📌 কওমি মাদ্রাসা নিয়ে সমাজে প্রচলিত ভুল ধারণাগুলোকে প্রশ্নবিদ্ধ করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নুরুল মোমেন ভূঁইয়া গবেষণায় উঠে এসেছেন। তিনি বলেছেন, মাদ্রাসা সন্ত্রাসের প্রজননক্ষেত্র নয় এবং এর শিক্ষা ব্যবস্থা সমাজের মূলধারায় একীভূত হওয়ার প্রয়োজন
কওমি মাদ্রাসা নিয়ে সমাজে প্রচলিত অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে উগ্রবাদ বা জঙ্গিবাদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করার প্রবণতা রয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভুল। তবে কওমি মাদ্রাসা সমাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এর শিক্ষা ব্যবস্থা, উদ্দেশ্য ও মানুষ তৈরির দর্শন সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার থেকে আলাদা। এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে রাজধানীর শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্টগ্র্যাজুয়েট কলেজে অনুষ্ঠিত একটি সেমিনারে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 কওমি মাদ্রাসাকে সন্ত্রাসের প্রজননক্ষেত্র হিসেবে দেখার প্রচলিত ধারণা গবেষণায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে — জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নুরুল মোমেন ভূঁইয়া বলেছেন, মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট মতাদর্শে দীক্ষিত করে সন্ত্রাসী বানানোর সরল প্রক্রিয়া নেই।
- 📌 মাদ্রাসার শিক্ষা ব্যবস্থা ধর্মীয় পরিচয়, বিশ্বাস ও আচরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিশেষ ধরনের মুসলিম হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করে — শিক্ষার্থীদের পোশাক, চলাফেরা, আচরণ ও শরীরী ভাষা ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ করে।
- 📌 কওমি মাদ্রাসা স্থানীয় অর্থনীতি ও রাজনৈতিক ক্ষমতার সঙ্গে জড়িত — এটি স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে টিকে থাকে, বিভিন্ন রাষ্ট্রব্যবস্থায়ও।
- 📌 ৯/১১, লন্ডনের ৭/৭ হামলা ও বাংলাদেশের ২০০৫ সালের বোমা হামলার পর মাদ্রাসা নিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজের আগ্রহ ও সন্দেহ বেড়েছে, তবে এর শিক্ষাকে মূলধারায় আনার চাপ কতটা সফল হবে তা সময়ই বলে দেবে।
- 📌 ধর্মীয় শিক্ষাকে মূলধারায় আনতে সরকারের বাড়তি সহায়তা ও বরাদ্দ প্রয়োজন — শেখ বোরহানুদ্দীন কলেজের অধ্যক্ষ কাজী জুলফিকার আলী বলেছেন, ধর্মীয় শিক্ষায় যুক্ত মানুষের সঙ্গে সমাজের কিছুটা দূরত্ব রয়েছে, যা কাটাতে হবে।
📰 বিস্তারিত
‘ধর্মীয় সামাজিকীকরণে সময়, স্থান ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা: একটি এথনোগ্রাফিক গবেষণা’ শীর্ষক সেমিনারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নুরুল মোমেন ভূঁইয়া বলেছেন, কওমি মাদ্রাসা আক্ষরিক অর্থেই একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তবে এর দর্শন ও উদ্দেশ্য সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার মতো নয়। সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে এর মূল পার্থক্য শিক্ষার উদ্দেশ্য ও কী ধরনের মানুষ তৈরি করতে চায় সেখানে। কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় পরিচয়, বিশ্বাস, আচরণ ও জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে একটি বিশেষ ধরনের মুসলিম হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়।
অধ্যাপক নুরুল মোমেন বলেন, কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের ‘আদব’, ‘ইমান’, ‘আমল’ ও প্রতিষ্ঠানের প্রচলিত ‘লাইন’—এসবের মধ্য দিয়ে দৈনন্দিন জীবন ও আচরণ নিয়ন্ত্রিত হয়। শিক্ষার্থীদের পোশাক, চলাফেরা, আচরণ ও শরীরী ভাষার মধ্য দিয়ে ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ পায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কওমি মাদ্রাসাকে একক বা সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন কোনো প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। স্থানীয় অর্থনীতি, রাজনৈতিক ক্ষমতা, দাতা ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক রয়েছে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্টগ্র্যাজুয়েট কলেজের অধ্যক্ষ কাজী জুলফিকার আলী। তিনি বলেন, ধর্মীয় শিক্ষায় যুক্ত মানুষের সঙ্গে সমাজের কিছুটা দূরত্ব রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে অনেক লেখক এই দূরত্ব কমানোর চেষ্টা করেছেন, তবে তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। ধর্মীয় শিক্ষাকে মূলধারায় আনতে সরকারের বাড়তি সহায়তা ও বরাদ্দ প্রয়োজন। তিনি বলেন, কিছু নেতিবাচক দিক থাকলেও এখন নতুন উদ্যোগ নেওয়ার সময় এসেছে।
"কওমি মাদ্রাসাকে সন্ত্রাসের প্রজননক্ষেত্র হিসেবে দেখার যে ধারণা তৈরি হয়েছে, সেটি সরলীকৃত। আমার গবেষণায় দরিদ্র পরিবারের শিশুদের মাদ্রাসায় এনে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট মতাদর্শে দীক্ষিত করে সন্ত্রাসী বানানোর এমন সরল প্রক্রিয়া দেখেননি।"
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সৈয়দ আরমান হোসেন বলেন, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে মূলধারার কর্মক্ষেত্র ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। ফলে সমাজে তাদের প্রভাবও বাড়ছে। তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমের কারণে ইসলাম ও ধর্ম নিয়ে নেতিবাচক ধারণা বেশি ছড়ানোর বিষয়টিও গবেষণার মাধ্যমে বোঝা দরকার।
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্টগ্র্যাজুয়েট কলেজ, পুরান ঢাকা
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: নুরুল মোমেন ভূঁইয়া (অধ্যাপক), কাজী জুলফিকার আলী (অধ্যক্ষ), সৈয়দ আরমান হোসেন (অধ্যাপক)
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৯/১১, ৭/৭ (লন্ডন), ২০০৫ (বাংলাদেশের বোমা হামলা)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!