📌 খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ড র্যাগিং, মাদকসেবন ও হয়রানির অভিযোগে ৩০ শিক্ষার্থীর শাস্তি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ১০ জনকে এক থেকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কৃত করা হয়েছে, বাকিদের অর্থদণ্ড ও অভিভাবকের মুচলেকা দেওয়া হয়েছে। উপাচার্য ড. রেজাউল করিম রোববার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ড র্যাগিং, মাদকসেবন, মারধর ও হয়রানির অভিযোগে ৩০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ১০ জন শিক্ষার্থীকে এক থেকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কৃত করা হয়েছে। বাকি শিক্ষার্থীদের অর্থদণ্ড ও অভিভাবকের মুচলেকা দেওয়া হয়েছে। রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৮তম সভায় ৩০ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তি ঘোষণা করা হয়েছে
- 📌 র্যাগিং, মাদকসেবন ও হয়রানির অভিযোগে ১০ জনকে এক থেকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কৃত করা হয়েছে
- 📌 ২৯ জুলাই ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে হয়রানির ঘটনায় ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি (ফউটে) ডিসিপ্লিনের মো. ফারদিন আহমেদ দিপন ও ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের শেখ আমির মাহদ্বীন ও শেখ মুরসালিন রহমানকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে
- 📌 ৬ মে র্যাগিংয়ের অভিযোগে প্রণয় কুমার ঘোষকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কৃত করা হয়েছে
- 📌 ৩০ সেপ্টেম্বর গাঁজাসহ মাদকসেবনে তিন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়, তাদের মধ্যে একজনকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কৃত করা হয়েছে
📰 বিস্তারিত
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৮তম সভায় গত ২৮ অক্টোবর বিকেল ৪টায় সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরদিন ছাত্রবিষয়ক পরিচালক ও শৃঙ্খলা বোর্ডের সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পৃথক ঘটনায় তদন্তের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গত ২৯ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়া প্রাঙ্গণে ছয় শিক্ষার্থীকে হয়রানির ঘটনায় ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি (ফউটে) ডিসিপ্লিনের মো. ফারদিন আহমেদ দিপন এবং ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ডিসিপ্লিনের শেখ আমির মাহদ্বীন ও শেখ মুরসালিন রহমানকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
চলতি বছরের ৬ মে ফউটে ডিসিপ্লিনের ২৬ ব্যাচের ১২ শিক্ষার্থী একই ডিসিপ্লিনের ২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে র্যাগিংয়ের অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় প্রণয় কুমার ঘোষকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা এবং মো. জুবায়ের হোসেনকে এক টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া অসিম দাস, তৌফিক মাহিনুল আহছান ও আব্দুল্লাহ আল সিফাতকে ১৫ হাজার টাকা করে এবং স্বপন কুমার দাশ, দেবাশীষ মন্ডল ও সজল পালকে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
গত ১২ মে আইন ডিসিপ্লিনের ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আমানউল্লাহ আমানকে ফউটে ডিসিপ্লিনের প্রায় ২৫ শিক্ষার্থী মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় সুদীপ কুমার নন্দী, মাহমুদুর রহমান, হেমেন্দ্র মৃধা, আসিফ আদনান, আজিজিল ইসলাম কাফফি, শেখ তাজবীদ ইসলাম, রাকিব হোসেন ও প্রণয় কুমার ঘোষকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী ছাত্রবিষয়ক পরিচালকদের নিয়মিত টহলের সময় ক্যাম্পাসের নির্মাণাধীন ৪ নম্বর একাডেমিক ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে গাঁজাসহ গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা ডিসিপ্লিনের (এমসিজে) তিন শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় এস এম তৌফিক আলমকে দুই টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা, মুশফিক উল ইসলামকে এক টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা এবং কাজী রিয়াজুস ছলেহীনকে এক টার্মের জন্য বহিষ্কারের পাশাপাশি ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
"বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের ২৮তম সভায় সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম (উপাচার্য), অধ্যাপক ড. মো. সালাউদ্দীন (সদস্যসচিব)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০ শিক্ষার্থী (শাস্তি), ১০ জন (বহিষ্কৃত), ২৮তম (শৃঙ্খলা বোর্ড সভা), ২০ হাজার টাকা (জরিমানা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!