📌 ৫২ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করে জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন নীলফামারীর শেফালী বেগম। দীর্ঘ শিক্ষাবিরতি ও সংসার দায়িত্বের মাঝে জিপিএ ৪.২১ পেয়ে তিনি সাফল্যের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন
৫২ বছর বয়সে জীবনের অন্যতম চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে নীলফামারীর শেফালী বেগম এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.২১ পেয়ে সাফল্যের নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। দীর্ঘ শিক্ষাবিরতি, সংসার দায়িত্ব ও জীবনের প্রতিকূলতার মাঝে তিনি শিক্ষার বিজয়ী হয়ে উঠেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ৫২ বছর বয়সে এইচএসসি পাস: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার কালিগঞ্জ গ্রামের শেফালী বেগম ২০২৬ সালে জিপিএ ৪.২১ পেয়ে উত্তীর্ণ হন।
- 📌 ৫২টি বসন্ত পেরিয়ে শিক্ষার বিজয়: ১৯৮৫ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় সংসার দায়িত্বে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়, কিন্তু ২০২০ সালে আবার শুরু করে তিনি।
- 📌 জিপিএ ৪.২৯ পেয়ে এসএসসি পাস: ২০২৩ সালে ডোমার গোমনাতি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ থেকে জিপিএ ৪.২৯ পেয়ে এসএসসি পাস করেন।
- 📌 রাত ৯টার পর পড়াশোনা: সংসারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রাত ৯টার পর থেকে পড়াশোনা শুরু করতেন শেফালী।
- 📌 উচ্চশিক্ষা লক্ষ্যে: এবার তিনি অনার্সে ভর্তি হবার পরিকল্পনা করছেন।
📰 বিস্তারিত
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার কালিগঞ্জ গ্রামের শেফালী বেগমের জীবন একটি অদ্ভুত সাফল্যের গল্প। দীর্ঘ ৫২ বছর বয়সে তিনি এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.২১ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। শেফালী জানিয়েছেন, তাঁর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে নিজের মনোবল, স্বামী ও সন্তানের উৎসাহ এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তি।
মাত্র ১.৫ বছর বয়সে ফুফাতো ভাই মকছেদুল আলমের সঙ্গে বিয়ে হওয়ার পর ১৯৮৫ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্বামীর বাড়িতে আসার পর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু সংসার ও সন্তানের দায়িত্বের মাঝে শিক্ষার স্বপ্ন কখনো ভেঙে যায়নি তাঁর। ২০১১ সালে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য নির্বাচিত হন এবং টানা দুই মেয়াদে ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এই পদে দায়িত্ব পালন করেন।
২০২০ সালে স্বামী ও ছেলের উৎসাহে আবারও বই হাতে তুলে নেন শেফালী। ভর্তি হন ডোমার উপজেলার গোমনাতি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজে। ২০২৩ সালে জিপিএ ৪.২৯ পেয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে এসএসসি পাস করেন। এবার এইচএসসিতেও সাফল্য পেলেন তিনি।
শেফালী বলেন, ‘সংসার সামলানোর পাশাপাশি পড়ালেখা করা কঠিন ছিল। তবে প্রতিদিনের পরিশ্রম ও ধৈর্যই আমাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। কোনো প্রাইভেট শিক্ষক ছিলেন না, অনেক সময় ইংরেজি ছেলে-মেয়েদের কাছে শিখে নিয়েছি। কখন রাত ১টা–২টা বেজে যেত, টেরই পেতাম না।’
"আমার খুব ইচ্ছা ছিল উচ্চ ডিগ্রি নেওয়ার, কিন্তু পারিনি। অষ্টম শ্রেণিতে পড়াকালীন স্বামীর বাড়ি যেতে হয়। তারপর সংসার আর সন্তানদের দিকে বেশি মনোনিবেশ করেছি। তাঁদের সফলতা আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে। বয়স শুধু একটা সংখ্যা মাত্র। আমি সামনে পড়াশোনা চালিয়ে যাব, এবার অনার্সে ভর্তি হব।"
শেফালীর স্বামী মকছেদুল আলম বলেন, ‘আমরা সব সময় পাশে থেকেছি। বলেছি, ভালো ফলাফল লাগবে না, পাস করে আসো। এতে সমাজের জন্যও কিছু করা সম্ভব। সংসারের দৈনন্দিন কাজে সহযোগিতা করেছি, যাতে পড়াশোনা করতে পারে।’ শেফালীর বড় ছেলে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমি ভাগ্যবান সন্তানদের মধ্যে একজন যে তাঁর মায়ের সাফল্যে এত আনন্দিত। এই আনন্দ ভাষায় প্রকাশের মতো নয়।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা, কালিগঞ্জ গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: শেফালী বেগম, মকছেদুল আলম, আব্দুর রাজ্জাক
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫২ বছর, জিপিএ ৪.২১, জিপিএ ৪.২৯, রাত ৯টা, রাত ১-২টা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!