📌 খুলনা মহানগরীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে অবাধে ঘুরছে গরুর পাল। ময়লার স্তূপ থেকে শুরু করে ফুটপাত পর্যন্ত বিচরণ করা এসব গবাদিপশুর কারণে দুর্ঘটনা ও পরিবেশ দূষণের শিকার হচ্ছেন নগরবাসী। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ সমস্যা সমাধানে কেসিসির নোটিশ ও উদ্যোগ থাকলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই
খুলনা মহানগরীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে নিয়মিত বিচরণ করছে গরুর পাল। ময়লার স্তূপ থেকে শুরু করে ফুটপাত পর্যন্ত ঘুরে বেড়ানো এসব গবাদিপশুর কারণে দুর্ঘটনা ও পরিবেশ দূষণের শিকার হচ্ছেন নগরবাসী। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ সমস্যা সমাধানে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) গরুর মালিকদের বিরুদ্ধে নোটিশ দিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্থানীয়রা।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খুলনা মহানগরীর ব্যস্ত সড়কগুলোতে নিয়মিত গরুর পাল বিচরণ করছে
- 📌 গরুর মালিকেরা সড়কে গরু ছেড়ে দেওয়া বন্ধ করছেন না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের
- 📌 গত মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় নিরালা এলাকার ময়লার স্তূপে অন্তত ৪০টি গরু দেখা যায়
- 📌 মহসিন নামের এক ব্যক্তির ৪-৫টি, মোহাম্মদ উজ্জ্বলের ৩০-৩৫টি ও সাজিদের কয়েকটি গরু নিয়মিত বিচরণ করছে বলে জানান স্থানীয়রা
- 📌 গরুর পালের কারণে দুর্ঘটনা ও পরিবেশ দূষণের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ
- 📌 কেসিসি সম্প্রতি গরুর মালিকদের বিরুদ্ধে নোটিশ দিলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি
📰 বিস্তারিত
খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত গরুর পাল বিচরণ করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। গত মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় নিরালা এলাকার ময়লার স্তূপে অন্তত ৪০টি গরু দেখা যায়। কোনোটি ময়লার মধ্যে খাবার খুঁজছিল, আবার কোনোটি দাঁড়িয়ে ছিল। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ময়লা ফেলতে বেগ পেতে হয় বলে জানান কর্মী আকবর আলী। তিনি বলেন, ‘ময়লা ফেলার জায়গায় ৩০-৪০টি গরু থাকে। হাবিজাবি খায়। আমাদের খুব বিরক্ত করে। ময়লার গাড়ি থেকে ময়লা ফেলার সুযোগ দেয় না।’
নিরালা এলাকার কাচ্চি নবাব নামের একটি রেস্তোরাঁর কর্মী মো. তুহিন সরদার বলেন, কয়েক দিন আগে কয়েকটি গরু দোকানের সামনে মলত্যাগ করে জায়গাটি নোংরা করে দিয়ে যায়। গরুগুলো ময়লা খাওয়ায় মল থেকেও অনেক দুর্গন্ধ হয়। পরে তাঁরা নিজেরাই জায়গাটি পরিষ্কার করেছেন। গত বুধবার বেলা তিনটার দিকে খুলনা পিটিআইয়ের প্রধান ফটকের পাশের ফুটপাতেও চার-পাঁচটি গরু শুয়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এসব এলাকায় নিয়মিতই গরু ঘোরাফেরা করে।
রিকশাচালক আবদুস সালাম বলেন, লাইন ধরে চলতে চলতে গরু হঠাৎ ইচ্ছেমতো এদিক-ওদিক চলে যায়। এ জন্য খুব সমস্যা হয়। এ ছাড়া গরুতে গাছগাছালিও নষ্ট করছে। নিয়মিত ঘোরাফেরা করা গরুর মধ্যে মহসিন নামের এক ব্যক্তির ৪-৫টি, মোহাম্মদ উজ্জ্বলের ৩০-৩৫টি ও সাজিদ নামের আরেক ব্যক্তির কয়েকটি গরু রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।
খুলনা মহানগরীর নিরালা, পিটিআই মোড়, বয়রা বাজার, কবির বটতলা, খালিশপুর বিআইডিসি রোড, পাওয়ার হাউস মোড়, পিপলস গেট মোড়, প্লাটিনাম ২ নম্বর গেট, দৌলতপুর, টুটপাড়া, রেলিগেট, ফুলবাড়ীগেট ও আলমনগর মোড়েও নিয়মিত গরুর বিচরণ দেখা যাচ্ছে। গরুর পালের কারণে দুর্ঘটনা ও পরিবেশ দূষণের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
‘কিছুদিন আগে থানা থেকে এসে বলার পরে আমি এখন আর সারা দিন গরু ছাড়ছি না। সকালবেলায় একটু ছেড়ে দেওয়ার পর ঘণ্টা দুয়েক গোয়াল পরিষ্কার করার পরে আবার বেঁধে ফেলি।’ — গরুর মালিক মোহাম্মদ উজ্জ্বল
দীর্ঘদিন ধরে চলা এ সমস্যা সমাধানে কেসিসি সম্প্রতি গরুর মালিকদের বিরুদ্ধে নোটিশ দিয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেসিসির রোপণ করা গাছ এসব গবাদিপশুর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে এখনো পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনা মহানগরী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: মোহাম্মদ উজ্জ্বল, মো. তুহিন সরদার, আবদুস সালাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪০টি গরু, ৩০-৩৫টি গরু, ৪-৫টি গরু
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!