📌 ব্র্যাক ব্যাংক প্রথম বেসরকারি ব্যাংক হিসেবে ১০০০ কোটি টাকার তিন বছরের গ্রিন বন্ড ইস্যু করছে। এই বন্ডের অর্থ নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে ব্যবহার হবে। বন্ডটি জিরো-কুপন ধরনের, যেখানে বিনিয়োগকারীরা অভিহিত মূল্যের চেয়ে কম দামে ক্রয় করে মেয়াদপূর্তিতে পূর্ণ মূল্য পাবেন
ব্র্যাক ব্যাংক বাংলাদেশের পরিবেশবান্ধব অর্থায়নের নতুন মাইলফলক স্থাপন করছে। দেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক হিসেবে তারা ১০০০ কোটি টাকার গ্রিন বন্ড ইস্যু করার ঘোষণা দিয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণ এবং শিল্প খাতের জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধিতে অর্থায়ন করা হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১০০০ কোটি টাকা** মেয়াদী গ্রিন বন্ড ইস্যু করছে ব্র্যাক ব্যাংক — বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক
- 📌 **তিন বছর মেয়াদি জিরো-কুপন বন্ড** — বিনিয়োগকারীরা অভিহিত মূল্যের চেয়ে কম দামে ক্রয় করে মেয়াদপূর্তিতে পূর্ণ মূল্য পাবেন
- 📌 **প্রতিটি বন্ডের অভিহিত মূল্য ১০ লাখ টাকা** — বার্ষিক ডিসকাউন্ট রেট **৭.৫০%**
- 📌 **১৫ নভেম্বর ২০২৬** থেকে বন্ড ইস্যু শুরু; মেয়াদপূর্তি হবে **২০২৯ সালের ১৫ নভেম্বর**
- 📌 **বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়নি** — করপোরেট ও ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত
- 📌 **বন্ডের অর্থ ব্যবহৃত হবে** নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশবান্ধব ভবন ও শিল্প জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধিতে
- 📌 **বন্ডটি বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রিন বন্ড নীতিমালা ও আইসিএমএ-এর প্রিন্সিপলসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ**
📰 বিস্তারিত
রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও **তারেক রেফাত উল্লাহ খান** গ্রিন বন্ড চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন। তিনি বলেছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংকটি টেকসই অর্থায়নের প্রতি তাদের অঙ্গীকার আরও জোরালো করেছে। এছাড়াও, এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পরিবেশবান্ধব ও প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সক্ষম করার প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
ব্র্যাক ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, এই গ্রিন বন্ডের অর্থ নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প, পরিবেশবান্ধব ভবন নির্মাণ এবং শিল্প খাতে জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা হবে। বন্ডের কাঠামোতে প্রকল্পের ধরন, নির্বাচন প্রক্রিয়া, অর্থের ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়াও, বন্ডটি বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য গ্রিন বন্ড অর্থায়ন নীতিমালা’ এবং আন্তর্জাতিক ক্যাপিটাল মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের (আইসিএমএ) গ্রিন বন্ড প্রিন্সিপলসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বন্ডটি **জিরো-কুপন** ধরনের, অর্থাৎ কোনো নিয়মিত কুপন বা সুদ পরিশোধের ব্যবস্থা নেই। বিনিয়োগকারীরা অভিহিত মূল্যের চেয়ে কম দামে বন্ড কিনবেন এবং মেয়াদপূর্তিতে অভিহিত মূল্য পাবেন। বন্ডের অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতিটি **১০ লাখ টাকা**। বার্ষিক ডিসকাউন্ট রেট **৭.৫০%**। তবে তিন মাসের জন্য প্রযোজ্য মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের ক্রয়মূল্য আনুমানিক **৮ লাখ ৪ হাজার ৮৬১ টাকা থেকে ৮ লাখ ১৯ হাজার ৯৫৭ টাকার মধ্যে** হবে।
ব্র্যাক ব্যাংক জানিয়েছে, বন্ডটি **১৫ নভেম্বর ২০২৬** থেকে ইস্যু করা শুরু হবে এবং মেয়াদপূর্তি হবে **২০২৯ সালের ১৫ নভেম্বর**। বন্ডে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। বন্ড থেকে সংগৃহীত অর্থ ব্র্যাক ব্যাংকের মাধ্যমে যোগ্য পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে অর্থায়নে ব্যবহার করা হবে। বন্ডে বিনিয়োগ করতে **বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব** থাকা বাধ্যতামূলক। কোনো বিনিয়োগকারীর বিও হিসাব না থাকলে ব্র্যাক ব্যাংক সহায়তা করবে বলে জানানো হয়েছে।
"এ উদ্যোগের মাধ্যমে টেকসই অর্থায়নের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার আরও জোরালো হবে। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পরিবেশবান্ধব ও প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সক্ষম করার প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।"
ব্র্যাক ব্যাংক জানিয়েছে, বন্ড থেকে অর্জিত আয় **জিরো-কুপন বন্ড থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত** এবং করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। বিনিয়োগের আবেদন গ্রহণের জন্য প্রতি বুধবার নির্ধারিত সময়সীমা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। তবে নির্ধারিত দিন সরকারি ছুটি বা বাংলাদেশ ব্যাংকের ছুটির মধ্যে পড়লে তার আগের কার্যদিবসে আবেদন গ্রহণ করা হবে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও)
- 👥 মুখ্য ব্যক্তি: তারেক রেফাত উল্লাহ খান (ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও, ব্র্যাক ব্যাংক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০০০ কোটি টাকা (গ্রিন বন্ডের মোট পরিমাণ), ১০ লাখ টাকা (প্রতিটি বন্ডের অভিহিত মূল্য), ৭.৫০% (বার্ষিক ডিসকাউন্ট রেট), ১৫ নভেম্বর ২০২৬ (ইস্যু শুরু তারিখ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!