📌 কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার যমজ বোন রহিমা ও রাবেয়া সরদার এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে উপজেলার ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে একমাত্র সাফল্য অর্জন করেছেন। বাবার বেকারত্ব ও পরিবারের অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও তারা অদম্য ইচ্ছাশক্তি দেখিয়েছেন
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় এক বিরল সাফল্য সৃষ্টি হয়েছে। বাবার বেকারত্ব ও পরিবারের অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও যমজ দুই বোন রহিমা সরদার ও রাবেয়া সরদার এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে উপজেলার ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে একমাত্র সাফল্য অর্জন করেছেন। তাদের এই কৃতিত্বে উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গর্বিত।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার যমজ বোন রহিমা ও রাবেয়া সরদার এইচএসসি পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে উপজেলার একমাত্র সাফল্য অর্জন করেছেন
- 📌 উপজেলার ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে শুধু এই যমজ বোনই জিপিএ-৫ পেয়েছেন
- 📌 তাদের বাবা মনির হোসেন সরদার বেকার, পরিবারে অর্থনৈতিক সংকট থাকা সত্ত্বেও তারা পরিশ্রম করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন
- 📌 কলেজ সূত্রে জানা গেছে, রাজারহাট সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজ থেকে ১৪২ শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে, তাদের মধ্যে শুধু এই যমজ বোনই জিপিএ-৫ পেয়েছেন
- 📌 রহিমা ও রাবেয়া এসএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন
📰 বিস্তারিত
রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের রামকার্জ্বী গ্রামের বাসিন্দা রহিমা ও রাবেয়া সরদার দুজনেই রাজারহাট সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজের শিক্ষার্থী। তাদের বাবা মনির হোসেন সরদার স্থায়ী কোনো কাজ নেই। তিনি সামান্য আবাদি জমিতে ফসল চাষ করেন এবং মৌসুমি শ্রমিক হিসেবে দিনমজুরের কাজ করেন। পরিবারে অর্থনৈতিক সংকট থাকা সত্ত্বেও, যমজ বোন দুজনেই অদম্য ইচ্ছাশক্তি দেখিয়ে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
মেয়েদের মা নাসিমা বেগম বলেছেন, ‘অনেক কষ্ট করে মেয়েদের লেখাপড়া করিয়েছি। প্রাইভেট শিক্ষকদের সহযোগিতা ও কলেজের অধ্যক্ষের সহানুভূতিশীল মনোভাবের কারণে মেয়েরা উপবৃত্তি পেয়েছেন। সবার সহযোগিতা না পেলে এত ভালো ফল করা সম্ভব হতো না।’
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ জহুরুল ইসলাম বলেছেন, ‘রাজারহাট উপজেলার ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মানবিক শাখা থেকে শুধু এই যমজ দুই বোনই জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তাদের এ সাফল্যে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত। কলেজের পক্ষ থেকে দুজনকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।’
রহিমা সরদার বলেছেন, ‘বাবার কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করতে এবং নিজেদের স্বপ্ন পূরণে ভালো ফল করার লক্ষ্যে পড়াশোনায় মনোনিবেশ করেছি। কলেজে যাতায়াত ও খাওয়াদাওয়ার সময়টুকু বাদে দিনের বেশির ভাগ সময়ই পড়াশোনায় কাটিয়েছি। ঘুমানোর সময়ও ছিল সীমিত।’
রাজারহাটের সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন বলেছেন, রাজারহাট উপজেলায় কলেজ শাখায় দুজন ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে দুজনসহ মোট চারজন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। কলেজ শাখায় জিপিএ-৫ পাওয়া ওই দুই শিক্ষার্থী যমজ দুই বোন।
"অনেক কষ্ট করে মেয়েদের লেখাপড়া করিয়েছি। প্রাইভেট শিক্ষকেরা বিনা পারিশ্রমিকে পড়িয়েছেন। কলেজের অধ্যক্ষ স্যার ভর্তি, ফরম পূরণসহ বিভিন্ন পরীক্ষার ক্ষেত্রে নামমাত্র টাকা নিয়েছেন। এ ছাড়া মেয়েরা উপবৃত্তিও পেয়েছে। সবার সহযোগিতা না পেলে হয়তো মেয়েদের পক্ষে এত ভালো ফল করা সম্ভব হতো না।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: রাজারহাট উপজেলা, কুড়িগ্রাম
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: রহিমা সরদার, রাবেয়া সরদার, নাসিমা বেগম, অধ্যাপক মুহাম্মদ জহুরুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ১৪২ (এইচএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী), ১৪ (শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান), ৫.০ (জিপিএ)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!