📌 বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, তিন মাসে দেশের ব্যাংকগুলিতে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ৫ হাজার এবং আমানত বৃদ্ধি পেয়েছে ১৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। তবে ব্যক্তি শ্রেণির হিসাবের আমানত কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) দেশের ব্যাংকগুলিতে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তিন মাসে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭টি এবং এসব হিসাবের আমানত বৃদ্ধি পেয়েছে ১৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। তবে ব্যক্তি শ্রেণির ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা বাড়লেও আমানতের পরিমাণ কমেছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 তিন মাসে কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭টি
- 📌 কোটিপতি হিসাবের আমানত বৃদ্ধি পেয়েছে ১৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা
- 📌 ব্যক্তি শ্রেণির কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে ৭১টি, কিন্তু আমানত কমেছে ১ হাজার ২২১ কোটি টাকা
- 📌 গত জুন শেষে দেশের ব্যাংকগুলিতে মোট আমানত হিসাব ছিল ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৮টি
- 📌 প্রতিষ্ঠানগুলোর চলতি মূলধন ও অব্যবহৃত অর্থ ব্যাংকে রাখার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে
📰 বিস্তারিত
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে দেশের ব্যাংক খাতে মোট আমানত হিসাবের সংখ্যা ছিল ১৮ কোটি ৬৩ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮৮টি। এর মধ্যে এক কোটি থেকে ৫০ কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৬২টি। গত মার্চ শেষে এক কোটি টাকার বেশি আমানত থাকা হিসাবের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৬ হাজার ৪৮৫টি। অর্থাৎ তিন মাসে এ ধরনের হিসাব বেড়েছে ৫ হাজার ৭৭টি।
ব্যাংকে নতুন করে জমা হওয়া আমানতের বড় একটি অংশ গেছে কোটিপতি হিসাবগুলোতে। গত মার্চ শেষে এসব হিসাবে জমা অর্থের পরিমাণ ছিল ৮ লাখ ৫৯ হাজার ১৬২ কোটি টাকা। জুন শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬০ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে এসব হিসাবে আমানত বৃদ্ধি পেয়েছে ১৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত জুন শেষে দেশের ব্যাংকগুলোয় ১ কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে এমন ব্যক্তি শ্রেণির ব্যাংক হিসাব ছিল ৪০ হাজার ৭০১টি। এসব হিসাবে জমা ছিল ৯০ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। গত মার্চ শেষে ব্যক্তি শ্রেণির এমন ব্যাংক হিসাব ছিল ৪০ হাজার ৬৩০টি। এসব হিসাবে আমানত ছিল ৯১ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসে ব্যক্তি শ্রেণির কোটিপতি হিসাব ৭১টি বাড়লেও আমানত কমেছে ১ হাজার ২২১ কোটি টাকা।
ব্যাংকের এই পরিসংখ্যানে ব্যক্তি হিসাবের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে দেশে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন ও ব্যবসা সম্প্রসারণে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। উচ্চ সুদহার ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন বিনিয়োগে যাচ্ছে না। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোর চলতি মূলধন ও অব্যবহৃত অর্থ ব্যাংকে রাখার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে প্রাতিষ্ঠানিক হিসাবের আমানতের পরিমাণ বাড়ছে।
"গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে নতুন বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকে চলতি মূলধন ও অব্যবহৃত অর্থ রাখার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে"
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: বাংলাদেশ (সারাদেশ)
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা ও অর্থনীতিবিদ
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ৫ হাজার ৭৭টি (কোটিপতি হিসাব বৃদ্ধি), ১৬ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা (আমানত বৃদ্ধি)
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!