📌 রাজশাহীতে একটি শিক্ষার্থীর ফল স্থগিত রাখা হয়েছে কারণ পরীক্ষকের বাসায় গিয়ে তার উত্তরপত্রে নতুন করে লেখা হয়েছিল। শিক্ষা বোর্ডের তদন্তে এই ঘটনা প্রমাণিত হয় এবং পরীক্ষককে আজীবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে
রাজশাহীতে একটি শিক্ষার্থীর এইচএসসি ফল স্থগিত রাখা হয়েছে কারণ পরীক্ষকের বাসায় গিয়ে তার উত্তরপত্রে নতুন করে লেখা হয়েছিল। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সিদ্ধান্তে এই ঘটনার তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় মেহেদী হাসানের ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে। বোর্ডের ওয়েবসাইটে তার ফলাফলও প্রকাশিত হয়নি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মেহেদী হাসান (আইডিয়াল কলেজ, রাজশাহী) এর ফল স্থগিত রাখা হয়েছে কারণ পরীক্ষকের বাসায় গিয়ে তার উত্তরপত্রে নতুন করে লেখা হয়েছিল।
- 📌 পরীক্ষক সেকেন্দার আলী (হাজী জমির উদ্দীন সাফিনা মহিলা কলেজের ইংরেজি প্রভাষক) আজীবন উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
- 📌 ১৪ আগস্ট তারিখে মেহেদীকে পরীক্ষকের বাসায় ডেকে নিয়ে তার উত্তরপত্রে নতুন করে লেখানো হয়েছিল।
- 📌 তদন্তে দেখা যায়, প্রথমবার মূল্যায়নে ২ ও ৪ নম্বর প্রশ্ন থেকে মেহেদী কোনো নম্বর পাননি। পরে তার বাসায় ডেকে ওই প্রশ্নগুলির উত্তর নতুন করে লেখানো হয় এবং নম্বর দেওয়া হয়।
- 📌 ১৩ অক্টোবর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আগামী ২ নভেম্বর বোর্ডের পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি আলোচনা করা হবে।
📰 বিস্তারিত
মেহেদী হাসান বলেছেন, ‘ফলাফল স্থগিত। কোনো রেজাল্টই আসছে না। পাস না ফেল, তা বুঝতে পারছি না।’ রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রউফ জানান, পরীক্ষকের বাসায় গিয়ে উত্তরপত্রে পুনরায় লেখার বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে মেহেদীর ফলাফল স্থগিত রাখা হয়েছে।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা যায়, মেহেদী হাসানের ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের উত্তরপত্রে তার নিজের মোবাইল নম্বর লিখেছিলেন। ওই নম্বরে ফোন করে ১৪ আগস্ট তারকে পরীক্ষকের বাসায় ডেকে নেন সেকেন্দার আলী। অভিযোগ রয়েছে, টাকার বিনিময়ে মেহেদীকে আবার উত্তর লেখার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।
তদন্তে দেখা যায়, পরীক্ষক সেকেন্দার আলী উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে বোর্ডে জমা দিয়েছিলেন। পরে সেসব খাতা জব্দ করা হয়। খাতা পরীক্ষা করে তদন্ত কমিটি দেখতে পায়, মেহেদীকে দ্বিতীয়বার উত্তর লেখার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। উত্তরপত্রে নম্বর কাটাকাটিরও প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রথমবার মূল্যায়নের সময় ২ ও ৪ নম্বর প্রশ্ন থেকে মেহেদী কোনো নম্বর পাননি। পরে তাঁকে পরীক্ষকের বাসায় ডেকে ওই দুটি প্রশ্নের উত্তর নতুন করে লেখানো হয় এবং সেগুলোর জন্য নম্বরও দেওয়া হয়।
১৩ অক্টোবর তদন্ত কমিটি বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রউফের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ফিরতি চিঠিতে তদন্তের প্রশংসা করা হয়েছে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ২ নভেম্বর বোর্ডের পরীক্ষা শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি আলোচনা করা হবে।
"ফলাফল স্থগিত। কোনো রেজাল্টই আসছে না। পাস না ফেল, তা বুঝতে পারছি না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজশাহী, বেলপুকুর এলাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মেহেদী হাসান, সেকেন্দার আলী, অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রউফ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৪ আগস্ট, ২ ও ৪ নম্বর প্রশ্ন, ১৩ অক্টোবর, ২ নভেম্বর
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!