📌 কুড়িগ্রামের সিংহীমারী গ্রামে শিশুদের লোকসংগীত ও বাদ্যযন্ত্র শেখানো হচ্ছে বিনামূল্যে। নরওয়ের নাগরিক উয়েরা সেথের উদ্যোগে 'মায়ের তরী' সংগঠন ১০ বছর ধরে এই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বৈদ্যেরবাজার সিংহীমারী গ্রামে শিশুদের লোকসংগীত ও বাদ্যযন্ত্রের শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। এই গ্রামে প্রতি শুক্র ও শনিবার শিশু-কিশোরদের বিনামূল্যে লোকসংগীত ও লোকবাদ্যযন্ত্র শেখানো হয়। লোকসংগীতের এই শিক্ষা কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হলো 'সেবালয় গুরুগৃহ'।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কুড়িগ্রামের সিংহীমারী গ্রামে শিশুদের লোকসংগীত ও বাদ্যযন্ত্র শেখানো হচ্ছে বিনামূল্যে।
- 📌 'মায়ের তরী' সংগঠনের উদ্যোগে ১০ বছর ধরে এই শিক্ষা কার্যক্রম চলছে।
- 📌 নরওয়ের নাগরিক ও লোকগবেষক উয়েরা সেথের উদ্যোগে এই সংগঠন গঠিত হয়।
- 📌 শিশুরা দোতারা, একতারা, বাঁশি ও তবলা বাজানো শেখছে।
- 📌 সংগঠনটির অন্যতম সংগঠক সাংবাদিক ইউসুফ আলমগীরের মতে, লোকসংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সমাজের।
📰 বিস্তারিত
সিংহীমারী গ্রামে ঢুকতেই শিশুকণ্ঠে ভেসে আসে বিখ্যাত লালনগীতি ‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি...’। এই গ্রামে প্রতি শুক্র ও শনিবার শিশু-কিশোরদের বিনামূল্যে লোকসংগীত ও লোকবাদ্যযন্ত্র শেখানো হয়। এই শিক্ষা কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু হলো 'সেবালয় গুরুগৃহ'। এই গুরুগৃহের প্রধান গুরু নারায়ণ চন্দ্র রায়। তিনি লোকবাদ্যযন্ত্রের প্রশিক্ষক ও প্রধান গুরু।
নারায়ণ চন্দ্র রায়ের বাড়িতে এই শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তিনি বলেন, ‘লোকবাদ্যযন্ত্র শুধু বিনোদনের উপকরণ নয়; এগুলো একটি জাতির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আত্মপরিচয়ের ধারক।’ তিনি আরো বলেন, শুধু সেবালয় নয়, কুড়িগ্রামে চারটি এবং লালমনিরহাটে পাঁচটি গুরুগৃহ পরিচালনা করছে ‘মায়ের তরী’ সংগঠন। এই নয়টি গুরুগৃহের প্রতিটিতে বিনামূল্যে লোকসংগীত ও লোকবাদ্যযন্ত্রের শিক্ষা দেওয়া হয়।
নারায়ণ চন্দ্র রায়ের মতে, লোকসংগীতের চর্চা শুধু গান শেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মধ্য দিয়ে শিশুদের একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া সম্ভব। শিশুরা মনোযোগ দিয়ে শিখছে, ভুল করছে, আবার গুরুর নির্দেশনায় নতুন করে সুর ধরার চেষ্টা করছে।
"লোকসংস্কৃতি কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায় কিংবা অঞ্চলের একক সম্পদ নয়। লোকসংস্কৃতিকে শুধু উৎসব কিংবা বিশেষ দিবসের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখা ঠিক নয়।"
মায়ের তরী সংগঠনের অন্যতম সংগঠক সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মী ইউসুফ আলমগীর বলেন, নরওয়ের নাগরিক কবি, লেখক, লোকগবেষক ও আলোকচিত্রী উয়েরা সেথের ১৯৯৮ সালে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে যান। সেখানকার স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা ও নারীদের কণ্ঠে মরমি গান তাঁকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করে। তিনি লালনের ৫৩টি গান নরওয়েজীয় ভাষায় অনুবাদ করেন। পরবর্তীকালে ২০১৬ সালে তাঁর পৃষ্ঠপোষকতায় স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন মায়ের তরী।
সেবালয়ের শিক্ষার্থী সাথী রায় বলেন, ‘আমি ১০ বছর ধরে এখানে গানের পাশাপাশি যন্ত্র বাজানো শিখছি। আমরা শিখে অন্যদের শেখাতে চাই।’ এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আদুরি রায় বলেন, ‘আমি গর্বিত যে প্রত্যন্ত এই গ্রামের সেবালয়ে আমার মেয়ে ও ছেলে গান ও বাদ্যযন্ত্র শেখে।’
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: সিংহীমারী গ্রাম, রাজারহাট উপজেলা, কুড়িগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নারায়ণ চন্দ্র রায়, ইউসুফ আলমগীর, উয়েরা সেথ, সাথী রায়, আদুরি রায়
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১০ বছর, ৫৩টি গান, ৯টি গুরুগৃহ
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!