📌 নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়ে সোমবার বেলা ১১টায় শ্রেণিকক্ষে অসুস্থ হয়ে পড়া ২২ শিক্ষার্থীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এর মধ্যে একজন ১৪ বছর বয়সী ছাত্রীকে জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার পূর্বে ৭ সেপ্টেম্বরও একই বিদ্যালয়ে ১৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছিল
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়ে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় শ্রেণিকক্ষে অসুস্থ হয়ে পড়া ২২ শিক্ষার্থীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এর মধ্যে একজন ১৪ বছর বয়সী ছাত্রীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে জেলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পাঁচজন শিক্ষার্থী বিকেল পাঁচটায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে, বাকি ১৬ জন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
🔴 মূল পয়েন্ট
- 📌 ২২ শিক্ষার্থী জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাদের মধ্যে একজনকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়
- 📌 ১৪ বছর বয়সী এক ছাত্রীকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে, অন্যরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন
- 📌 ৭ সেপ্টেম্বরও একই বিদ্যালয়ে ১৮ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছিল, তাদের মধ্যে ১৩ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছিল
- 📌 উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন, আইইডিসিআর-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য সরকারকে চিঠি লেখার কথা বলেন
- 📌 স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে অসুস্থতার কারণ হিসেবে গণহিস্টিরিয়া বা গণমনস্তাত্ত্বিক সমস্যা ধারণা করছেন
📰 বিস্তারিত
জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়ে সোমবার বেলা ১১টায় পাঠদান চলাকালে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাটি উপজেলা প্রশাসনের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাসেল ইকবাল জানান, একজন শিক্ষক তাঁকে ফোন করে জানান যে, আগের ঘটনার মতো শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তিনি তৎক্ষণিকভাবে তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। বেলা একটায় ২২ শিক্ষার্থীকে অসুস্থ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজন ১৪ বছর বয়সী ছাত্রীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে জেলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা (স্যাকমো) বিমান চন্দ্র আচার্য বলেন, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উপসর্গ প্রায় একই রকম—মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব ও অচেতন হয়ে যাওয়া। প্রাথমিকভাবে তাঁরা এটিকে গণহিস্টিরিয়া বা গণমনস্তাত্ত্বিক অসুস্থতা বলে মনে করছেন। তবে জেলা সদরে পাঠানো ছাত্রীর পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে। জেলা সিভিল সার্জন ও জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, অসুস্থ ছাত্রীর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে এবং প্রাথমিকভাবে তাঁরও ধারণা, এটি গণহিস্টিরিয়া বা গণমনস্তাত্ত্বিক সমস্যা হতে পারে।
ইউএনও রাসেল ইকবাল জানান, জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বারবার শ্রেণিকক্ষে অসুস্থ হয়ে পড়ার কারণ অনুসন্ধানে আজ বিকেলে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। তিনি আরও বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আরও অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি চিঠি দেবেন।
"আগের ঘটনার মতো শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।" — উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল
📊 তথ্যের সারসংক্ষেপ
- 📍 স্থান: জোড়খালী উচ্চবিদ্যালয়, হাতিয়া উপজেলা, নোয়াখালী
- 👥 খবরের মুখ্য ব্যক্তি: উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসেল ইকবাল, উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা বিমান চন্দ্র আচার্য, জেলা সিভিল সার্জন মো. আনোয়ার হোসেন
- 🔢 গুরুত্বপূর্ণ সংখ্যা: ২২ শিক্ষার্থী অসুস্থ, ১৪ বছর বয়সী ছাত্রী জেলা হাসপাতালে, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, ৭ সেপ্টেম্বর পূর্ববর্তী ঘটনা
💬 মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!