📌 চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ২০১০ সালের ২৪ জন থেকে বর্তমানে ১২৬ জন বৃত্তি নিয়ে বিদেশে পড়তে যাচ্ছেন। এর মধ্যে ৫৬ জন যুক্তরাষ্ট্রে পড়ার জন্য যাচ্ছেন এবং প্রায় ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী নারী। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থীরা এখন আর একাকী নয়, মানবিক ও ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরাও আন্তর্জাতিক বৃত্তি পাচ্ছেন
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ১৬ বছরে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগে বিপ্লব সৃষ্টি করেছে। ২০১০ সালে মাত্র ২৪ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি নিয়ে বিদেশে পড়তে যেতেন, কিন্তু বর্তমানে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৬ জনে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন ৫৬ জন, যা গত ১৬ বছরে ৫ গুণ বৃদ্ধি। এছাড়া প্রায় ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী নারী, যা শিক্ষা ক্ষেত্রে নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০১০ সালে ২৪ জন থেকে বর্তমানে ১২৬ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি নিয়ে বিদেশে পড়তে যাচ্ছেন — ৫ গুণ বৃদ্ধি
- 📌 যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন ৫৬ জন শিক্ষার্থী, যা ২০১৯ সালের মাত্র ৫ জন থেকে বেড়েছে
- 📌 প্রায় ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী নারী, যা বিদেশে উচ্চশিক্ষায় নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণকে দৃঢ় করেছে
- 📌 বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থীরা এখন আর একাকী নয় — মানবিক, ব্যবসায় প্রশাসন ও সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরাও বৃত্তি পাচ্ছেন
- 📌 জিনপ্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগ থেকে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী বিদেশে যাচ্ছেন — প্রায় ৩৫ শতাংশ
- 📌 ইউরোপের মধ্যে জার্মানি, সুইডেন, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য ও ফিনল্যান্ড শিক্ষার্থীদের পছন্দের গন্তব্য
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাপত্র প্রকাশের হার বেড়েছে — ২০২৫ সালে স্কোপাসে ৬১৫টি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে
📰 বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রবণতা ১৬ বছরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখিয়েছে। ২০১০ সালে মাত্র ২৪ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি নিয়ে বিদেশে পড়তে যেতেন, কিন্তু বর্তমানে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৬ জনে। এর মধ্যে ৫৬ জন যুক্তরাষ্ট্রে পড়ার জন্য যাচ্ছেন, যা ২০১৯ সালের মাত্র ৫ জন থেকে বেড়েছে। কোভিড-পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আবেদনপ্রক্রিয়া সহজ করে দেওয়ার কারণে এই প্রবণতা বাড়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের গবেষণা অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং বৃত্তি সম্পর্কে তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগও বাড়িয়েছে এই প্রবণতা।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভাগের শিক্ষার্থীরাই একসময় বিদেশে বেশি পড়তেন, কিন্তু এখন মানবিক, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রশাসন ও অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত আন্তর্জাতিক বৃত্তি পাচ্ছেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, অর্থনীতি, ব্যবসায় প্রশাসন, মানবসম্পদ ও ব্যবস্থাপনা, মার্কেটিং এবং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। বিজ্ঞানভিত্তিক বিভাগগুলোর মধ্যে জিনপ্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগ থেকে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী বিদেশে যাচ্ছেন — প্রায় ৩৫ শতাংশ। এরপর রয়েছে রসায়ন, ফরেস্ট্রি, ফলিত রসায়ন, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশলসহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির নানা বিভাগ।
শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩০ শতাংশ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন। ইউরোপের মধ্যে জার্মানি, সুইডেন, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাজ্য ও ফিনল্যান্ড শিক্ষার্থীদের পছন্দের গন্তব্য। ইউরোপের পর পছন্দের তালিকায় আছে চীন, মালয়েশিয়া, কোরিয়া ও জাপান। অস্ট্রেলিয়াও শিক্ষার্থীদের অন্যতম গন্তব্য। আন্তর্জাতিক বৃত্তি অর্জনের ক্ষেত্রেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাফল্য বেড়েছে। নিয়মিতই ফুলব্রাইট, কমনওয়েলথ, অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস, জাপানের মেক্সট, ইরাসমাস মুন্ডুস, মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল স্কলারশিপ, জার্মানির ডিএএডি ও সুইডিশ ইনস্টিটিউট স্কলারশিপের মতো বৃত্তি পাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বেড়েছে। ২০১০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এসব বিষয়ে প্রতিবছর গড়ে এক-দুজন শিক্ষার্থী বিদেশে যেতেন, কিন্তু এখন সংখ্যাটা ১০-এর বেশি। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে। যেমন, সংগীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মিশকাতুল মমতাজ যুক্তরাষ্ট্রের সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কে পড়তে যাচ্ছেন। দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শাহ্ জুলকার নাঈনও বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন। পালি বিভাগের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একজন শিক্ষার্থী নীলা রাখাইন যুক্তরাষ্ট্রের ক্লেমসন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার জন্য যাচ্ছেন। বাংলা বিভাগ থেকেও প্রথমবারের মতো একজন শিক্ষার্থী জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।
"বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভাগের শিক্ষার্থীরাই একসময় বিদেশে বেশি পড়তেন, কিন্তু এখন মানবিক, সমাজবিজ্ঞান, ব্যবসায় প্রশাসন ও অন্যান্য বিভাগের শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত আন্তর্জাতিক বৃত্তি পাচ্ছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিক্ষার্থীরা, শিক্ষকরা (মিশকাতুল মমতাজ, শাহ্ জুলকার নাঈন, নীলা রাখাইন)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২৬ জন (বিদেশে পড়তে যাচ্ছেন), ৫৬ জন (যুক্তরাষ্ট্রে), ৫৫% (নারী শিক্ষার্থী), ৩৫% (জিনপ্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!