📌 টানা পাঁচ মাস ধরে প্রবাসী আয় ৩০০ কোটি ডলারের নিচে রয়েছে। অক্টোবর মাসে প্রবাসী আয় ২৮৪ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এদিকে ডলারের আনুষ্ঠানিক দামে চাপ পড়ছে, ব্যাংক ও খুচরা বাজারে দাম বেড়েছে
টানা পাঁচ মাস ধরে বাংলাদেশের প্রবাসী আয় ৩০০ কোটি ডলারের নিচে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন মাত্র ২৮৪ কোটি ডলার। এতে আগের মাস সেপ্টেম্বর (২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার) থেকে কিছুটা বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেলেও, জুলাই মাসের ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলার থেকে কমে গেছে। ব্যাংকার ও খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ডলারের আনুষ্ঠানিক দর স্থিতিশীল থাকা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থপ্রেরণের সুবিধা থাকায় প্রবাসী আয়ের প্রবাহ তেমন একটা কমেনি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা সত্ত্বেও এই প্রবাহের প্রভাব কমই পড়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 **টানা পাঁচ মাসে প্রবাসী আয় ৩০০ কোটি ডলারের নিচে** — সর্বশেষ অক্টোবরে ২৮৪ কোটি ডলার, সেপ্টেম্বর ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার
- 📌 **২০২৫ সালের তুলনায় ১২% বৃদ্ধি** — গত বছরের অক্টোবরে প্রবাসী আয় ছিল ২৫৬ কোটি ডলার
- 📌 **চলতি অর্থবছরে ৩ হাজার ৫৫৯ কোটি ডলার প্রবাসী আয়** — ২০২৫-২৬ অর্থবছরে নতুন রেকর্ড
- 📌 **ডলারের আনুষ্ঠানিক দাম বেড়েছে** — ব্যাংক থেকে কেনার দাম ১২৩ টাকা ৬০ পয়সা থেকে ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সা, বিক্রির দাম ১২৬ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত
- 📌 **খুচরা বাজারে ডলার দাম ১২৮ টাকা ৫০ পয়সা** — মানি চেঞ্জার ও খোলাবাজারে বিক্রি দাম সর্বোচ্চ
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে প্রবাসী আয় ছিল ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। পরবর্তী মাস আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলারে। তবে সেপ্টেম্বর মাসে আবার কমে যায় ২৭৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারে। গত বছরের অক্টোবরের তুলনায় এই মাসে প্রবাসী আয় ১২ শতাংশ বেশি হয়েছে। ব্যাংকাররা মনে করছেন, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও প্রবাসী আয় প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা তহবিল পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
ডলারের আনুষ্ঠানিক দামে চাপ পড়ার কারণে ব্যাংকগুলোর কেনার দাম বেড়েছে। ১৯ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাংকগুলো একে অপরের থেকে ডলার কিনেছে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৬০ পয়সা দরে, যা বৃহস্পতিবার বেড়ে দাঁড়ায় ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সা। সিটি ব্যাংক বিদেশফেরত মানুষের কাছ থেকে নগদ ডলার কিনেছে ১২৪ টাকা ৭৫ পয়সা দামে, বিক্রি করেছে ১২৬ টাকায়। অন্যদিকে ব্র্যাক ব্যাংক ডলার কিনেছে ১২৫ টাকা ৫০ পয়সা দামে, বিক্রি করেছে ১২৬ টাকা ৫০ পয়সা দামে।
ব্যাংকগুলোর ঘোষিত দামের তুলনায় খুচরা বাজারে ডলারের দাম আরও বেশি। বৃহস্পতিবার মতিঝিলের খোলাবাজার ও মানি চেঞ্জারগুলোতে ডলার বিক্রি হয়েছে ১২৮ টাকা ৫০ পয়সা দামে। মানি চেঞ্জারগুলো গ্রাহকের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ১২৮ টাকা দামে ডলার কিনেছে। ব্যাংকাররা বলছেন, ডলারের দামে এই ধরনের পরিবর্তন সাধারণত আমদানির চাপ বা বৈদেশিক মুদ্রা বাজারের অস্থিরতার কারণে ঘটে। তবে প্রবাসী আয়ের প্রবাহের কারণে দেশের ডলার বাজারে কিছুটা স্বস্তি রয়েছে।
"ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর সুবিধা ও ডলারের আনুষ্ঠানিক দর স্থিতিশীল থাকায় প্রবাসী আয়ের প্রবাহ তেমন একটা কমেনি। যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় অস্থিরতা থাকলেও বড় প্রভাব পড়েনি।"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (ব্যাংক, খুচরা বাজার, মতিঝিল)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: প্রবাসীরা, ব্যাংকাররা, খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৩০০ কোটি ডলার (৩০০ কোটি ডলারের নিচে পাঁচ মাস), ২৮৪ কোটি ডলার (অক্টোবর মাস), ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সা (ব্যাংকের কেনার দাম), ১২৮ টাকা ৫০ পয়সা (খুচরা বাজারের বিক্রি দাম)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!