📌 অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সময়ে ভর্তি হওয়া স্বামী-স্ত্রী জুটি সিনায়াত মাহজাবীন ও আবির হাসান আলাদা গবেষণা ক্ষেত্রে কাজ করলেও একে অপরকে সমর্থন করে। সিনায়াত ফার্মাকোলজিতে গবেষণা করছেন ক্যালসিয়ামের ভূমিকা নিয়ে, আবির বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কারের পথ খুঁজছেন
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে একই সময়ে পড়াশোনা করার স্বপ্ন পূরণ করে দু’জন বাংলাদেশি তরুণ স্বামী-স্ত্রী জুটি। সিনায়াত মাহজাবীন ও আবির হাসান দু’জনই আলাদা বিষয়ে গবেষণা করলেও একে অপরকে সমর্থন করে পাশাপাশি এগিয়ে চলেছেন। তাদের এই যাত্রার গল্পে ছিল স্বপ্নের সমন্বয়, পরিশ্রম ও একে অপরকে সাহায্য করার বন্ধুত্ব।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 স্বামী-স্ত্রী জুটি সিনায়াত মাহজাবীন ও আবির হাসান একই সময়ে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন, যেখানে সিনায়াত ফার্মাকোলজি ও আবির জননীতি বিষয়ে গবেষণা করেন।
- 📌 আবির বিশ্বব্যাংকে কাজের প্রস্তাব পেলেও অক্সফোর্ডে ভর্তি এক বছর পিছিয়ে দেন, সিনায়াতকে উৎসাহিত করে অক্সফোর্ডে আবেদন করতে।
- 📌 সিনায়াত অক্সফোর্ডের পাশাপাশি ডেনিশ সরকারের বৃত্তি নিয়ে কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়েও ভর্তি হন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত অক্সফোর্ডে থাকার সিদ্ধান্ত নেন স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসাথে পড়াশোনা করার জন্য।
- 📌 সিনায়াতের গবেষণা শরীরের কোষে ক্যালসিয়ামের সংকেত প্রক্রিয়া নিয়ে, যা ভবিষ্যতে ওষুধ তৈরিতে কাজে লাগতে পারে। আবিরের গবেষণা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের বৈচিত্র্য নিয়ে।
- 📌 দু’জন নিজেদের পথে স্বাধীনতা দিয়েই পাশাপাশি থাকার চেষ্টা করেন, একে অপরকে নিজের সাফল্যে অংশীদার করে তোলেন না।
📰 বিস্তারিত
২০১৫ সালে বিবাহিত হওয়া সিনায়াত ও আবিরের পড়াশোনার বিষয় আলাদা হলেও তাদের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন একই ছিল। সিনায়াত ঢাকার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে ফার্মাসিউটিক্যাল সায়েন্সেসে স্নাতক হন, আবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক। দু’জনই বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের স্বপ্ন দেখেছিলেন।
অক্সফোর্ডে যাওয়ার প্রথম সুযোগ পান আবির। তিনি জননীতি বিষয়ে স্নাতকোত্তর করার জন্য অক্সফোর্ডে ভর্তি হন। একই সময়ে বিশ্বব্যাংকে কাজের প্রস্তাবও পান তিনি। কিন্তু পেশাগত সুযোগটি গ্রহণ না করে তিনি সিনায়াতকে অক্সফোর্ডে আবেদন করতে উৎসাহিত করেন। সিনায়াতও অক্সফোর্ডের পাশাপাশি কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়েও আবেদন করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসাথে থাকার জন্য অক্সফোর্ডে থাকার সিদ্ধান্ত নেন।
অক্সফোর্ডে পড়াশোনা করার সময় দু’জন আলাদা বিষয়ে কাজ করলেও দিন শেষে একে অপরকে অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতেন। সিনায়াতের গবেষণার জগৎ ছিল ফার্মাকোলজি ও কোষের সংকেত প্রক্রিয়া, আবিরের ছিল বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সংস্কার ও রপ্তানি খাতের বৈচিত্র্য। সিনায়াত বলেন, ‘আমরা একে অপরকে নিজের পথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করিনি, বরং দু’জনের আলাদা পথকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েই পাশাপাশি থাকার চেষ্টা করেছি।’
"আমাদের সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আমরা একে অপরকে নিজের পথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করিনি; বরং দু’জনের আলাদা পথকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েই পাশাপাশি থাকার চেষ্টা করেছি।"
অক্সফোর্ডের পর সিনায়াতের গবেষণার পথ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ে যায়। দেশে ফিরে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সময় গবেষণার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়ে। পরে ইউসুফ জামিল বৃত্তি নিয়ে ফার্মাকোলজিতে পিএইচডি করেন। সিনায়াতের গবেষণা ছিল শরীরের কোষে ক্যালসিয়ামের সংকেত প্রক্রিয়া নিয়ে, যা ভবিষ্যতে ওষুধ তৈরিতে কাজে লাগতে পারে। আবিরের গবেষণা ছিল বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের বৈচিত্র্য নিয়ে, কীভাবে দেশটি শুধু তৈরি পোশাকের উপর নির্ভর না করে নতুন শিল্প খাত তৈরি করতে পারে।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় (যুক্তরাজ্য), ঢাকা (বাংলাদেশ), কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় (যুক্তরাজ্য)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: সিনায়াত মাহজাবীন, আবির হাসান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০১৫ (বিবাহের বছর), ইউসুফ জামিল বৃত্তি (পিএইচডি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!