📌 সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জের মোন্নাফ হোসেন অভাবগ্রস্ত পরিবারের বাবা-মা নির্মাণশ্রমিক ও এনজিও কর্মীকে পেছনে রেখে দুইবার জিপিএ-৫ পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন দেখছেন। এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষাতেই তিনি সর্বোচ্চ ফল পেয়েছেন।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার মো. মোন্নাফ হোসেনের স্বপ্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে বাবা-মায়ের অভাব দূর করা। এই স্বপ্নের পথে তিনি দু’বার জিপিএ-৫ পেয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন। বাবা নির্মাণশ্রমিক এবং মা এনজিও কর্মী থাকা সত্ত্বেও মোন্নাফের পড়াশোনায় কোনো বাধা আসেনি।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 মোন্নাফ হোসেন রায়গঞ্জের বেগম নূরুণনাহার তর্কবাগীশ কলেজ থেকে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এসএসসিতেও তিনি জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ২০২৪ সালে।
- 📌 বাবা-মা নির্মাণশ্রমিক ও এনজিও কর্মী থাকা সত্ত্বেও মোন্নাফের পড়াশোনায় কোনো বাধা আসেনি।
- 📌 মোন্নাফের বাড়ি চান্দাইকোনা ইউনিয়নের সিমলা গ্রামে। পরিবারের একমাত্র মেয়ে রিশা খাতুন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণিতে ভর্তি হলেও বাবা-মা মোন্নাফের পড়াশোনার পেছনে সর্বোচ্চ উৎসর্গ করেছেন।
- 📌 বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কোচিং করতে টাকা না পাওয়ায় মোন্নাফের পরিবার অর্থনৈতিক চাপে আছেন।
- 📌 কলেজের শিক্ষক মো. ময়নুল হক মোন্নাফকে মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
📰 বিস্তারিত
মোন্নাফ হোসেনের বাবা রফিকুল ইসলাম নির্মাণশ্রমিক এবং মা মিরা খাতুন একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় আয়ার কাজ করেন। বাবার কাজের অস্থিরতা এবং মায়ের মাসিক বেতন ছয় হাজার টাকা সত্ত্বেও পরিবারটি অভাবের সংসার পরিচালনা করছে। মোন্নাফের বাবা বলেছেন, ‘কোনো দিন কাজ পাই, আবার কোনো দিন বাড়িতে বসে থাকতে হয়। অভাবের সংসার হলেও ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্ন কখনো ছাড়িনি।’
মোন্নাফের মা মিরা খাতুন বলেছেন, ‘ছেলেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করব—এটাই আমার স্বপ্ন। সংসারে অভাব-অনটন ও ঋণ থাকলেও নিজেদের প্রয়োজন কমিয়ে ছেলের পড়াশোনার পেছনে টাকা খরচ করেছি। ছেলের এই ফলাফলে আমাদের সব কষ্ট সার্থক মনে হচ্ছে।’
মোন্নাফের স্বপ্ন এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া। তিনি বলেছেন, ‘অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কোচিং করতে পারিনি। কিন্তু কোনো ভালো জায়গায় পড়ালেখার সুযোগ পেলে ভর্তি ও মাসিক খরচ জোগানো নিয়ে চিন্তায় আছি।’
"আমার বাবা-মা অনেক কষ্ট করে আমাকে পড়াশোনা করিয়েছেন। তাঁদের কষ্ট আমি কাছ থেকে দেখেছি। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেতে চাই। পড়াশোনা করে প্রতিষ্ঠিত হতে পারলে বাবা-মায়ের জন্য কিছু করতে পারব—এটাই আমার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন।"
মোন্নাফের বাবা-মা বলেছেন, তাদের একমাত্র মেয়ে রিশা খাতুনকে এসএসসি পাস করার পর অভাবের কারণে বিয়ে দিয়েছিলেন। পরে মেয়ে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। মোন্নাফের বাবা-মা উচ্ছ্বসিত, ‘যত কষ্টই হোক, ছেলেকে উচ্চশিক্ষিত হিসেবে গড়ে তুলতে চান তাঁরা।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলা, চান্দাইকোনা ইউনিয়ন, সিমলা গ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মো. মোন্নাফ হোসেন, মিরা খাতুন, রফিকুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: জিপিএ-৫ (এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায়)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!