📌 শ্রীমঙ্গলের কালীঘাট রাবারবাগানের শ্রমিক টুনি তাঁতী দৈনিক মাত্র ১৪০ টাকা আয় করেন। তাঁর স্বামী চা-শ্রমিক ছিলেন। দুই দশকের বেশি সময় ধরে রাবারগাছ থেকে কষ সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। তাঁর ইচ্ছা, তাঁর ছেলে যেন তাঁর মতো শ্রমিক না হয়ে শিক্ষিত হয়ে উঠুক
শ্রীমঙ্গলের কালীঘাট রাবারবাগানে প্রতিদিন ভোর হওয়ার আগেই কাজ শুরু করেন টুনি তাঁতী। ধাতব বালতি হাতে এক গাছ থেকে আরেক গাছে যেতে থাকেন তিনি। প্রতিটি রাবারগাছের বাকল কেটে টিনের ক্লিপ বসানোর পর নিচের বাটিতে জমা হওয়া কষ বালতিতে ঢেলে নেন। প্রায় ৩০০টি গাছ থেকে প্রতিদিন কষ সংগ্রহ করেন তিনি। তাঁর বয়স ৪৩ বছর।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 শ্রীমঙ্গলের কালীঘাট রাবারবাগানের শ্রমিক টুনি তাঁতীর বয়স ৪৩ বছর
- 📌 প্রতিদিন প্রায় ৩০০টি রাবারগাছ থেকে কষ সংগ্রহ করেন তিনি
- 📌 দৈনিক মজুরি হিসেবে পান মাত্র ১৪০ টাকা
- 📌 তাঁর স্বামী ছিলেন চা-শ্রমিক, চার বছর আগে মৃত্যুবরণ করেন
- 📌 দুই দশকের বেশি সময় ধরে রাবারবাগানের কাজ করছেন টুনি
📰 বিস্তারিত
টুনি তাঁতীর দৈনিক জীবন শুরু হয় ভোর হওয়ার আগেই। ঘরের কাজ শেষ করে পাঁচটার দিকে রাবারবাগানের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। বাগানে পৌঁছেই শুরু হয় কষ সংগ্রহের কাজ। একটি গাছ থেকে আরেকটি গাছে যেতে যেতে সময় কখন যে বেলা গড়িয়ে যায়, টের পান না তিনি। থেমে থাকার সুযোগ নেই। কাজ শেষে নাশতা করেন। এরপরও বিশ্রাম নেই। শুকনা কাঠ সংগ্রহ করতে হয় রান্নার জন্য, গরু-ছাগলের জন্য ঘাস কাটতে হয়। সব কাজ শেষে বাড়ির পথ ধরেন টুনি।
দিনের আলো ফুরিয়ে এলেও তাঁর কাজ ফুরোয় না। বাড়িতে ফিরে স্নান সেরে আবার শুরু হয় রান্নাবান্না। পরিবারের সবাইকে খাওয়ানোর পর নিজেও খান। একসময় ঘরের বাতি নিভে আসে। রাতের নীরবতায় নেমে আসে ক্লান্তি। শীত কিংবা বর্ষা—এটাই তাঁর প্রতিদিনের রুটিন।
টুনির স্বামী দুলাল তাঁতী ছিলেন চা-শ্রমিক। বছর চারেক আগে তিনি মারা গেছেন। এই দম্পতির ছয় সন্তান। চার মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। এখন টুনির সংসারে সদস্য তিনজন। সংসারের ভারও তাঁর কাঁধেই।
‘ছোট মেয়ে আর ছোট ছেলেটা এখনো আমার সঙ্গে আছে। ওদের পড়াশোনা আর ভবিষ্যতের চিন্তাই এখন আমার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আমি চাই, আমার ছেলেটা যেন আমার মতো শ্রমিক না হয়। পড়াশোনা করে ভালো কিছু করুক।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: টুনি তাঁতী
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৪৩ বছর, ৩০০টি গাছ, ১৪০ টাকা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!