📌 ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৫২.১২% পাস করেছে। শিক্ষামন্ত্রী স্বীকার করেছেন ফলাফল সন্তোষজনক নয় এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার হারও কমেছে। সরকারের নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি ও শিক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সমসাময়িক কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের এইচএসসি পরীক্ষায় অর্ধেকেরও বেশি পরীক্ষার্থী ফেল হয়েছে। দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন এই বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায়। তাদের মধ্যে মাত্র ৫২.১২% পাস করেছে, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। পাশের হার ৫২% এবং জিপিএ-৫ পাওয়ার হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 এইচএসসি পরীক্ষায় মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন, পাস করেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন (৫২.১২%)
- 📌 গত ২২ বছরের মধ্যে এবারের পাশের হার সর্বনিম্ন, জিপিএ-৫ পেয়েছেন মাত্র ৪০ হাজার ৮৪ জন
- 📌 যশোর ও বরিশাল বোর্ডে পাশের হার ৪৫% এরও কম, শতভাগ পাস করেছে মাত্র ১৩৯ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী
- 📌 সরকারের নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতিতে "কৃত্রিম জিপিএ-৫ সংস্কৃতি" থেকে বেরিয়ে এসেছে, বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন
- 📌 শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক স্বীকার করেছেন ফলাফল সন্তোষজনক নয়, কিন্তু খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে
- 📌 ১০০ জনেরও বেশি পরীক্ষককে চিহ্নিত করা হয়েছে অস্বাভাবিক নম্বর প্রদানের জন্য
- 📌 ফেল করা শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সুযোগ: সর্বোচ্চ দুইটি বিষয়ে ফেল করলে ডিসেম্বরেই পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশের এইচএসসি পরীক্ষায় অর্ধেকেরও বেশি পরীক্ষার্থী ফেল হওয়ার ঘটনা শিক্ষাবিদদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ফলাফল সন্তোষজনক নয়। তিনি উল্লেখ করেছেন, "এ বছর পাসের হার ও জিপিএ ফাইভ কিছুটা কমেছে। এটি কোনো একটি বিষয়ের ঘাটতির কারণে হয়নি। বরং সামগ্রিক শিখন পদ্ধতি, পাঠ্যবই ও শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের যে ঘাটতি রয়েছে, তা পুনর্মূল্যায়ন করে দূর করতে হবে।"
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, বর্তমান সরকার পূর্বের সরকারের "কৃত্রিমভাবে জিপিএ ফাইভ ও পাশের হার বৃদ্ধির সংস্কৃতি" থেকে বেরিয়ে এসেছে। তিনি আরও বলেছেন, এবারের পরীক্ষায় খাতা মূল্যায়ন শতভাগ নির্মোহভাবে করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের যেটা পাওয়ার কথা সেটাই পেয়েছে। তবে শিক্ষাবিদদের মতে, প্রশ্ন প্রণয়ন বা খাতা মূল্যায়নে সংকট থাকতে পারে।
শিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "নামকাওয়াস্তে মূল্যায়ন দিয়ে শিক্ষার্থীকে সন্তুষ্ট রাখার প্রবণতা থেকে বের হয়েছে বর্তমান সরকার। আমরা পরীক্ষকদের অতিরিক্ত নম্বর দিতে না করেছি। এবার তাদের বলা হয়েছে- শিক্ষার্থীরা যেটা পাওয়ার কথা সেটাই যেন পায়।" তিনি আরও জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ১০০ জনেরও বেশি পরীক্ষককে চিহ্নিত করা হয়েছে যাদের নম্বর প্রদানের পদ্ধতিতে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা গেছে।
সরকারের এই নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতির কারণে কি ফলাফল বিপর্যয়ে নেমে এসেছে? সৈয়দ আখতারুজ্জামান বলেছেন, সারা বছর ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কম বা শিখন পদ্ধতিতে ত্রুটি থাকতে পারে, যা ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন এই বিপর্যয়ের পেছনের কারণগুলো খুঁজছে।
"এ বছর পাসের হার ও জিপিএ ফাইভ কিছুটা কমেছে। এটি কোনো একটি বিষয়ের ঘাটতির কারণে হয়নি। বরং সামগ্রিক শিখন পদ্ধতি, পাঠ্যবই ও শিক্ষাব্যবস্থায় দীর্ঘদিনের যে ঘাটতি রয়েছে, তা পুনর্মূল্যায়ন করে দূর করতে হবে"
"নামকাওয়াস্তে মূল্যায়ন দিয়ে শিক্ষার্থীকে সন্তুষ্ট রাখার যে প্রবণতা ছিল সেটি থেকে বের হয়েছে এসেছে বর্তমান সরকার। আমরা পরীক্ষকদের অতিরিক্ত নম্বর দিতে না করেছি। এবার তাদের বলা হয়েছে- শিক্ষার্থীরা যেটা পাওয়ার কথা সেটাই যেন পায়"
"ইতোমধ্যে আমরা ১০০ জনেরও বেশি পরীক্ষককে চিহ্নিত করে রেখেছি। যে পরিমাণ নম্বরের পার্থক্য থাকলে একজন শিক্ষককে শাস্তির আওতায় আনা যায় সেটি নিয়ে আমরা কাজ করছি"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ড (ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, বরিশাল, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, যশোর)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী, ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন পাস, ৪০ হাজার ৮৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছেন, ১০০ জনেরও বেশি পরীক্ষক চিহ্নিত
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!