📌 ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার ছবি ভাঙেন। তিনি জিন্নাহকে 'খলনায়ক' বলে সমালোচনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং শিক্ষকরা সমালোচনা করছেন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার দুপুরে সংগ্রহশালায় এসে তিনটি ছবি ভাঙে ফেলেন। এই ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং শিক্ষকরা সংগ্রহশালার সংস্কারের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসুর সংগ্রহশালায় শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার জিন্নাহর তিনটি ছবি ভাঙে ফেলেন। তিনি বলেন, জিন্নাহকে 'খলনায়ক' এবং 'ভিলেন' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
- 📌 ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব ডাকসু নির্বাচনে সবচেয়ে প্রবীণ প্রার্থী ছিলেন। তিনি নতুন করে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন।
- 📌 সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে আবু তৈয়ব বলেন, জিন্নাহকে 'জাতীয় খলনায়ক' হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, 'তাদেরকে ইতিহাস পড়তে হবে এবং শিক্ষা নিতে হবে।'
- 📌 ডাকসুর সংগ্রহশালা সংস্কারের অংশ হিসেবে জিন্নাহর ছবি স্থান পেয়েছে, যা শিক্ষকদের সমালোচনার মুখে পড়েছে। অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধের কেন্দ্রস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জিন্নাহর ছবি থাকা অত্যন্ত দায়িত্বহীন।'
- 📌 ৭৮ সালের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা গোলাম আযমের ছবিও সংগ্রহশালায় স্থান পেয়েছে, যা শিক্ষকদের আরও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
📰 বিস্তারিত
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসুর সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার দুপুরে সংগ্রহশালায় এসে তিনটি ছবি ভাঙে ফেলেন। এই ঘটনা ঘটে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আবু তৈয়ব উত্তেজিত অবস্থায় সংগ্রহশালায় এসে প্রথমে একটি ছবি ভেঙে ফেলেন এবং পরে ফ্রেম থেকে ছবি বের করে তা ছিঁড়ে ফেলেন। তিনি আরও দুইটি ছবিও ভাঙে ফেলেন।
সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে আবু তৈয়ব বলেন, 'আপনাদের ইশতেহারে কি ছিল জিন্নাহকে নায়ক বানাবেন? জিন্নাহ-গোলাম আযম জাতীয় খলনায়ক। তারা ডাকসুর মতো জায়গায় স্থান পেতে পারে না। জিন্নাহর মতো বাজে লোক যে স্থান দেওয়া হয়েছে, এটা কি সাদিক কায়েমদের ইশতেহারে ছিল?' তিনি আরও বলেন, 'জিন্নাহর ছবি যে টাঙিয়েছে, সে সাদিক কায়েম কিংবা ফরহাদ বা অন্য কেউ হোক, সেও ভিলেন। যারা ডাকসুতে বসে জিন্নাহকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করেছে তাদেরকে বলব, ইতিহাস পড়ো এবং শিক্ষা নাও।'
আবু তৈয়ব নিজের পরিচয় জানতে চাইলে বলেন, 'আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের রানিং শিক্ষার্থী। সবাই আমার সম্পর্কে জানে। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে সবধরনের গণতান্ত্রিক লড়াই সংগ্রামে ছিলাম। দেশের প্রেক্ষাপটে আমি নতুন করে ফের পড়ার সুযোগ পাই।'
গত রোববার সংগ্রহশালার সংস্কার শেষে উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের সময় কিছু ছবি সরিয়ে নতুন করে স্থান পায় আরও কিছু ছবি। তবে জিন্নাহর ছবির স্থান পাওয়ার বিষয়টি ব্যাপকভাবে সমালোচনার মুখে পড়েছে। শিক্ষকদের মতে, শেখ মুজিবুর রহমানের কিছু ছবি ছিল, সেগুলোর মধ্যে অনেক ছবি সংস্কার শেষে স্থান পায়নি।
পরিদর্শন শেষে শিক্ষকরা সমালোচনা করেন। অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, 'বাংলাদেশের স্বাধীনতা-মুক্তিযুদ্ধের কেন্দ্রস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সেখানে কি ৫২-৭১ কিছু হয়নি? আমাদের প্রশ্ন হলো, এই জিনিসগুলো সংগ্রহশালা থেকে কোথায় গেলো? এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তো অনেক ইতিহাস রয়েছে, সেই জায়গাগুলো বাদ দিয়ে যে, আমাদের ভাষা বিরোধী যে দাঁড়িয়েছে, তাকে এভাবে স্থান দেওয়া অত্যন্ত দায়িত্বহীন।'
ছাত্র ফেডারেশনের নেতারা গোলাম আযমের ছবিও সংগ্রহশালায় স্থান দিয়েছেন। পত্রিকায় প্রকাশিত ছবিটির ক্যাপশনে লিখা ছিল, 'জনতার হাতে লাঞ্চনা: ৮১-র ১ জানুয়ারি গোলাম আযম বায়তুল মোকাররমে প্যালেস্টাইন যুদ্ধে শহীদ।'
"আমাদের প্রশ্ন হলো, এই জিনিসগুলো সংগ্রহশালা থেকে কোথায় গেলো? এই বিশ্ববিদ্যালয়ে তো অনেক ইতিহাস রয়েছে, সেই জায়গাগুলো বাদ দিয়ে যে, আমাদের ভাষা বিরোধী যে দাঁড়িয়েছে, তাকে এভাবে স্থান দেওয়া অত্যন্ত দায়িত্বহীন।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ডাকসুর সংগ্রহশালা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: আবু তৈয়ব হাবিলদার, অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, গোলাম আযম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষ, ৫২, ৭১, ৭৮, ৮১, ১ জানুয়ারি
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!