থেকে বলা যায়—গালাহ কাকাতুয়াদের কাছে উড়ে বেড়ানো সত্যিই আনন্দের অভিজ্ঞতা হতে পারে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নেদারল্যান্ডসের আভিফনা বার্ড পার্ক, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জর্গ মাসেন, মাইকেল মেন্ডল, বিজ্ঞানীদের দল
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭টি পাখি, ২০ মিনিটের উড়ার সুযোগ, ৮ সেপ্টেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!