📌 জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দোকান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষে ২৩ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে দুজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রশাসনের অকার্যকরতা ও দীর্ঘদিনের দাবির জেরে ঘটনাটি ঘটেছে
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি)ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দোকান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষে আজ সোমবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা ঘটনায় অন্তত ২৩ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় দুজন শিক্ষার্থীকে গুরুতর অবস্থায় সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২৩ জন আহত: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থীদের দাবি, সংঘর্ষে তাদের হলের অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছে।
- 📌 দুজন গুরুতর: মেডিকেলের তথ্যমতে, দুজন শিক্ষার্থীকে সাভারের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
- 📌 দীর্ঘদিনের দাবি: নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ ৯ মাস ধরে দোকান নিয়ন্ত্রণ দাবি করছিলেন, কিন্তু প্রশাসন কোনো সুরাহা করতে পারেনি।
- 📌 তালা ঝুলিয়ে দোকান দখল: নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা দোকানগুলোর তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিল, যা রবীন্দ্রনাথ হলের শিক্ষার্থীদের উত্তেজিত করে তোলে।
- 📌 লাঠিসোঁটা ও ইটের টুকরা: সংঘর্ষে লাঠিসোঁটা ও ইটের টুকরা ছোড়া হয়েছে, যার ফলে উভয় পক্ষের শিক্ষার্থীরা আহত হয়েছেন।
📰 বিস্তারিত
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের সামনে অবস্থিত পাঁচটি দোকান দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে ওই দোকানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়ে আসছিল। প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে কোনো সুরাহা করতে না পারায় আজ দুপুরে নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা ওই দোকানগুলোর তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিল। এর জেরে রবীন্দ্রনাথ হলের শিক্ষার্থীরা সেখানে অবস্থান নিলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
মেডিকেলের তথ্যমতে, সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় হলের অন্তত নয়জন শিক্ষার্থী আহত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেলে চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে নজরুল হলের শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদের হলের অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও হামলার শিকার নজরুল হলের শিক্ষার্থী শিহাব উদ্দিন স্বাধীন জানান, দুপুরে তাঁরা হলের ক্যান্টিনে খাওয়ার সময় ১৫-১৬ জন শিক্ষার্থী তাঁদের হলের সামনে গিয়ে গালিগালাজ ও উসকানিমূলক কথাবার্তা বলতে থাকে। তাঁরা হুমকি দেয় যে, পারলে দোকান দখল করতে, তা না হলে উড়িয়ে দেওয়া হবে। পরে তাঁরা বের হয়ে গেলে বিশ্বকবি হলের ১৫-২০ জন মিলে তাঁকে মারধর করেন এবং মাথা ফাটিয়ে দেন।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল সংসদের জিএস মাহমুদুল হাসান ইমনের দাবি, নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, ‘দোকানগুলো নজরুল হল তৈরি হওয়ার আগে থেকেই সেখানে রয়েছে। তাঁদের হলের শিক্ষার্থী সংখ্যা কম হওয়ায় নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা তাঁদের ওপর আগ্রাসন চালিয়েছেন এবং তাতে হলের ৫ জন শিক্ষার্থী মাথা ও চোখে আঘাত পেয়েছেন।’
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘দোকানগুলো একেবারে তাঁদের হলের সামনে। দোকানগুলো তাঁদের হলের অধীনে নেওয়ার জন্য তিনবার আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, ‘সকাল থেকেই দুই হলের প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমরা দফায় দফায় আলোচনা করেছি। কিন্তু কবি নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসার আগেই দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। খবর পেয়ে প্রক্টরসহ প্রশাসনের পুরো দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। বর্তমানে দুই হলের প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা চলছে।’
"আজকের ঘটনায় প্রায় নয়জন আহত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাঁদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় এবং একজন স্বেচ্ছায় সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।" — ডা. নাফিউল কাদের, বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক
"এটি দীর্ঘ ৯ মাসের ইস্যু। প্রশাসনকে ১ সেপ্টেম্বর আলটিমেটাম দেওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের গাফিলতির কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যখন আন্দোলনে নামে, তখন ছাত্র সংসদ তাঁদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করতে বাধ্য হয়।" — মো. রাকিবুল ইসলাম, কাজী নজরুল ইসলাম হল সংসদের ভিপি
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সাভার
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: কাজী নজরুল ইসলাম হলের শিক্ষার্থীরা, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের শিক্ষার্থীরা, ডা. নাফিউল কাদের, মো. রাকিবুল ইসলাম, মাহমুদুল হাসান ইমন, ড. আব্দুর রাজ্জাক, ড. শফিকুল ইসলাম, ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২৩ জন আহত, ৯ মাসের দাবি, ১৫-১৬ জন হুমকি দিয়েছিলেন, ১৫-২০ জন মারধর করেছিল, ৫ জন আহত (বিশ্বকবি হল), ২ জন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!