📌 যশোর রাজগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ ২ বছরের বিতাড়ন পর কলেজে ফিরে আসেন, কিন্তু স্থানীয়দের প্রতিবাদে লাঞ্ছিত হয়ে আবার বিদায় নিতে বাধ্য হন। কলেজের নিয়োগ বিষয়ে সংঘাতের পটভূমিতে ঘটে এই ঘটনা
যশোর রাজগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর স্থানীয়দের আন্দোলনের মুখে বিতাড়িত হন। দুই বছর পর গতকাল রোববার সকালে তিনি কলেজে ফিরে আসেন, কিন্তু স্থানীয়দের প্রতিবাদে লাঞ্ছিত হয়ে আবার বিদায় নিতে বাধ্য হন। কলেজের নিয়োগ বিষয়ে সংঘাতের পটভূমিতে এই ঘটনা ঘটে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট থেকে বিতাড়িত অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ গতকাল কলেজে ফিরে আসেন, কিন্তু স্থানীয়দের প্রতিবাদে লাঞ্ছিত হয়ে আবার বিদায় নিতে বাধ্য হন।
- 📌 অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফের দাবি, কলেজ সভাপতি মঈনুল ইসলামের চিঠিতে বলা হয়েছিল ‘কলেজে ফেরা না ফেরা আপনার ব্যক্তিগত বিষয়’।
- 📌 কলেজের নিয়োগ বিষয়ে সংঘাতের কারণে অধ্যক্ষকে ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু স্থানীয়দের প্রতিবাদে তিনি আবার বিদায় নিতে বাধ্য হন।
- 📌 অধ্যক্ষের দাবি, পুলিশ পরিদর্শক কামাল হোসেনের সঙ্গে কথা বলার পর কলেজে গিয়েছিলেন। কিন্তু লোকজন তাকে বের করে দিতে চাইলে তিনি তাকে কল করলেন, কিন্তু তিনি কল রিসিভ করেননি।
- 📌 কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান বলেন, অধ্যক্ষের ফিরে আসার পর কলেজে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
- 📌 অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
📰 বিস্তারিত
গণ-অভ্যুত্থানের পর স্থানীয়দের আন্দোলনের মুখে ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট থেকে বিতাড়িত হন রাজগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ। দুই বছরের বেশি সময় পর গতকাল রোববার সকালে তিনি কলেজে ফিরে আসেন। কিন্তু কলেজে গিয়ে তিনি লাঞ্ছিত হয়ে আবার বিদায় নিতে বাধ্য হন। অধ্যক্ষের দাবি, তিনি গত ফেব্রুয়ারি মাসে কলেজ সভাপতি মঈনুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করে কলেজে ফেরার আবেদন করেন। সাত মাস পর গত ৮ সেপ্টেম্বর তিনি একটি চিঠি পান, যেখানে বলা হয়েছিল, ‘কলেজে ফেরা না ফেরা আপনার ব্যক্তিগত বিষয়’। সভাপতির আপত্তি না থাকায় তিনি গতকাল সকালে কলেজে যান। কিন্তু শিক্ষকদের চিঠি দেখিয়ে চেয়ারে বসার পর ২০-৩০ জন লোক এসে তাকে বের করে দেন।
অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ বলেন, তিনি কলেজে যাওয়ার আগে রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক কামাল হোসেনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘যেহেতু আপনার কাছে চিঠি আছে, আপনি কলেজে থাকুন’। কিন্তু লোকজন এসে তাকে বের করে দিতে চাইলে তিনি কামাল হোসেনকে কল করলেন। কিন্তু তিনি কল রিসিভ করেননি। অধ্যক্ষের দাবি, বিষয়টি সভাপতিকে জানালে তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের সঙ্গে পরামর্শ না করে আপনি এভাবে কলেজে যাবেন কেন’। এরপর তিনি চলে আসেন।
পুলিশ পরিদর্শক কামাল হোসেন বলেন, তিনি অধ্যক্ষের কল রিসিভ করেছিলেন, কিন্তু এসব বিষয়ে কথা হয়নি। তিনি বলেন, ‘গতকাল স্টেশনে ছিলাম না। আদালতে কাজ ছিল। কোনো লিখিত অভিযোগও দেয়নি কেউ’।
অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফের বিরুদ্ধে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় একটি মামলা রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘২০২৪ সালে ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় শুনেছি আমার নামে একটি মামলা হয়েছে। এ ছাড়া আর কোনো মামলা নেই’।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান বলেন, ‘গতকাল সকালে শুনি আব্দুল লতিফ আমার চেয়ারে বসে আছেন। আমি কলেজে যাইনি। সভাপতিকে ফোনে বিষয়টি জানাই। পরে কলেজে কি হয়েছে তা জানা নেই’।
অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফের অনুসারী ছিলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য। সেই ক্ষমতাবলে তিনি রাজগঞ্জ বাজার কমিটির শীর্ষ পদেও ছিলেন। স্থানীয়দের রোষানলের কারণ হয়ে ওঠেন তিনি। অধ্যক্ষের বিদায়ের পর কলেজের শিক্ষাব্যবস্থা অনেকটা ভেঙে পড়েছে বলে জানা যায়। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান স্বীকার করেন, ‘২০২৪ সালের পর থেকে কলেজের এমন অবস্থা। এসব পরিবেশের কারণে শিক্ষার্থী হাজিরা কমে গেছে’।
"গত ৪ মার্চ ২০২৬ আপনার পত্রের মাধ্যমে জানতে পারি আপনি বর্তমান অধ্যক্ষ পদে যোগদানের আবেদন করেছেন। বিষয়টি নিয়ে কলেজে পরিচালনা পর্ষদের সভা হয়েছে। আপনি ২৯ আগস্ট ২০২৪ তারিখ থেকে অনিয়মিত ছুটি ভোগ করছেন। আপনার বিরুদ্ধে কয়েকটি ফৌজদারি মামলা আছে। এমন অবস্থায় আপনার যোগদান করা বা না করা আপনার ব্যক্তিগত বিষয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ, যশোর
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ, সভাপতি মঈনুল ইসলাম, পুলিশ পরিদর্শক কামাল হোসেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২ বছর, ৮ সেপ্টেম্বর, ১২ টা, ২০-৩০ জন, ৪ মার্চ, ২৯ আগস্ট
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!