📌 শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে দুপুরে 'ব্রো' বলার কারণে সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়, যা রাতে তুমুল মারামারিতে পরিণত হয়। দুজন শিক্ষার্থী আহত হন, তাদের মধ্যে একজনকে ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফের অনুসারীরা মারধর করে কলার ধরে নিয়ে যায়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছে
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) হল প্রাঙ্গণে দুপুরে একটি ছোটো কথা-কাটাকাটি রাতে তুমুল মারামারি ও আহতের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিজয়-২৪ হলের লিফটে ‘ব্রো’ বলার কারণে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে রাতে দুজন শিক্ষার্থী আহত হন। ঘটনার কেন্দ্রে ছিলেন অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী হোসাইন শরীফ এবং ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের ২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী রাতুল হাসান রুম্মান।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শেরেবাংলা বিশ্ববিদ্যালয়ে দুপুরে 'ব্রো' বলার কারণে শুরু হওয়া কথা-কাটাকাটি রাতে মারামারিতে পরিণত হয়, দুজন শিক্ষার্থী আহত হন
- 📌 রুম্মান দাবি করেন, শরীফের পরিচয় জানতে চাওয়ার পর তাকে মারধর করা হয় এবং কপাল কেটে যায়
- 📌 শরীফের অভিযোগ, জিব্রাইল শরীফের নেতৃত্বে ১৫ জনের একটি দল তাকে গালাগালি করে হলের বাইরে নিয়ে যায়
- 📌 রুম্মানের দলের সদস্যরা পরে জিব্রাইল শরীফের কক্ষ ভাঙচুর করেন
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আফরান আলী বলেন, ব্যাচভিত্তিক ঝামেলা হিসেবে বিষয়টি পরিষ্কার করার চেষ্টা চলছে
📰 বিস্তারিত
মঙ্গলবার দুপুরে বিজয়-২৪ হলের লিফটে রাতুল হাসান রুম্মানকে ‘হেই ব্রো, লিফটটি ধরেন’ বলে ডাকার পর হোসাইন শরীফের সাথে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। রুম্মান জানান, তিনি ক্লান্ত থাকায় শরীফকে ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ বলে ডাকার কারণে কথা-কাটাকাটি হয়। শরীফের দাবি, রুম্মান তার পরিচয় জানতে চান এবং লিফটে উঠতে বাধা দেন। রাতে বিষয়টি নিয়ে আবার তর্কাতর্কি শুরু হয়, যা মারামারি ও আঘাতের ঘটনায় পরিণত হয়।
রুম্মানের অভিযোগ, শরীফের দল তাকে বকাঝকা ও মারধর করে এবং তার কপাল কেটে যায়। অন্যদিকে শরীফ দাবি করেন, রুম্মানসহ তার দল তাকে আঘাত করে এবং নিজেকে রক্ষা করতে গিয়ে রুম্মানের কপাল কেটে যায়। শরীফ আরও দাবি করেন, জিব্রাইল শরীফের নেতৃত্বে ১৫ জন তার পথরোধ করে কলার ধরে হলের বাইরে নিয়ে যায় এবং তাকে গালাগালি করে পুলিশে দেওয়ার হুমকি দেয়া হয়।
জিব্রাইল শরীফ বলেন, তিনি হলের সামনে উপস্থিত ছিলেন এবং শুনে দেখেন তার ছোট ভাইয়ের সাথে তার সিনিয়রের কোনো বিষয় নিয়ে সমস্যা হয়েছে। তিনি বিষয়টি সমাধানের জন্য শরীফ ও তার সহপাঠীদের নিয়ে গেস্টরুমে বসতে চান। কিন্তু অনিমেশ রায়ের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর কিছু শিক্ষার্থী তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও মারামারি শুরু করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন জিব্রাইল শরীফ, মোহাইমিনুল ইসলাম ও হামিদুর রহমান হিমেল। পরে জিব্রাইল শরীফের সঙ্গে ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের হাতাহাতি হয়।
ঘটনার পর কিছু শিক্ষার্থী নবাব সিরাজউদ্দৌলা হলের জিব্রাইল শরীফের কক্ষ ভাঙচুর করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আফরান আলী জানান, বিষয়টি ব্যাচভিত্তিক ঝামেলা হিসেবে দেখা যাচ্ছে এবং আগামীকাল সবাইকে নিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
"আমি শেরেবাংলা হলের সামনে ছিলাম। হলের ভেতর হইচই শুনে সেখানে গিয়ে দেখি আমার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে তার সিনিয়রের কোনো একটি বিষয় নিয়ে সমস্যা হয়েছে। পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী শরীফ ও উপস্থিত তার ব্যাচের অন্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে হলের গেস্টরুমে বসতে চাই। এ সময় সেখানে উপস্থিত ২১ ব্যাচের অনিমেশ রায় তার ব্যাচের অন্যদের বিষয়টি জানালে কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে আমাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও একপর্যায়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, রাজধানী ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: হোসাইন শরীফ (২১ ব্যাচ), রাতুল হাসান রুম্মান (২৩ ব্যাচ), জিব্রাইল শরীফ, অনিমেশ রায়
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৮ সেপ্টেম্বর (ঘটনার তারিখ), ২১ ও ২৩ ব্যাচ, ১৫ জন (জিব্রাইল শরীফের দল), ২৪ হল
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!