📌 দৃষ্টিহীন ওমর ফারুক মামুন (৩৬) মেহেরপুরের একজন কম্পিউটার প্রশিক্ষক। দৃষ্টিশক্তি হারানোর পরেও তিনি নিজের দক্ষতা দিয়ে ১১ বছর ধরে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। তাঁর জীবন অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার স्रोত হয়ে উঠেছে
মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা ওমর ফারুক মামুন (৩৬) দৃষ্টিহীনতা সত্ত্বেও নিজের জীবনকে একটি সাফল্যের গল্পে রূপান্তর করেছেন। তিনি এখন একজন কম্পিউটার প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দৃষ্টিশক্তি হারানোর পরেও তিনি নিজের যোগ্যতা দিয়ে অন্যদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন, যা অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার স्रोত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ওমর ফারুক মামুন (৩৬) মেহেরপুরের শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা, যিনি দৃষ্টিহীন হলেও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন ১১ বছর ধরে
- 📌 ২০০৪ সালে দৃষ্টিশক্তি হারানোর পরও তিনি ২০১২ সালে এইচএসসি এবং ২০১৮ সালে ডিগ্রি পাস করেন
- 📌 ইউটিউব এবং অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি কম্পিউটার পরিচালনা ও টাইপিং শিখেছেন
- 📌 ২০১৫ সালের ৭ জুলাই সমাজসেবা অধিদপ্তর তাঁকে খণ্ডকালীন প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়
- 📌 তাঁর প্রশিক্ষণে শিক্ষার্থীরা কী-বোর্ডের আওয়াজ শুনেই বুঝতে পারেন তিনি দৃষ্টিহীন
📰 বিস্তারিত
দৃষ্টিশক্তি হারানোর পরেও নিজের জীবনকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার গল্পটি হলো ওমর ফারুক মামুনের। তিনি মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের অবস্থা সচ্ছল হলেও নিজের পরিচয় তৈরি করার তাগিদ ছিল তাঁর। দৃষ্টিশক্তি হারানোর পরও তিনি নিজের যোগ্যতা দিয়ে অন্যদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। ওমর ফারুক মামুনের দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঘটনা ঘটে নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়। চিকিৎসা করিয়ে দেখতে পান না তিনি। ২০০৪ সালে তিনি এসএসসি পাস করেন। উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার সময় পুরোপুরি দৃষ্টিশক্তি হারান তিনি। ২০০৬ সালে তাঁর এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু দৃষ্টিশক্তি হারানোর কারণে তখন পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ বিরতির পর ২০১২ সালে তিনি এইচএসসি পাস করেন। পরে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পড়াশোনা করে ২০১৮ সালে তিনি ডিগ্রি পাস করেন।
দৃষ্টিশক্তি না থাকায় কম্পিউটার শেখা ছিল ওমর ফারুক মামুনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ইউটিউবের সহায়তায় কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেন তিনি। অনুশীলনের মাধ্যমে শেখেন টাইপিং ও কম্পিউটার পরিচালনার বিভিন্ন পদ্ধতি। ২০১৩ সালে মেহেরপুরের সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে তিনি কম্পিউটারের ওপর প্রশিক্ষণ নেন। পরে ২০১৫ সালের ৭ জুলাই সমাজসেবা অধিদপ্তর তাঁকে খণ্ডকালীন প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়। বর্তমানে তিনি মেহেরপুরের সমাজসেবা কার্যালয়ে খণ্ডকালীন কম্পিউটার প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তাঁর প্রশিক্ষণে শিক্ষার্থীরা কী-বোর্ডের আওয়াজ শুনেই বুঝতে পারেন তিনি দৃষ্টিহীন। ওমর ফারুক মামুনের প্রশিক্ষণে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও আগ্রহ দেখে সমাজসেবা কর্মকর্তা সোহেল মাহমুদ তাঁকে স্থায়ী প্রশিক্ষক হিসেবে নিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁর জীবন অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার স्रोত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
"আমি নিজের যোগ্যতা দিয়ে সমাজে একটি অবস্থান তৈরি করেছি। দৃষ্টিশক্তি হারানোর পর জীবনের বাস্তবতা এবং সেই বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে এগিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা আমার কাছে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার শিক্ষা দিয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শিবপুর গ্রাম, মুজিবনগর উপজেলা, মেহেরপুর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: ওমর ফারুক মামুন (৩৬), তৌফিকুল ইসলাম, সোহেল মাহমুদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩৬ বছর বয়স, ৭ জুলাই ২০১৫, ১১ বছর প্রশিক্ষণ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!