📌 সিলেটের সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের কলেজ শাখায় ২১ বছর ধরে শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। মাধ্যমিক শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্বে কলেজের ছাত্রীদের পড়ানো হচ্ছে, যা শিক্ষকদের চাপ বাড়িয়ে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা মান কমিয়ে দিচ্ছে।
সিলেটের সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের কলেজ শাখায় ২১ বছর ধরে শিক্ষক নিয়োগ হয়নি। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৯ সাল থেকে কলেজ পর্যায়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করলেও এখনও পর্যন্ত কলেজের জন্য কোনো শিক্ষক নিয়োগ করা হয়নি। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্বে কলেজের ছাত্রীদের পড়ানো হচ্ছে, যা শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষা মান বাধাগ্রস্ত করছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **১৭ বছর ধরে কলেজে শিক্ষক নিয়োগ হয়নি**: প্রতিষ্ঠানটি কলেজ শাখা চালু করলেও এখনও পর্যন্ত কোনো শিক্ষক নিয়োগ করা হয়নি। মাধ্যমিক শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্বে কলেজের ক্লাস পরিচালিত হচ্ছে।
- 📌 **শিক্ষকদের চাপ বাড়ছে**: শিক্ষকদের নিয়মিত রুটিনের বাইরে অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হয়। সপ্তাহে পাঁচ থেকে ছয়টি ক্লাস নেওয়ার পরিবর্তে, এখানে চারটি বিষয়ে ক্লাস হয়।
- 📌 **শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বঞ্চিত**: বিজ্ঞান বিভাগে প্রদর্শক না থাকায় মাধ্যমিক শিক্ষকরা ব্যবহারিক ক্লাস নেন। শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা না থাকায় সুষ্ঠু শিক্ষা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
- 📌 **অবকাঠামোগত সমস্যা**: কলেজের বিজ্ঞানাগার মাধ্যমিকের উপযোগী হওয়ায় কলেজ পর্যায়ের ছাত্রীদের জন্য সেটি কাজে আসছে না।
- 📌 **শিক্ষার্থীদের সংখ্যা**: বিদ্যালয় শাখায় বর্তমানে ১ হাজার ৮৬৭ জন ছাত্রী এবং কলেজের দ্বাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২৯৬ জন ছাত্রী পড়ছে। একাদশ শ্রেণিতে আরও ৩০০ জন ছাত্রী ভর্তি হওয়ার কথা রয়েছে।
- 📌 **শিক্ষকদের সংখ্যা**: বিদ্যালয়ে ৪৮ জন শিক্ষক কর্মরত আছেন, কিন্তু কলেজ শাখার জন্য কোনো শিক্ষক নিয়োগ করা হয়নি।
📰 বিস্তারিত
সিলেটের সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ১৯০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। ২০০৫ সালে এটি কলেজে রূপান্তরিত হলেও কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৯ সালে। প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, কলেজ শাখায় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী বা আলাদা কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ করা হয়নি। বিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই অতিরিক্ত দায়িত্বে কলেজের কাজ পরিচালনা করছেন।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জায়েদা গুলশান সিদ্দিকা প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘কলেজ পর্যায়ে শিক্ষক না থাকায় পাঠদানে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে মাধ্যমিক পর্যায়ের অনার্স-মাস্টার্সধারী শিক্ষকদের দিয়ে কলেজের ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।’ শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্বে কলেজের ক্লাস পরিচালনা করায় তাদের ওপর চাপ বাড়ছে।
গত ৩ আগস্ট সিলেট শহরের এই প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, দ্বাদশ শ্রেণির বাংলা বিষয়ে ক্লাস নিচ্ছেন বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক সালমা মনির। শ্রেণিকক্ষে মাত্র সাতজন ছাত্রী উপস্থিত ছিল। বিজ্ঞান বিভাগের ওই শ্রেণিতে মোট ছাত্রী ১৫০ জন। সালমা মনির বলেন, ‘ক্লাস শুরু হওয়ার কিছুদিন আগে হওয়ায় ছাত্রীদের উপস্থিতি কম। তবে টিফিনের পর তুলনামূলকভাবে উপস্থিতি কম থাকে।’
ইংরেজি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক ইশতিয়াক হোসেন মুনশি জানান, ‘সপ্তাহে দুই দিন পাঁচটি করে ক্লাস নিতে হয়। অন্যান্য দিন চারটি করে ক্লাস নিতে হয়। এর মধ্যে একটি কলেজ পর্যায়ের ক্লাস। টানা ক্লাস থাকায় বিরতি পাওয়ার সুযোগ হয় না। কলেজে ক্লাস নেওয়ার জন্য আলাদাভাবে একাডেমিক প্রস্তুতি নিতে হয়। মাধ্যমিকের পাশাপাশি কলেজের ক্লাসের জন্য বাসায় আলাদাভাবে প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন।’
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সিলেট অঞ্চলের পরিচালক মো. দিদার চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষক না থাকায় সুষ্ঠু ও মানসম্মত শিক্ষা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কলেজ শাখায় শিক্ষক পদায়ন না হওয়ায় ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।’ তিনি জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবহিত করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
"বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিক্ষক না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই সুষ্ঠু ও মানসম্মত শিক্ষা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিলেট, সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: জায়েদা গুলশান সিদ্দিকা (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক), সালমা মনির (জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক), ইশতিয়াক হোসেন মুনশি (সহকারী শিক্ষক), মো. দিদার চৌধুরী (মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সিলেট অঞ্চলের পরিচালক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ বছর (কলেজে শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া), ২১ বছর (কলেজ শাখা চালু), ১ হাজার ৮৬৭ জন (বিদ্যালয়ের ছাত্রী), ২৯৬ জন (দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী), ৩০০ জন (একাদশ শ্রেণির ভর্তি হওয়ার কথা), ৪৮ জন (শিক্ষক)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!