📌 রাষ্ট্রপতির আদেশে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ২০ কর্মকর্তার শাস্তি বাতিল করা হয়েছে। তারা ২০২৫ সালের রাজস্ব আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পর বদলি আদেশ ছিঁড়ে ফেলার কারণে শাস্তি পেয়েছিলেন, কিন্তু মার্জনা আবেদনে রাষ্ট্রপতি আপিল মঞ্জুর করে দণ্ড বাতিলের আদেশ দিয়েছেন
রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর ২০ কর্মকর্তার শাস্তি বাতিল করা হয়েছে। এনবিআরের কর্মকর্তারা ২০২৫ সালের রাজস্ব সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পর সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের কারণে শাস্তি পেয়েছিলেন। কিন্তু তাদের মার্জনা আবেদনে রাষ্ট্রপতি আপিল মঞ্জুর করে দণ্ডাদেশ বাতিলের আদেশ প্রদান করেছেন। অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) ইতিমধ্যে শাস্তি মওকুফের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 রাষ্ট্রপতির আদেশে এনবিআরের ২০ কর্মকর্তার শাস্তি বাতিল — তাদের মধ্যে কমিশনার জাকির হোসেন (চলতি দায়িত্বে) ও অতিরিক্ত কর কমিশনার হাছান তারেক রিকাবদারসহ ১৮ জন অন্য কর্মকর্তা
- 📌 ২০২৫ সালের জুন মাসে রাজস্ব সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়ার পর তাদের বদলি আদেশ ছিঁড়ে ফেলা এবং সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের কারণে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল
- 📌 শাস্তি হিসেবে সাময়িক বরখাস্ত, বেতন গ্রেড অবনমনসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু মার্জনা আবেদনে রাষ্ট্রপতি আপিল মঞ্জুর করে দণ্ড বাতিলের আদেশ দিয়েছেন
- 📌 ২০২৫ সালের ১২ মে রাজস্ব নীতি অধ্যাদেশের বিরোধিতা করে প্রায় দেড় মাস জুড়ে আন্দোলন চালিয়ে রাজস্ব খাত স্থবির হয়ে পড়ে, দেশের শুল্ক-কর কার্যালয়ে কাজ বন্ধ হয়ে যায়
- 📌 কর্মকর্তারা ব্যবসায়ীদের মধ্যস্থতায় আন্দোলন স্থগিত করলেও পরে বরখাস্ত, বদলিসহ নানা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল
📰 বিস্তারিত
২০২৫ সালের জুন মাসে রাজস্ব সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়া এনবিআরের ২০ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছিল। তারা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের কারণে শাস্তি পেয়েছিলেন। তাদের মধ্যে কমিশনার জাকির হোসেন (চলতি দায়িত্বে), অতিরিক্ত কর কমিশনার হাছান তারেক রিকাবদার, মির্জা আশিক রানা, চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী, সুলতানা হাবীব, মুরাদ আহমেদ, সিফাত ই মরিয়ন, আ আ আমীমুল ইহসান, সাধন কুমার কুণ্ডু, যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন, মামুন মিয়া, মাসুমা খাতুন, মোরশেদ উদ্দীন খান, সানোয়ারুল কবির, উপ কর কমিশনার জিল্লুর রহমান, ইমাম তৌহিদ হোসেন, সাইদুল ইসলাম, শাহাদাৎ জামিল, রাজস্ব কর্মকর্তা সবুজ মিয়া ও শফিউল বশর।
২০২৫ সালের ১২ মে রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারির পর এর বিরোধিতা করে প্রায় দেড় মাস জুড়ে আন্দোলন চালিয়ে গিয়েছিলেন এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ওই বছরের জুন মাসের শেষের দিকে দেশের শুল্ক-কর কার্যালয়ে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। অর্থবছরের শেষ সময়ে রাজস্ব আদায় হুমকির মুখে পড়ে। ওই সময়ে টানা কয়েক দিন রাজধানীর এনবিআরসহ দেশের সব শুল্ক-কর কার্যালয়ে কাজ বন্ধ থাকে। এনবিআর ইতিহাসে এমন কখনো হয়নি। সারা দেশে অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি মিছিল-সমাবেশ চলে। তখন স্থবির হয়ে যায় পুরো রাজস্ব খাত। একপর্যায়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যস্থতায় আন্দোলন স্থগিত করেছিলেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
আইআরডির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শাস্তি পাওয়া কর্মকর্তারা মার্জনা প্রার্থনা করে আপিল আবেদন করলে রাষ্ট্রপতি আপিল আবেদন মঞ্জুর করে দণ্ডাদেশ বাতিলের আদেশ প্রদান করেন। ১৯৭৯ সালের সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালার ৩০এ বিধির লঙ্ঘন এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮–এর বিধি (খ) অনুসারে ‘অসদাচরণ’ হিসেবে তাদের শাস্তি দেওয়া হয়েছিল।
"রাষ্ট্রপতির আদেশে এনবিআরের কর্মকর্তাদের শাস্তি বাতিল করা হয়েছে। তারা মার্জনা আবেদনে আপিল করলে রাষ্ট্রপতি আপিল মঞ্জুর করে দণ্ডাদেশ বাতিলের আদেশ প্রদান করেছেন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা (এনবিআর সদর দফতর), সারা দেশের শুল্ক-কর কার্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রাষ্ট্রপতি, এনবিআরের ২০ কর্মকর্তা (জাকির হোসেন, হাছান তারেক রিকাবদার, মির্জা আশিক রানা, চাঁদ সুলতানা চৌধুরানী, সুলতানা হাবীব, মুরাদ আহমেদ, সিফাত ই মরিয়ন, আ আ আমীমুল ইহসান, সাধন কুমার কুণ্ডু, মোনালিসা শাহরীন, মামুন মিয়া, মাসুমা খাতুন, মোরশেদ উদ্দীন খান, সানোয়ারুল কবির, জিল্লুর রহমান, ইমাম তৌহিদ হোসেন, সাইদুল ইসলাম, শাহাদাৎ জামিল, সবুজ মিয়া, শফিউল বশর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ জন কর্মকর্তা, ২০২৫ সালের জুন মাস, ১২ মে (রাজস্ব নীতি অধ্যাদেশ জারি), ৩০এ (গণমান্য বিধিমালা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!