📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের জিন্না ও আবদুল মালেকের ছবি রাখা, অনুমোদিত ছাড়াই শিক্ষক মূল্যায়ন ওয়েবসাইট চালু করা এবং স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। উপাচার্য ওবায়দুল ইসলাম ঘোষণা দিয়েছেন, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ডাকসু সংক্রান্ত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম জানান, ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্না এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি রাখা, অনুমতি ছাড়া শিক্ষক মূল্যায়ন ওয়েবসাইট চালু করা এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন — এই তিনটি ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে তিনটি বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
- 📌 ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের জিন্না ও আবদুল মালেকের ছবি রাখা ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
- 📌 অনুমতি ছাড়া শিক্ষক মূল্যায়ন ওয়েবসাইট চালু করা এবং শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের বিষয়টিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।
- 📌 ডাকসু কর্তৃক অনুমতি ছাড়া ‘নির্ভীক জুলাই’ স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী এখতিয়ারবহির্ভূত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
- 📌 উপাচার্য ওবায়দুল ইসলাম জানান, তিনি আগে থেকে এই ঘটনাগুলো সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
📰 বিস্তারিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ডাকসু সংক্রান্ত সংবাদগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন, বিধি, নীতিমালা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর অনুচ্ছেদ ২৪(এ) অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পত্তি তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সিন্ডিকেটের ওপর ন্যস্ত। তবে ডাকসু কর্তৃক স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপন এবং ছবি প্রদর্শনের বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী এখতিয়ারবহির্ভূত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষক মূল্যায়ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক বিষয়। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন নিজের উদ্যোগে পৃথক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করতে পারে না। ডাকসু কর্তৃক চালু করা ওয়েবসাইটে শিক্ষকদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের বিষয়টিকে আইন অনুযায়ী শাস্তিমূলক অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্তৃত্বকে পাশ কাটিয়ে কোনো সমান্তরাল কাঠামো বা প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে প্রশাসন।
উপাচার্য ওবায়দুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তিনি আগে থেকে এই ঘটনাগুলোর সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। তিনি জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
"ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্না এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আবদুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের বিষয়টিও ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহশালায় এমন ছবি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, সহ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, ডাকসু সংসদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: অনুচ্ছেদ ২৪(এ), ধারা ৪ নম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!