📅 ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৭:৪৪ পূর্বাহ্ণ এআই প্রযুক্তিতে যাচাই করা সর্বশেষ সঠিক বাংলা সংবাদ।
⚡ শেষ মুহূর্ত

নোয়াখালীর হাতিয়ার রেহানিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রথম জিপিএ-৫ অর্জনকারী তাসফিয়া: চাচার তত্ত্বাবধানে অসাধারণ সাফল্য

নোয়াখালীর হাতিয়ার রেহানিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রথম জিপিএ-৫ অর্জনকারী তাসফিয়া: চাচার তত্ত্বাবধানে অসাধারণ সাফল্য

📷 ছবি: Ajker Patrika

📡 নিউজ সোর্সগুলি:
🔗 আজকের পত্রিকা ↗ ⚠ একক সোর্স
ℹ️ এই প্রতিবেদনটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে পুনর্লিখিত। মূল নিউজ সোর্সগুলি নিচে উল্লেখ করা হয়েছে।

📌 নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার রেহানিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের ৩১ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জিপিএ-৫ পেয়েছেন তাসফিয়া। বাবা-মা হারানোর পর চাচার তত্ত্বাবধানে কঠোর পরিশ্রম করে এই সাফল্য অর্জন করেন তিনি। উপজেলা প্রশাসন তাঁর উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার রেহানিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন তাসফিয়া নামের এক শিক্ষার্থী। অসহায়ত্বের মধ্যেও চাচার তত্ত্বাবধানে কঠোর পরিশ্রম ও মেধার সমন্বয়ে এই অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেন তিনি। বিদ্যালয়টির ৩১ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ জিপিএ লাভ করেছেন।

🔴 মূল পয়েন্ট

  • 📌 রেহানিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের ৩১ বছরের ইতিহাসে প্রথম জিপিএ-৫ অর্জন করেন তাসফিয়া
  • 📌 তাসফিয়ার বয়স যখন ৮ বছর, তখন তাঁর বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান
  • 📌 মা তাঁদের ছেড়ে চলে যাওয়ায় অসহায় মেয়েটির দায়িত্ব নেন কৃষক চাচা মোহাম্মদ ইলিয়াস
  • 📌 তাসফিয়া নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং এসএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ জিপিএ লাভ করেন
  • 📌 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল তাঁকে উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতার আশ্বাস দেন

📰 বিস্তারিত

তাসফিয়ার জীবনে দুঃখের শুরু হয়েছিল মাত্র ৮ বছর বয়সে। তাঁর বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর তাঁর মা পরিবার ছেড়ে চলে যান। কয়েক বছরের মধ্যেই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিও হারিয়ে যান। এই অসহায়ত্বের মধ্যেও তাসফিয়া থেমে থাকেননি। তাঁর চাচা মোহাম্মদ ইলিয়াস নামের একজন কৃষক তাঁর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও চাচা তাসফিয়ার লেখাপড়ার খরচ চালিয়ে যান। অভাব-অনটনের মধ্যেও তাসফিয়া নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং শিক্ষকদের পরামর্শে নিজের কঠোর পরিশ্রমে এগিয়ে যান।

এসএসসি পরীক্ষায় অসাধারণ ফলাফল করে তাসফিয়া জিপিএ-৫ অর্জন করেন। রেহানিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের ৩১ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ জিপিএ লাভ করেছেন। ফল প্রকাশের পর আনন্দের জোয়ার বয়ে যায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। তাসফিয়ার পরিবার, শিক্ষক, সহপাঠী ও এলাকাবাসী তাঁর এই সাফল্যে উল্লসিত হন। বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা মনে করেন, তাসফিয়ার এই সাফল্য অন্য শিক্ষার্থীদেরও পড়াশোনায় উৎসাহিত করবে।

তাসফিয়ার এই অসাধারণ অর্জনের খবর উপজেলা প্রশাসনের কাছেও পৌঁছায়। তাঁকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ডাকা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল তাঁকে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে নগদ অর্থ সহায়তা, কলেজে ভর্তি সহায়তা, প্রাইভেট পড়ানো, যাতায়াত ভাড়া, পোশাক, বই-খাতা ও কলমসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

‘রেহানিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের ৩১ বছরের ইতিহাসে প্রথম জিপিএ-৫ অর্জন করেছে তাসফিয়া। তার এই সাফল্য সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক। এটি তাঁর মেধা, পরিশ্রম ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির প্রমাণ। তাঁর স্বপ্ন পূরণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। বৃত্তি প্রদানসহ সরকারের সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।’

তাসফিয়ার চাচা মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, তাঁর মেয়েকে নিজের মেয়ের মতোই লালনপালন করেছেন তিনি। তাসফিয়ার জিপিএ-৫ অর্জনে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তাঁর ভাষায়, ‘তাসফিয়া ছোটবেলা থেকেই অনেক কষ্ট করেছে। তাঁর বাবা-মা না থাকার কষ্ট আমি দূর করতে পারব না, কিন্তু তাঁকে নিজের মেয়ের মতোই রেখেছি। সে জিপিএ-৫ পাওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত। তার এই সাফল্যে আমাদের কষ্ট সার্থক হয়েছে।’

রেহানিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জগদীস চন্দ্র দাস বলেন, তাসফিয়া অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সে কখনো পড়াশোনা থেকে পিছিয়ে যায়নি। তাঁর জিপিএ-৫ অর্জন বিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। বিদ্যালয়ের ৩১ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। তাসফিয়ার এই অর্জন বিদ্যালয়ের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি দিদারুল ইসলাম সবুজ বলেন, তাসফিয়ার সাফল্যে তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত। বাবা-মা না থাকার পরও চাচার কাছে থেকে কঠোর পরিশ্রম করে জিপিএ-৫ অর্জন করা সত্যিই প্রশংসনীয়। তাঁর মতো শিক্ষার্থীদের পাশে সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদের দাঁড়ানো উচিত।’

ভবিষ্যতে শিক্ষক হতে চান তাসফিয়া। তিনি বলেন, ‘চাচা আমাকে আশ্রয় দিয়েছেন এবং পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছেন। শিক্ষকরাও সব সময় উৎসাহ দিয়েছেন। জিপিএ-৫ পেয়ে আমি খুব আনন্দিত। ভবিষ্যতে আমি শিক্ষক হতে চাই। আমার মতো যারা কষ্টের মধ্যে আছে, তাদের পাশে দাঁড়াতে চাই এবং পড়াশোনায় সহযোগিতা করতে চাই।’

📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ

  • 📍 স্থান: হাতিয়া, নোয়াখালী
  • 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: তাসফিয়া, রাসেল ইকবাল, মোহাম্মদ ইলিয়াস
  • 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩১ বছর, ৮ বছর, ৫

📡 মূল নিউজ সোর্সসমূহ

এই প্রতিবেদনটি নিচের সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। মূল সংবাদ পড়তে নিচের লিংকে ক্লিক করুন:

📤 শেয়ার করুন: 📘 Facebook 💬 WhatsApp 𝕏 Twitter 💼 LinkedIn ✈️ Telegram

💬 মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!

মন্তব্য অনুমোদনের পর প্রকাশ করা হবে। ইমেইল প্রকাশিত হবে না।
🤖