📌 জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী গাজী ইশমাম হাসান মেক্সট বৃত্তির মাধ্যমে জাপানের সাইতামা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে যাচ্ছেন। তাঁর গবেষণার বিষয় শক্তি ব্যবস্থাপনা।
গাজী ইশমাম হাসান নামে এক শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর মেক্সট বৃত্তির মাধ্যমে জাপানের সাইতামা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর গবেষণার বিষয় হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ‘এনার্জি সিস্টেমস’।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 গাজী ইশমাম হাসান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী
- 📌 তিনি মেক্সট বৃত্তির মাধ্যমে জাপানের সাইতামা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে যাচ্ছেন
- 📌 তাঁর গবেষণার বিষয় ‘এনার্জি সিস্টেমস’
- 📌 তিনি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করেন
- 📌 এইচএসসিতেও তিনি ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল করেন
- 📌 তিনি জাবির ফটোগ্রাফিক সোসাইটিতে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন
- 📌 আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা ‘৩৫ অ্যাওয়ার্ডস ২০২১’-এ দ্বিতীয় ধাপ উত্তীর্ণ হন
- 📌 তিনি আইইএলটিএস পরীক্ষায় ব্যান্ড স্কোর ৭ অর্জন করেন
📰 বিস্তারিত
গাজী ইশমাম হাসান রাজধানী ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবার চাকরির সুবাদে শৈশব কেটেছে ঢাকার রেলওয়ে অফিসার্স কোয়ার্টারে। তিনি তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন ঢাকার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে। সেখানে এসএসসি পরীক্ষায় তিনি জিপিএ-৫ অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি ভর্তি হন ঢাকা কলেজে এবং এইচএসসিতেও ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল করেন।
ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানের প্রতি তাঁর গভীর আগ্রহ ছিল। স্কুলজীবনে তিনি বিজ্ঞান ক্লাবে যুক্ত হন। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময় ক্লাবের আয়োজনে টেলিস্কোপের মাধ্যমে সূর্যগ্রহণ দেখার অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। এই ঘটনা তাঁকে মহাকাশ ও পদার্থবিজ্ঞানের প্রতি আরও আগ্রহী করে তোলে। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় তিনি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেলেও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগকে বেছে নেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে তিনি ফটোগ্রাফির প্রতি আরও আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তিনি জাবির ফটোগ্রাফিক সোসাইটিতে যুক্ত হন এবং সেখানে ফটোগ্রাফির কারিগরি দিক শেখেন। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ফটো এক্সিবিশন আয়োজনে কাজ করার সুযোগ পান। তিনি ফটোগ্রাফিক সোসাইটিতে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা ‘৩৫ অ্যাওয়ার্ডস ২০২১’-এ দ্বিতীয় ধাপ উত্তীর্ণ হয়ে দেশের সেরা ফটোগ্রাফারদের একজন হিসেবে নির্বাচিত হন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে তিনি ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। শিক্ষকতার মাধ্যমে তিনি উপলব্ধি করেন যে শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদানই যথেষ্ট নয়, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও নিজেকে দক্ষ করে তোলাও জরুরি। এই উপলব্ধিই তাঁকে বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে আরও দৃঢ় করে তোলে।
তিনি ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে আইইএলটিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন এবং একই বছরে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ব্যান্ড স্কোর ৭ অর্জন করেন। তিনি তাঁর একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, সনদের সত্যায়িত কপি, গবেষণাকেন্দ্রিক সিভি এবং সম্ভাব্য বিশ্ববিদ্যালয়-অধ্যাপকদের তালিকা প্রস্তুত করেন। মেক্সট বৃত্তিতে আবেদনের জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রফেসর রেকমেন্ডেশনের পথ বেছে নেন। তিনি জাপানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭ জন অধ্যাপককে ই-মেইল পাঠান। এর মধ্যে সাইতামা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়। তিনি প্রায় ২০ মিনিটের অনলাইন সাক্ষাৎকারে তাঁর গবেষণার ধারণা, অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জুমে একটি অনলাইন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং সফল হন। সবশেষে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রায় ৪০ মিনিটের আরেকটি সাক্ষাৎকারের পর তাঁকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হয়। এরপর তাঁর সুপারিশ যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট সিলেকশন কমিটির কাছে। যাচাই-বাছাই শেষে তাঁর কাগজপত্র জাপানের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে (মেক্সট) পাঠানো হয়।
"জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে আছে সেই দিনটি, যখন জানতে পারি মেক্সট স্কলারশিপের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: ঢাকা, বাংলাদেশ
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: গাজী ইশমাম হাসান
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৭ (আইইএলটিএস ব্যান্ড স্কোর)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৭ (অধ্যাপকের সংখ্যা)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২০ (মিনিটের সাক্ষাৎকার)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০ (মিনিটের সাক্ষাৎকার)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!