📌 রাজশাহীর শরীফ আহমেদ খান আড়াই মাস কাঠমিস্ত্রির কাজ করলেন, সাত বছর কারাগারে কাটালেন খুন মামলায়, পরে চিকিৎসক হন। ৭২ বছর বয়সে বাংলাদেশ বেতার শিল্পী হন। জীবনের প্রতিটি বাঁকবদল তার কঠোর পরিশ্রম ও আত্মবিশ্বাসের গল্প বলে
রাজশাহীর শরীফ আহমেদ খান একজন সাধারণ মানুষের জীবন থেকে অসাধারণ সাফল্যের গল্প গড়ে তুলেছেন। কাঠমিস্ত্রির কাজ থেকে শুরু করে সাত বছর কারাগারে কাটানোর পর চিকিৎসক হওয়া তার জীবনের অন্যতম বিস্ময়কর বাঁক। ৭২ বছর বয়সে তিনি বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হন। তার জীবনের এই অসাধারণ যাত্রার গল্প শোনাচ্ছেন আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা ছেড়ে কাঠমিস্ত্রির কাজে লাগানো হলেন শরীফ আহমেদ খান, কিন্তু পায়ে পেরেক ঢুকে গেলে আবার পড়াশোনা শুরু করেন
- 📌 ১৯৭২ সালে বিজ্ঞান বিভাগে রাজশাহী কলেজে ভর্তি হলেও মেডিক্যালে ভর্তির জন্য মায়ের সোনার দুল বিক্রি করে দেন
- 📌 সিনেমা দেখতে গিয়ে গন্ডগোলের কারণে ১৯৭৮ সালে খুন মামলায় আসামি হন এবং মার্শাল ল কোর্টে ৭ বছর কারাগারে কাটান
- 📌 কারাগারে গুনতির সময় তাঁকে সংখ্যা ৪৫৩৩ দিয়ে ডাকা হতো এবং গায়ে কুষ্ঠ দেখা দিলেও বই পড়ার মাধ্যমে জীবনকে নতুনভাবে দেখতে শিখেন
- 📌 ১৯৯১ সালে কারাগার থেকে বেরিয়ে মেডিক্যাল পরীক্ষা শেষ করে চিকিৎসক হন এবং ৭২ বছর বয়সে বাংলাদেশ বেতারের শিল্পী হন
📰 বিস্তারিত
শরীফ আহমেদ খানের জীবনের শুরু ছিল কঠিন। তিনি রাজশাহীর হাজী মুহম্মদ মুহসীন উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। পঞ্চম থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে উঠার পরীক্ষায় তিন বিষয়ে অকৃতকার্য হন। তাঁর বাবা এমদাদ আলী খান ছিলেন কঠোর স্বভাবের। ছেলের এই ফল দেখে তিনি শরীফ আহমেদকে কাঠমিস্ত্রির কাজে লাগিয়ে দেন। আড়াই মাস এই কাজ করার পর একদিন পায়ে পেরেক ঢুকে গেল। শিশু শরীফ খুব কাতর হয়ে বাবার কাছে গিয়ে বলেন, ‘বাবা, কাঠমিস্ত্রির কাজ করতে পারব না। এখন থেকে মন দিয়ে লেখাপড়া করব।’ বাবা আবার তাকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করে দেন এবং একজন গৃহশিক্ষক নিয়োগ দেন।
শরীফ আহমেদের পড়াশোনায় আবার উন্নতি আসে। মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পাস করে তিনি বিজ্ঞান বিভাগে রাজশাহী কলেজে ভর্তি হন। ১৯৭৪-৭৬ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ফলিত রসায়ন বিভাগে পড়ার সময় তাঁর মনে হয়, চিকিৎসক হতে হবে। পরীক্ষা দিয়ে মেডিক্যালে ভর্তির সুযোগ পান। কিন্তু মায়ের সোনার দুল বিক্রি করে ভর্তি হওয়ার সময় তাঁর এক ভাই মারা যান। দশ ভাই-বোন নিয়ে মা রোকেয়া বেগম বিপাকে পড়ে যান। জন্মের ৪০ দিনের মাথায় ছোট ভাই ধনুষ্টংকারে মারা যান।
১৯৭৮ সালের একটি ঘটনা শরীফ আহমেদের জীবনকে আরো কঠিন করে তোলে। সিনেমা দেখতে গিয়ে পাঁচ বন্ধুর সঙ্গে গন্ডগোল হয়। রাতের বেলায় একজন বন্ধু খুন হন। গন্ডগোলের সূত্র ধরে শরীফ আহমেদকে প্রধান আসামি করা হয়। মার্শাল ল কোর্টে বিচার শুরু হয়। এমবিবিএস ফাইনাল পরীক্ষায় তিন বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়ায় কারাগারে চলে যান। কারাগারে তাঁকে সংখ্যা ৪৫৩৩ দিয়ে ডাকা হতো। গায়ে কুষ্ঠ দেখা দিলেও তিনি বই পড়ার মাধ্যমে জীবনকে নতুনভাবে দেখতে শিখেন।
"যিনি খুন হয়েছিলেন, তিনি কুখ্যাত সন্ত্রাসী। প্রতিপক্ষের লোকেরাই তাঁকে খুন করেছিল। সিনেমা দেখে ফেরার পথে আমার গন্ডগোল হয়েছিল, তবে মীমাংসাও হয়ে গিয়েছিল। কাকতালীয়ভাবে ওই রাতেই তিনি খুন হওয়ায় আমাকে এ মামলায় ফাঁসানো হয়।"
১৯৯১ সালে কারাগার থেকে বেরিয়ে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজে যোগাযোগ করেন। এমবিবিএস ফাইনালের বাকি পরীক্ষাগুলো দেন এবং চিকিৎসক হন। ৭২ বছর বয়সে তিনি বাংলাদেশ বেতারের তালিকাভুক্ত শিল্পী হন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শরীফ আহমেদ খান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ বছর কারাগারে, ৭২ বছর বয়সে বাংলাদেশ বেতার শিল্পী
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!