📌 মালয়েশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের সেরিয়ান শহরে ইন্দোনেশিয়ার দাবানল থেকে আসা বিষাক্ত ধোঁয়াশা জরুরি অবস্থা সৃষ্টি করেছে। বায়ুদূষণ মাত্রা ৫১২-এ পৌঁছায়, স্কুল বন্ধ, ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাসিন্দারা শ্বাসকষ্ট ও অর্থনৈতিক চাপে ভুগছেন
মালয়েশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের সেরিয়ান শহরে ইন্দোনেশিয়ার ভয়াবহ দাবানল থেকে আসা বিষাক্ত ধোঁয়াশা জরুরি অবস্থা সৃষ্টি করেছে। বায়ুদূষণ মাত্রা ৫১২-এ পৌঁছানোর পর শুক্রবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। ইন্দোনেশিয়ার কালিমান্তান প্রদেশ থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুনের ধোঁয়া মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ব্রুনেইয়ে ঢুকে পড়ছে, যার ফলে বাসিন্দাদের জীবন কষ্টে ডুবে যাচ্ছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মালয়েশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের সেরিয়ান জেলায় ইন্দোনেশিয়ার দাবানল থেকে আসা ধোঁয়াশা জরুরি অবস্থা সৃষ্টি করেছে। এপিআই মাত্রা ৫১২-এ পৌঁছায়, যা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।
- 📌 সেরিয়ান জেলা মালয়েশিয়ার প্রথম জেলা হিসেবে বায়ুদূষণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে। সারাওয়াক রাজ্যের রাজধানী কুচিং থেকে ৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত সেরিয়ান শহর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত।
- 📌 ৬৪ বছর বয়সী অবসরপ্রাপ্ত টেকনিশিয়ান আনাক কুনক বলেন, ‘ধোঁয়াশা থাকলে আমি বাড়ির বাইরে খুব কমই যাই। শ্বাসকষ্ট ও গলাব্যথায় ভুগছি।’ তার বাড়ি থেকে ইন্দোনেশিয়ার আগুনের দূরত্ব মাত্র ১০ কিলোমিটার।
- 📌 ৫৩ বছর বয়সী ডুরিয়ান বিক্রেতা সিয়াও থিয়েন হা বলেন, জরুরি অবস্থায় তার আয় ৫০% কমে গেছে। সপ্তাহের শেষে তিনি ৪০০ রিঙ্গিত (৯৮ ডলার) আয় করতেন, এখন অর্ধেকেরও কম।
- 📌 সেরিয়ান জেলার ৬৪৭টি স্কুল অন্তত সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। শিক্ষক সিস্টার ইরমিনা পিটার বলেন, ‘আমরা কোভিড লকডাউনের মতো অবস্থায় ফিরে যেতে চাই না।’
📰 বিস্তারিত
মালয়েশিয়ার সেরিয়ান শহরে তীব্র ধোঁয়াশা ঘন হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি থেকে শুরু করে সড়কের পাশের দোকানপাটও ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে। ইন্দোনেশিয়ার ভয়াবহ দাবানল থেকে সীমান্ত পেরিয়ে আসা বিষাক্ত ধোঁয়ায় বায়ুমানের জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় কয়েক সপ্তাহ ধরে ধোঁয়াশা ছড়িয়ে আছে। ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ আগুন নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে, কিন্তু বোর্নিও ও সুমাত্রার বিস্তীর্ণ এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। সেই আগুনের ধোঁয়া প্রতিবেশী মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ব্রুনেইয়ে ঢুকে পড়ছে।
সারাওয়াকের রাজধানী কুচিং থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত সেরিয়ান শহরে বাসিন্দারা সাপ্তাহিক ছুটির স্বাভাবিক কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে ঘন ধোঁয়ায় তাদের বাইরে যাওয়ার সময় কমিয়ে আনতে হচ্ছে। স্থানীয় অবসরপ্রাপ্ত টেকনিশিয়ান আনাক কুনক বলেন, ‘এমন ধোঁয়াশা থাকলে আমি খুব কমই বাড়ির বাইরে যাই। শুধু খাবার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে বের হই। এরপর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি ফিরে যাই।’ তিনি এএফপিকে বলেন, চলমান ধোঁয়াশার কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি শ্বাসকষ্ট ও গলাব্যথায় ভুগছিলেন। শনিবার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যান তিনি। তবে বাড়িতেও ধোঁয়া থেকে রেহাই পাওয়া কঠিন।
সেরিয়ান শহরের বাজারগুলোতে স্বাভাবিক ব্যস্ততা কমে গেছে। ডুরিয়ান বিক্রেতা সিয়াও থিয়েন হা বলেন, জরুরি অবস্থার কারণে তার জীবিকায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। তিনি বলেন, ‘আমার আয় ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আমি উদ্বিগ্ন। তবে ডুরিয়ানের মৌসুমে আয় করার সুযোগ থাকে। তাই পরিবারের ভরণপোষণের জন্য ডুরিয়ান নিয়ে এখানে বিক্রি করা ছাড়া আমার কোনো উপায় নেই।’ শুক্রবারের জরুরি অবস্থা ঘোষণার ফলে সেরিয়ান জেলার প্রায় ৬৪৭টি স্কুল অন্তত সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। জেলাটির জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার।
"আমরা চাই না স্কুলগুলো কোভিড-১৯ লকডাউনের সময়ের মতো হয়ে যাক। তখন আমরা তেমন কিছুই করতে পারিনি। আমরা স্বাভাবিক রুটিনে চলতে পারছি না। এটি আমাদের ওপর খুব বেশি প্রভাব ফেলছে।"
সিস্টার ইরমিনা পিটার, সেন্ট জোসেফ প্রাইভেট প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক বলেন।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সেরিয়ান জেলা, মালয়েশিয়ার বোর্নিও দ্বীপ, সারাওয়াক রাজ্য
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আনাক কুনক (৬৪), সিয়াও থিয়েন হা (৫৩), সিস্টার ইরমিনা পিটার (৬৪)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫১২ (এপিআই মাত্রা), ৬৫ কিলোমিটার (কুচিং থেকে দূরত্ব), ১০ কিলোমিটার (আগুনের দূরত্ব), ৬৪৭টি স্কুল বন্ধ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!